ভবন নির্মাণে অনিয়ম

ব্যবসায়ী নূর আলীকে দুদকে তলব

  যুগান্তর রিপোর্ট ২২ জুলাই ২০১৯, ১৮:২৫ | অনলাইন সংস্করণ

নূর আলী
ডিসিসির বনানী মার্কেটের আলোচিত সেই ৩০ তলা ভবন। ছবি: যুগান্তর

ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগে ইউনিক গ্রুপের চেয়ারম্যান (বোরাক কনস্ট্রাকশন) নূর আলীকে তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আগামী ৩১ জুলাই তাকে দুদক কার্যালয়ে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সোমবার দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে সংস্থাটির উপপরিচালক এস এম আখতার হামিদ ভূঞা তাকে তলব করে চিঠি পাঠান।

তলবি নোটিশে তাকে আগামী ৩১ জুলাই সকাল ১০টায় হাজির হতে বলা হয়েছে। মোহাম্মদ নূর আলী বোরাক রিয়েল এস্টেট প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে রয়েছেন।

দুদক সূত্র জানায়, ১৪ তলার অনুমতি নিয়ে ডিসিসির বনানী মার্কেটে ৩০ তলা ভবন নির্মাণের অভিযোগে আলোচিত ব্যবসায়ী মোহাম্মদ নূর আলীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে।

দুদক সূত্র জানায়, রাজধানীর বনানীর মূল সড়ক সংলগ্ন কামাল আতাতুর্ক এভিনিউয়ে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের ৬০ কাঠা জমির মধ্যে ৪৪ কাঠা জমির ওপর ১৪ তলা ভবন করার জন্য নূর আলীর বোরাক রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের সঙ্গে সিটি কর্পোরেশনের চুক্তি হয়।

ওই জমিতে তিনতলা মার্কেট ছিল। পরে তা ভেঙে ১৪ তলা করার কথা। কিন্তু নূর আলীর প্রতিষ্ঠান চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে ৩০ তলা ভবন তৈরি করে। ৪৪ কাঠা জমির ওপর অতিরিক্ত ১৬ তলা ভবন অবৈধভাবে তৈরি করে নূর আলী কি পরিমাণ অর্থ কামিয়েছেন অনুসন্ধানে সে বিষয়টির ওপরও জোর দেয়া হচ্ছে।

সূত্র জানায়, এ ধরনের বহুতল ভবন তৈরির জন্য বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (সিভিল এভিয়েশন) অনাপত্তিপত্র নিতে হয়। কিন্তু বোরাক রিয়েল স্টেট সেটিও নেয়নি। এসব নিশ্চিত করার দায়-দায়িত্ব নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর বর্তায় বলে পরিবেশ অধিদফতর থেকে আগেই বলা হয়েছিল।

সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, ওই মার্কেটের মোট জমির পরিমাণ ৬০ কাঠা। তবে চুক্তি হয়েছিল ৪৪ কাঠার ওপর ১৪ তলা ভবন তৈরির। সেই চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে একদিকে অবৈধভাবে ৩০ তলা নির্মাণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে মার্কেট সংলগ্ন আরও ১৬ কাঠা জমি নূর আলীর প্রতিষ্ঠান দখল করে সেখানেও বহুতল ভবন তৈরি করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই জমির বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় শত কোটি টাকা।

দুদক সূত্র জানায়, নূর আলীর বিরুদ্ধে চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে অবৈধভাবে ৩০ তলা ভবন নির্মাণ ও ১৬ কাঠা জমি দখল করে পৃথকভাবে ভবন নির্মাণ সংক্রান্ত একটি অভিযোগের প্রাথমিক অনুসন্ধান করা হয়। অনুসন্ধানে প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে বলেও সূত্রটি নিশ্চিত করে।

