পানিপথে বাংলাদেশ-ত্রিপুরা যোগাযোগ শিগগিরই

  মহিউদ্দিন মিশু, আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি ১৯ জুন ২০১৯, ২১:১৯ | অনলাইন সংস্করণ

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব
ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের গোমতী নদী ও বাংলাদেশের মেঘনা নদীকে সংযুক্ত করে বাংলাদেশের সঙ্গে ত্রিপুরার পানিপথে বাণিজ্য বা পণ্য স্থানান্তর শিগগির শুরু হবে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব।

দিল্লি সফর শেষে মঙ্গলবার রাজ্যে ফিরে স্থানীয় গণমাধ্যমকে তিনি এমনটাই জানিয়েছেন।

রাজ্যের গণমাধ্যমকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে ত্রিপুরার নৌ-পরিবহন সেবা শুরু করতে আগামী তিন মাসের মধ্যে প্রস্তাবিত প্রকল্পের কাজ শুরু করা হবে। নতুন এ পানিপথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্য ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বাড়বে। একই সঙ্গে যোগাযোগ ও চলাচলের পথ সুগম হবে। নৌপথসহ বিভিন্ন মাধ্যমে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সংযোগ বাড়ানোকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করছে ভারত। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দিল্লির ওই বৈঠকে রাজ্য উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন আলোচনায় বাংলাদেশের সঙ্গে ত্রিপুরা রাজ্যের সিপাহীজলা জেলার সোনামুড়া পর্যন্ত নৌ যোগাযোগ চালুর বিষয়ে গুরুত্বসহকারে অলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, নদীর পাড়ে স্থায়ী জেটি নির্মাণসহ অন্যান্য কাঠামো উন্নয়নে আড়াই থেকে তিন বছর সময় লাগে। যেহেতু উভয় দেশ নৌপথে যোগাযোগ বিষয়ে সম্মত হয়েছে, তাই আপাতত অস্থায়ী জেটি নির্মাণ করে আগামী তিন মাসের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে নৌপরিবহন সেবা শুরু করা হবে। পাশাপাশি স্থায়ী জেটি নির্মাণ কাজ চলবে।

বিপ্লব কুমার দেব বলেন, চলতি বছরের ১২ ও ১৩ মার্চ হাইড্রোগ্রাফিক অনুসন্ধান চালানো হয়। তার ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে জয়েন্ট টেকনিক্যাল কমিটির রিপোর্ট। টেকনিক্যাল কমিটির রিপোর্টে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত পানিপথ কর্মক্ষম করতে হলে ১৩ কিলোমিটারে ড্রেজিং করতে হবে। ১৫ কিলোমিটার এই পানিপথের মধ্যে এই ১৩ কিলোমিটার পড়েছে বাংলাদেশ অংশে। বাকি অংশ ভারতের ত্রিপুরা অভ্যন্তরে। এই পানিপথ কার্যকর হলে এর মধ্য দিয়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকৃতির নৌযান চলাচল করতে পারবে। তিনি বলেন, জলপথে এই পরিবহন সেবা চালু হলে বাংলাদেশ ও ত্রিপুরার জনগণ সড়ক পথের পাশাপাশি নৌপথেও গোমতী নদী দিয়ে যাতায়াত করতে পারবেন। সেই সঙ্গে চলবে পণ্য পরিবহন বাণিজ্য। এতে উভয় দেশের মানুষ আর্থিকভাবে লাভবান হবেন। পাশাপাশি দুই দেশের মানুষের মধ্যে আন্তরিকতার বন্ধনও আরো সুদৃঢ় হবে। বাড়বে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক।

উল্লেখ, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হলদিয়া নৌবন্দর থেকে বাংলাদেশের আশুগঞ্জ নৌবন্দরটি ব্যবহার করে ত্রিপুরার পালাটানা বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণের ১২০ চাকার ট্রেইলরে করে সড়কপথে আখাউড়া স্থলবন্দর সীমান্ত পথে ভারি ভারি সরঞ্জাম পরিবহন করেছে ভারত। পরবর্তীতে ওই পালাটানা থেকে উৎপাদিত বিদ্যুত উচ্চমূল্যে আসছে বাংলাদেশে।

এ ছাড়াও হলদিয়া নৌবন্দর থেকে জাহাজ ও স্টিমার করে ত্রিপুরাসহ পূর্বোত্তর ভারতের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী আশুগঞ্জ নৌবন্দর থেকে সড়কপথে আখাউড়া স্থলবন্দর সীমান্ত পথ ব্যবহার করে ত্রিপুরায় সরবরাহ করা হচ্ছে যুগ যুগ ধরে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×