চাপা কষ্ট প্রকাশ করতে না পারার যন্ত্রণা কুঁড়ে খাচ্ছে সৌরভকে

  যুগান্তর রিপোর্ট ২০ জুন ২০১৯, ১৭:১৪ | অনলাইন সংস্করণ

চাপা কষ্ট প্রকাশ করতে না পারার যন্ত্রণা কুঁড়ে খাচ্ছে সৌরভকে

সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজের ভাগ্নে ইফতেখার আলম সৌরভের বুকে কষ্ট চেপে রাখার যন্ত্রণা।অপহরণের পর থেকে ১১ দিন ধরে অবর্ণনীয় যন্ত্রণা ভোগ করার প্রতিচ্ছবি তার চোখেমুখে ফুটে উঠেছে। এতদিন কোথায় ছিলেন, কেমন ছিলেন, নির্যাতন করা হয়েছে কিনা এসব বিষয়ে কিছুই বলতে চাইছেন না সৌরভ।

সৌরভের মামা তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ ফেসবুক লাইভে এসে জানিয়েছেন, ইফতেখার আলম সৌরভ আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। উদ্ধার হওয়ার সময় তার চোখ বাঁধা ছিল। গায়ে কোনো কাপড় ছিল না, শুধু পায়জামা পরা ছিল। সে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় ছিল।

১১ দিন নিখোঁজ থাকার পর আজ বৃহস্পতিবার ভোরে ময়মনসিংহ থেকে উদ্ধার করা হয় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজের ভাগ্নে সৌরভকে। বৃহস্পতিবার ১১টার দিকে ফেসবুক লাইভে এবং নিজের বাসায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় সোহেল তাজ বলেন, দেশের আর কোনো মানুষ এ পরিস্থিতির শিকার হোক তা আমরা চাই না। এ বিভীষিকাময় পরিস্থিতিতে দেশবাসী সৌরভের পরিবারের পাশে থাকায় তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সোহেল তাজ বলেন, ‘সৌরভকে যখন পাওয়া যায়, তখন তার হাত-পা বাঁধা ছিল। গায়ে কোনো জামা ছিল না, শুধু পায়জামা পরা ছিল। তার চোখ বাঁধা ছিল। ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার তাকে বাসায় নিয়ে গোসলের ব্যবস্থা করেন এবং কিছু খাবার দেন। উদ্ধারের পর সৌরভ বুঝেই উঠতে পারেনি সে কোথায় আছে।’

আতঙ্কগ্রস্ত সৌরভকে এতদিন কোথায় আটকে রাখা হয়েছিল সে বিষয়ে সে মুখ খুলতে চাইছে না। সোহেল তাজ বলেন, ‘সে মানসিকভাবে একেবারেই বিপর্যস্ত। এখন তাকে চাপমুক্ত রাখতে চাই। আমরা তাকে একটু স্বস্তিতে রাখতে চাই। সৌরভ আভাস-ইঙ্গিতে কিছুটা জানিয়েছে, সে কী পরিস্থিতিতে ছিল। তবে এখন তার ওপর কোনো চাপ দেয়া যাবে না।’

এদিকে এতদিন জীবনশঙ্কায় থাকা সৌরভ ঘরে ফিরে এলেও তার চোখে মুখে অজানা ভয়-উৎকণ্ঠার ছাপ। বৃহস্পতিবার সকালে বনানীর বাসায় ফিরে মাকে জড়িয়ে ধরেন সৌরভ। মায়ের কাধে মুখ চেপে ফুঁপিয়ে কাঁদতে থাকেন। মাও ছেলেকে ধরে অঝোরে চোখের পানি ফেলতে থাকেন।বুকের ভেতরে চাপা দেয়া কষ্টগুলো বলতে না পারার বেদনা যেন ছুঁয়ে যাচ্ছিল সৌরভকে।

বুধবার বেলা ১১টা ৩৩ মিনিটে পুলিশের প্রিজন ভ্যান সৌরভের বাসার সামনে পৌঁছামাত্র প্রবেশ গেট খুলে দেয়া হয়। প্রিজন ভ্যানের পিছনেই একটি মাইক্রোবাস এসে থামলে সোহেল তাজ সেটি ভেতরে ঢুকিয়ে দিতে বলেন।১১টা ৩৪ মিনিটে মাইক্রোবাসের গেট খুলে একজন পুলিশ সদস্য নেমে দাঁড়ালে তার পিছন থেকে সৌরভ নেমেই দু কদম হেঁটে মাকে জড়িয়ে ধরেন। মায়ের কাধে মুখ লুকিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে ওঠেন।যেন ভয়ডরহীন কান্নার স্বাধীনতাও নেই সৌরভের। এসময় মাও সৌরভকে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

মিনিট খানেক পর বাবা ও মামা সোহেল তাজকে বুকে জড়িয়ে ধরেন সৌরভ। এ সময় গণমাধ্যম কর্মীরা তার সঙ্গে কথা বলতে চাইলে সৌরভকে নিয়ে তার বাবা, মা ও সোহেল তাজ লিফটের দিকে এগিয়ে যান। লিফটে উঠে সোহেল তাজ শরীর কেমন জিজ্ঞাসা করলে সৌরভ উত্তরে ভালো আছি জানায়।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার ভোরে ময়মনসিংহ থেকে সৌরভকে উদ্ধার করা হয়। তিনি সোহেল তাজের মামাতো বোনের ছেলে।

বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ৯টায় জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেন জানান, ভোরে তারাকান্দা উপজেলার বটতলা নামকস্থানে জামিল অটো রাইস মিলের সামনে থেকে সৌরভকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি বলেন, কে বা কারা ভোরে চট্টগ্রামে নিখোঁজ সৈয়দ ইফতেখার আলম ওরফে সৌরভকে তারাকান্দা উপজেলার বটতলা মধুপুর এলাকার জামিল অটো রাইস মিলের সামনের রাস্তায় রেখে যায়।

এর পর সৌরভ ওই মিলে গিয়ে নিজের পরিচয় দিলে মিলের ম্যানেজার সমীর সৌরভের পরিবারকে খবর দেন। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা হয়।

পুলিশ সুপার বলেন, ভোর ৫টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রাম এন্টি-টেররিজম ইউনিটের ডিসি আমাকে (ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার) ফোন করে জানান- তারাকান্দা উপজেলার বটতলা মধুপুর এলাকার জামিল অটো রাইস মিলের সামনে সৌরভকে পাওয়া গেছে।

খবর পেয়ে তারাকান্দা থানার পুলিশসহ তিনি নিজে গিয়ে সৌরভকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহে নিয়ে আসেন। পরে তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তাদের চাহিদা অনুযায়ী পুলিশ পাহারায় তাকে বনানীতে পরিবারের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।

তাকে নির্যাতন করা হয়েছে কিনা, এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পুলিশ সুপার জানান, এ ব্যাপারে সৌরভ কিছুই বলেনি, বলেছে পরে কথা বলবে। ১১ দিন কোথায় ছিল, কীভাবে ছিল- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কিছুই বলতে পারেনি। তবে তাকে আটকে রাখা হয়েছিল এটুকুই বলেছে বলে জানান তিনি।

গত ৯ জুন চট্টগ্রামের মিমি সুপার মার্কেটের আগোরার সামনে থেকে সৌরভ অপহৃত হন।

গত শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেয়া এক পোস্টে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজ এমনই অভিযোগ করেন।

একই অভিযোগ করে ভাগ্নেকে অক্ষত ও জীবিত অবস্থায় ফেরত চেয়ে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটে এক সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। এ সময় তার নিখোঁজ ভাগ্নের মা সৈয়দা ইয়াসমিন আরজুমান উপস্থিত ছিলেন।

সৌরভ ঢাকার ইন্ডিপেন্ডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্র্যাজুয়েশন করে একটি বেসরকারি সংস্থার পক্ষে ডকুমেন্টরি তৈরির কাজ করতেন। সৌরভ সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজের মামাতো বোন সৈয়দা ইয়াসমিন আরজুমানের ছেলে।

ঘটনাপ্রবাহ : সোহেল তাজের ভাগ্নে অপহরণ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×