আমদানিকৃত স্বর্ণ খোলাবাজারে বিক্রি করা যাবে না: এনবিআর চেয়ারম্যান

প্রকাশ : ২৩ জুন ২০১৯, ১৮:০৭ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

ফাইল ছবি

রফতানির উদ্দেশে স্বর্ণ আমদানিকারকদের বন্ড সুবিধা দেয়া হবে। এ সুবিধা নিয়ে আমদানিকৃত স্বর্ণ স্থানীয় খোলাবাজারে বিক্রি করা যাবে না।

স্বর্ণ মেলা উদ্বোধনকালে এ তথ্য জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া।

রোববার রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে তিন দিনব্যাপী এ মেলা শুরু হয়েছে।
 
এনবিআর চেয়ারম্যান আরও বলেন, স্থানীয় বাজারে বিক্রির উদ্দেশে বিদেশ থেকে কোনো স্বর্ণালংকার আমদানি করা যাবে না। তবে সাধারণ মানুষ বিদেশ থেকে সর্বোচ্চ ১০০ গ্রাম স্বর্ণ আমদানি করতে পারবেন। এর চেয়ে বেশি আনলে তা বাজেয়াপ্ত করা হবে।

স্বর্ণ ব্যবসার লাইসেন্স প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ব্যবসার লাইসেন্স নিতে ফি দিতে হবে ৫ লাখ টাকা। আর এ লাইসেন্স তিনবছর পরপর নবায়ন করতে হবে। এর জন্য নবায়ন ফি দিতে হবে ১ লাখ টাকা। এটি বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে।

স্বর্ণ চোরাচালান প্রসঙ্গে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, মধ্যবিত্ত ব্যবসায়ীরা স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত নন। এ অবৈধ ব্যবসার একটি বিশেষ গোষ্ঠী রয়েছে। যারা এখন আর সুবিধা করতে পারবেন না।

এনবিআর সদস্য কানন কুমার রায়ের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন- বাজুসের সভাপতি গঙ্গা চরন মালাকার, সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার আগরওয়ালা প্রমুখ।

অপ্রদর্শিত স্বর্ণকে কর দিয়ে বৈধ করার লক্ষ্যে মেলা যৌথভাবে আয়োজন করেছে এনবিআর ও বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস)। এ মেলা চলবে ২৫ জুন মঙ্গলবার পর্যন্ত।  প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত উম্মুক্ত থাকবে। মেলায় প্রতি ভরি ডায়মন্ড ৬ হাজার টাকা, স্বর্ণ এক হাজার টাকা ও রুপার জন্য ৫০ টাকা কর প্রদান করে অবৈধ স্বর্ণ এবং রুপা বৈধ করার সুযোগ রয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ মে এনবিআরের জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, কোনো স্বর্ণ ব্যবসায়ী বা স্বর্ণালংকার প্রস্তুতকারী অঘোষিত মজুদ করা এবং নীতিমালার আওতায় ঘোষিত স্বর্ণ, স্বর্ণালংকার, কাট ও পোলিশড ডায়মন্ড এবং রুপার ওপর আয়কর কমিয়ে প্রতি ভরি স্বর্ণ ও স্বর্ণালংকারের জন্য ১ হাজার টাকা, প্রতি ক্যারেট কাট ও পোলিশড ডায়মন্ডের জন্য ৬ হাজার টাকা এবং প্রতি ভরি রুপার জন্য ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ডিলার স্বর্ণব্যবসায়ী বা স্বর্ণালংকার প্রস্তুতকারীকে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে অঘোষিত মজুদ করা স্বর্ণ ও স্বর্ণালংকার, কাট ও পোলিশড ডায়মন্ড এবং রুপা সম্পর্কে ঘোষণা দিয়ে কর পরিশোধ করতে হবে। এ প্রজ্ঞাপনের মেয়াদ আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

এনবিআর সদস্য (আয়কর) কানন কুমার রায় বলেন, এসআরও ৩০ জুন পর্যন্ত মেয়াদ। পরবর্তী সময়ে এ ধরনের এসআরও হবে কিনা- তা আমি জানি না। তাই এ সময় অপ্রদর্শিত স্বর্ণ ঘোষণা দিয়ে বৈধ করবেন। আর এ সুযোগ নিয়ে যারা স্বর্ণ বৈধ করবেন না তাদের জন্য ভালো কোনো বার্তা আমরা দিতে পারব না।