তবে প্রথম পর্যায়ে ১৪ তলার স্থলে ৩০ তলা ভবন অবৈধভাবে নির্মাণ সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নূর আলীকে তলব করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। মার্কেট সংলগ্ন ১৬ কাঠা জমি অবৈধভাবে দখল করে তিনি ভবন তৈরি করেছেন কিনা সে বিষয়টিও জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় থাকবে।

নূর আলী দুদকে হাজির হওয়ার সময় সঙ্গে করে কোনো কাগজপত্র তাকে আনতে বলা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে দুদকের একজন কর্মকর্তা জানান, এ নিয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষ করার পর তার দেয়া তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের জন্য পরবর্তীকালে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিতে হবে।

একই সঙ্গে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ, রাজউক, ওয়াসা ও পরিবেশ অধিদফতরের কাছেও অভিযোগ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্র চাওয়া হবে। নূর আলীর বিরুদ্ধে উত্থাপিত এই অভিযোগের সঙ্গে ডিসিসি বা রাজউকসহ অপর কোনো সংস্থার কর্মকর্তাদের গাফিলতি বা যোগসাজশ আছে কিনা সেটিও খতিয়ে দেখছে দুদক। অনুসন্ধানে তাদের কারও বিরুদ্ধে সম্পৃক্ততা পেলে তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এমনটিই জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, রাজধানীর অভিজাত এলাকা বনানীর মূল সড়ক সংলগ্ন ৪৫ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউয়ে তিন বিঘা জমির ওপর ওই ভবনটি নির্মিত হয়। ভবন তৈরির জন্য ২০০৬ সালের ৭ মে করা চুক্তি হয় দু’পক্ষের মধ্যে। চুক্তি অনুযায়ী, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন পাবে ভবনের মাত্র ৩০ শতাংশ এবং নির্মাতা প্রতিষ্ঠান পাবে ৭০ শতাংশ।

জানা যায়, বনানী সুপার মার্কেট কাম হাউজিং কমপ্লেক্স নামে প্রথমে ১৩ তলা ভবন নির্মাণের জন্য অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে বোরাক রিয়েল এস্টেটের চুক্তি হলেও পরে ২০১০ সালের ৪ নভেম্বর সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে বোরাক ১৪ তলা নির্মাণের জন্য সংশোধিত চুক্তি করে। স্থানীয় সরকার, পল­ী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় ভবনটি ১৪ তলা করার প্রস্তাবে অনুমোদন দেয়।

সূত্র জানায়, সিটি কর্পোরেশনের ৬০ কাঠা (তিন বিঘা) জমির মধ্যে ৪৪ কাঠা জমির ওপর আগে থেকেই একটি বিপণিবিতান (মার্কেট) ছিল। সেখানে ১৪ তলা ভবন করার জন্য সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে বোরাকের চুক্তি হয়। পরে বোরাক রিয়েল এস্টেট ভবনটি ৩০ তলা করতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব দেয়।

কিন্তু মন্ত্রণালয় ওই প্রস্তাব অনুমোদন করেনি। ২০১১ সালের ১৭ জানুয়ারি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও সিটি কর্পোরেশন ভবনটিতে ১৪ তলার ওপর কোনো বর্ধিত তলা নির্মাণ না করার জন্য বোরাককে চিঠি দেয়।

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন আগস্ট আরেকটি চিঠি দেয় এবং ১৪ তলার ওপর নির্মাণ কাজ না করার জন্য রিয়েল এস্টেটকে নির্দেশ দেয়। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নির্মাণ কাজ করে প্রতিষ্ঠানটি।

সূত্র জানায়, দুদকের একটি অনুসন্ধান টিম এ সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করেছে। পরিবেশ অধিদফতরের পক্ষ থেকে দফায় দফায় বোরাক রিয়েল এস্টেটকে সতর্ক ও জরিমানা করা এবং ৩০ তলা ভবন তৈরি করতে নিষেধ করা সত্ত্বেও কিভাবে ভবনটি উঠল সেটি এখন অনুসন্ধানের মুখ্য বিষয়। এতে মন্ত্রণালয়ের কোনো কর্মকর্তার হাত আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×