‘ডিসি সম্মেলনে জেলা প্রশাসকদের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে’

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৯ জুলাই ২০১৯, ২৩:৪৩ | অনলাইন সংস্করণ

দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ
দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। ফাইল ছবি

ডিসি সম্মেলনে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ দুর্নীতি প্রতিরোধে জেলা প্রশাসকদের সহযোগিতা চেয়েছেন বলে জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

শুক্রবার দুদকের জনসংযোগ বিভাগের উপপরিচালক প্রণব কুমার ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।

এতে বলা হয়, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানকে উদ্ধৃত করে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ‘দুদকের কার্যক্রমের দায়িত্ব ডিসিদের দেয়ায় টিআইবির উদ্বেগ’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি কমিশনের দৃষ্টিগোচর হয়েছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইফতেখারুজ্জামান বিবৃতিতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের কথা উল্লেখ করলেও সুনির্দিষ্ট কোনো গণমাধ্যমের নাম উল্লেখ করেননি।

প্রকৃতপক্ষে, ডিসি সম্মেলনে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ দুর্নীতি প্রতিরোধে জেলা প্রশাসকদের সহযোগিতা চেয়েছেন। তিনি সুনির্দিষ্টভাবে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কমিশন কর্তৃক গঠিত সততা সংঘ, গণশুনানিসহ অন্যান্য প্রতিরোধমূলক কার্যে জেলা প্রশাসকদের সার্বিক সহযোগিতা চেয়েছেন।

এ বিষয়ে কমিশনের বক্তব্য গতকালই (বৃহস্পতিবার) বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়েছে।

তারপরও টিআইবির এ জাতীয় বিবৃতি দেওয়ার আগে সত্যতা যাচাই করা সমীচীন বলেও উল্লেখ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, প্রতিরোধমূলক বিভিন্ন কাজে কমিশন টিআইবিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যেমন, বিএনসিসি এবং রোভার স্কাউটসের সহযোগিতাও গ্রহণ করছে। এমনকি এ বিষয়ে টিআইবির সঙ্গে কমিশনের সমঝোতা স্মারকও স্বাক্ষরিত হয়েছে।

শুধু জেলা প্রশাসক নয় কশিনের দুর্নীতি প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণমূলক কার্যে জেলা পর্যায়ের অন্যান্য দফতর থেকেও সহযোগিতা নেয়া হয়ে থাকে।

বৃহস্পতিবার দুদকের দেয়া প্রেস বিজ্ঞপ্তি সংযুক্ত করা হলো:

জেলা প্রশাসক সম্মেলন-২০১৯ এর পঞ্চম দিবসে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসকদের সহযোগিতা চাইলেন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ সম্মেলনে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, বিগত সাড়ে তিন বছরে সমাজের এমন কোনো স্তর নেই যাদের কাউকে না কাউকে আইনি আমলে আনা হয়নি। কমিশনের এই অভিযান ছিল মূলত সমাজে একটি বার্তা পৌঁছে দেওয়া। যাতে সবাই অনুভব করেন আমরা কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নই।

তিনি বলেন, দুদকের সঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। যে কারণে কমিশনের সব প্রকার সংস্কারমূলক কার্যক্রম মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সরকারের গোচরীভূত করছে। দুর্নীতিবিরোধী রাজনৈতিক সদিচ্ছার কারণেই সরকারও এসব বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ নিচ্ছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাকে সততা, নৈতিকতা ও মূল্যবোধ বিকাশের উত্তম সময় উল্লেখ করে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, তাই কমিশন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেছে।

তিনি বলেন, দুর্নীতি, অনিয়ম, অনৈতিকতা নির্মূল করতে হলে শিক্ষার ক্ষেত্রে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজন যাতে নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন একটি জাতি গঠন করা যায়।

শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকদের উপস্থিতি ও পাঠদানের বিষয়ে জেলা প্রশাসকদের নজর দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষা নিশ্চিত করা গেলে নৈতিকমূল্যবোধ সম্পন্ন একটি জাতি বিনির্মাণে সফল হওয়া যাবে। আর কেবল তখনই জনসংখ্যার যে ডিভিডেন্ড সেটা পেতে পারে বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, কমিশন ক্ষুদ্র পরিসরে নৈতিকমূল্যবোধ সম্পন্ন একটি প্রজন্ম সৃষ্টির লক্ষে এবং উত্তম চর্চার বিকাশে দেশের প্রায় ২৮ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সততা সংঘ গঠন করেছে।

এসব সততা সংঘের কার্যক্রমে প্রশাসকদের সহায়তা চেয়ে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, এগুলো অধিকতর কার্যকর করার জন্য আপনাদের সহযোগিতার প্রয়োজন।

তিনি বলেন, গণশুনানির মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে সরকারি কর্মকর্তাদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য যেসব কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে সেখানে জেলা প্রশাসকদের ভূমিকা প্রশংসনীয়।

তিনি দুর্নীতি প্রতিরোধে তাদের আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানান।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×