রাজনৈতিক প্রভাবে নদী দখলকারী পার পাবে না: প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০১৯, ১৭:০৪ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। ছবি: যুগান্তর

রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে নদী দখলকারী পার পাবে না বলে মন্তব্য করেছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। 

বৃহস্পতিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বছিলায় পুনরুদ্ধারকৃত তুরাগ চ্যানেল উদ্বোধনকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এবং প্রভাব বিস্তার করে নদী দখল করা যাবে না তা আমরা অভিযানের মাধ্যমে প্রমাণ করতে পেরেছি। অবৈধ নদী দখল, ভূমি দখলসহ সব ধরনের দুর্নীতি এবং অপকর্মের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকার জিরো টলারেন্স গ্রহণ করেছে। 

তিনি বলেন, ইতিমধ্যে আমরা যে আবাসন উচ্ছেদ করে দিয়ে নদীর ধারা তৈরি করেছি এবং এর বাইরে যে সব আবাসন এখন পর্যন্ত আছে পরবর্তীকালে সেগুলো আমরা নদীর সঙ্গে যুক্ত করে দেব। এটা আমাদের প্রত্যাশা, আমরা এটা করব। 

তিনি আরও বলেন, শুধু ঢাকার চারপাশের চারটি নদী নয়, আমরা সমগ্র বাংলাদেশের নদীর নাব্যতা, দখল এবং দূষণ নিয়ে কাজ করছি। প্রধানমন্ত্রীর যে বদ্বীপ পরিকল্পনা আছে সেই বদ্বীপ পরিকল্পনার অন্যতম একটি অংশ হচ্ছে দেশের নদীগুলো উদ্ধার করা।

অনুষ্ঠানে সচিব আবদুস সামাদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী নদীর অবৈধ দখল রোধ এবং নদীর গতিপথ ফিরিয়ে দিয়ে তাকে পুনরায় সচল করা, নাব্যতা বৃদ্ধি এবং নৌপথে নাব্যতা সৃষ্টি করতে যত প্রকার বাধা আছে আমরা তা সম্প্রসারণে কাজ করছি। 


বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক একেএম আরিফ উদ্দিন বলেন, আমিন মোমিন হাউজিংটি আমাদের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ ছিল। এটিকে নদী বানিয়ে দেয়া, পানির প্রবাহ ফিরিয়ে আনা চ্যালেঞ্জ ছিল। অনেক ষড়যন্ত্র ছিল, তবুও আমরা সফল হয়েছি।

নদী দখল করে অবৈধভাবে গড়ে তোলা হাউজিং টিম উচ্ছেদ এবং সেখানে ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালনায় বিআইডব্লিউটিএর যে খরচ হয়েছে তা কিভাবে আদায় করা হবে এমন প্রশ্নের জবাবে বিআইডব্লিউটিএর এই যুগ্ম পরিচালক বলেন, আমরা ড্রেজিং বিভাগকে চিঠি পাঠিয়েছি।

সেখানে তাদের খরচের বিবরণী আমরা চেয়েছি। ড্রেজিংয়ের ব্যবহৃত মেশিনের খরচ, তেলের খরচ, কর্মঘঘণ্টাসহ সকল সমন্বয় করে আমরা সেটি আদায়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমরা এ বিষয়ে আইনজীবী নিয়োগ দিয়েছি।

প্রসঙ্গত,  দখল আর দূষণে হাত থেকে রক্ষা করতে ঢাকার তীরবর্তী সকল নদীর ধারে অভিযানের সক্রিয় হয়েছে বাংলাদেশ অভ্যান্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ ( বিআইডব্লিউটিএ)।

চলমান এ অভিযানের অংশ হিসেবেই মোহাম্মদপুরের বসিলা সংলগ্ন আমিন মমিন হাউজিংসহ আশেপাশের এলাকায় তুরাগ চ্যানেলের প্রায় ৬০ বিঘা জমি উদ্ধার করে খনন করে তা নৌযান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে।