ইফায় দ্বিতীয় দিনের কর্মবিরতি

পরিচালকদের বাগে আনতে নানা টোপ সামীম আফজালের

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৯ জুন ২০১৯, ২২:০৫ | অনলাইন সংস্করণ

ইফায় দ্বিতীয় দিনের কর্মবিরতি
ইফায় দ্বিতীয় দিনের কর্মবিরতি। ছবি: যুগান্তর

চার দিন ধরে ইসলামিক ফাউন্ডেশনে (ইফা) অচলাবস্থা চললেও পদত্যাগ করতে রাজি নন প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক (ডিজি) সামীম মোহাম্মদ আফজাল।

গত রোববার থেকে প্রতিষ্ঠানটিতে এক ধরনের অচলাবস্থা বিরাজ করছে।

ডিজি সামীম মোহাম্মদ আফজালের পদত্যাগের দাবিতে বুধবারও ইসলামিক ফাউন্ডেশন কার্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সারা দিন অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন।

সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ডিজির পদত্যাগের দাবিতে অবস্থান ধর্মঘট ও বিক্ষোভ মিছিল হয়।

সামীম আফজাল পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়া হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন ডিজির আস্থাভাজন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং তার আত্মীয়রাও।

আন্দোলনকারীদের পক্ষে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন ডিজির ভাতিজা প্রডাকশন ম্যানেজার শাহ আলম, পরিচালক জালাল আহমদ, এবিএম শফিকুল ইসলাম, নূর মোহাম্মদ আলম, ডা. এবিএম জাহাঙ্গীর, মুহাম্মদ রফিক উল ইসলাম, উপ-পরিচালক নূর মোহাম্মদ আলম, মুহাম্মদ রফিক উল ইসলাম, মজিব উল্লাহ ফরহাদ, মোহাম্মদ রেজাউল করিম, মোস্তাফিজুর রহমান, নূর উদ্দিন।

এছাড়া ডিজির পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত ‘ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্মচারী কল্যাণ সমিতি’ আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে এবং এর সভাপতি ফরিদ আহমেদ ডিজির পদত্যাগ দাবি করে বক্তব্য রাখেন।

এদিকে আন্দোলনকারী নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ পদের ‘টোপ’সহ কর্মসূচি বন্ধ করতে হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন সামীম মোহাম্মদ আফজাল।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইফার সিনিয়র পরিচালক মাহাবুব আলম যুগান্তরকে বলেন, বুধবারও দ্বিতীয় দিনের অবস্থান কর্মসূচি চলেছে। ডিজির অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

ইতিমধ্যে ডিজির বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী নেতাদের কাউকে কাউকে গুরুত্বপূর্ণ পদের ‘টোপ’ দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আবার আন্দোলনকারীদের পক্ষে অবস্থান নেয়ায় অনেককে হুমকি-ধমকি দেয়ার কথা শোনা যাচ্ছে।

তিনি বুধবার সকালে ইফার কার্যালয়ে পুলিশ পাঠিয়েছিলেন। একজন এসআই এসে ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বের করে দিতে চেয়েছিল।

তিনি বলেন, ডিজির অনুরোধে তার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাকে পাঠিয়েছে। পরে বিষয়টি ধর্ম মন্ত্রণালয়ে জানানো হলে পুলিশ চলে যায়।

বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেন ইফা সচিব কাজী নূরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, বুধবার সকালে ইফার কার্যালয়ে একজন এসআইসহ কয়েকজন পুলিশ এসেছিল। পরে মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপে তারা চলে যায়। ইফার অচলাবস্থা দূর করতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। আশা করছি, শিগগিরই এর একটি সুরাহা হবে।

এ প্রসঙ্গে আন্দোলনকারীদের নেতা ও ইফার পরিচালক মুহাম্মদ মুহীউদ্দিন মজুমদার যুগান্তরকে বলেন, ডিজির পক্ষ থেকে নানাভাবে আমাদের টোপ দেয়া হচ্ছে। আন্দোলন বন্ধ করে কোন পদ নেব তা জানতে চাওয়া হচ্ছে। ডিজির একজন বন্ধুর মাধ্যমে এসব প্রস্তাব দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নতুন যারা আন্দোলনকারীদের পক্ষে যোগ দিয়েছে তাদের দেখে নেয়ারও হুমকি দেয়া হচ্ছে।

এ আন্দোলন যাতে সারা দেশের ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অফিসগুলোতে ছড়িয়ে না পড়ে সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের নানা ধরণের টোপ দেয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, সামীম মোহাম্মদ আফজাল জুডিশিয়াল সার্ভিসে ১৯৮৩ সালে যোগদান করেন। ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ পান তিনি।

অভিযোগ রয়েছে নিয়োগ, পদোন্নতিসহ নানা বিষয়ে অনিয়ম করেছেন তিনি। গত ১০ জুন ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে ইফা ডিজিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় ধর্ম মন্ত্রণালয়। তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিলের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে কেন অবহিত করা হবে না তা ৭ কার্যদিবসের মধ্যে ধর্ম মন্ত্রণালয়কে লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদ মার্কেট বিভাগের পরিচালক মুহাম্মদ মহিউদ্দিন মজুমদারকে ইফা ডিজি সম্প্রতি সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেন। এ সংক্রান্ত আদেশ কেন্দ্র করে এই শোকজের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনার পর থেকেই ইসলামিক ফাউন্ডেশনে সৃষ্টি হয়েছে অচলাবস্থা। সাপ্তাহিক বন্ধের দিন গত শনিবারই পদত্যাগপত্র দিতে সামীম মোহাম্মদ আফজাল সংস্থাটির সচিব কাজী নূরুল ইসলামকে অফিসে ডেকে পাঠিয়েছিলেন। পদত্যাগপত্র টাইপও হয়েছিল। শুধু স্বাক্ষর করে জমা দেয়াই ছিল বাকি। তার আগে গুরুত্বপূর্ণ প্রায় অর্ধশত ফাইল গাড়িতে করে দফতর থেকে সরানোর চেষ্টা করেন ডিজির আস্থাভাজন একজন পরিচালক। ঘটনা টের পেয়ে এতে বাধা দেন ইফার সচিব কাজী নূরুল ইসলাম।

সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তিনি ফাইলগুলো জব্দ করে নিজ জিম্মায় নেন। এ ঘটনায় পদত্যাগের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে বেঁকে বসেন ডিজি সামীম আফজাল।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×