সততা-নিষ্ঠায় অবিচল ব্যতিক্রমী ব্যক্তিত্ব বেবী মওদুদ

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৬ জুলাই ২০১৯, ২১:২৬ | অনলাইন সংস্করণ

সাইফুল আলম
বেবী মওদুদের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে স্মরণ সভায় অতিথিবৃন্দ। ছবি: যুগান্তর

প্রয়াত লেখক,সাংবাদিক ও অধিকার কর্মী বেবী মওদুদ (এ এন মাহফুজা খাতুন)ছিলেন সমাজের আর্দশ মানুষের প্রতীক।সততা,নিষ্ঠায় অবিচল এ মানুষটিকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে তার অনুজ অনুসারীরা।

ব্যতিক্রমী ব্যক্তিত্ব বেবী মওদুদের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে শুভানুধ্যায়ীদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় তার স্মৃতিচারণ করেন প্রিয়জনরা।

বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খানের সভাপতিত্বে স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন,১৯৬৭ সালে তাকে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হিসেবে পেলাম।সে ছাত্র ইউনিয়নের রোকেয়া হল সংসদে নির্বাচিত হয়।ওই সময় আমি লক্ষ্য করেছি, ছাত্র ইউনিয়নের একনিষ্ঠ কর্মী থাকলেও অন্যদের সঙ্গে সৌহার্দ্ ছিল তার।

শামসুজ্জামান খান বলেন,বেবী মুওদুদ আমার ছোট বোনের মতো ছিল।তার বিষয়ে দুটি দিক নিয়ে বলতে চাই।কখনও তাকে নীতির প্রশ্নে একটু বাঁকা করা যায়নি,তিনি এমপি হওয়ার জন্য রাজি হচ্ছিলেন না।তাকে ধরে রাজি করাতে হয়েছে।সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে তার সততা,নিষ্ঠা অনুস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

সাহিত্য প্রতিভাও সামান্য নয়,তার বইয়ের সংখ্যাও কম নয়।সে নিয়মিত ক্লাস করেছে,ছাত্রী হিসেবে কর্তব্য পালন করেছে।প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গভীর বন্ধুত্ব হওয়া সত্ত্বেও কোনো সুযোগ নেয়নি এবং তাকে দিয়ে কেউ তদবিরও করাতে পারেনি।বেবীর কর্মপরিধি ছিল ব্যাপক।

প্রেস ক্লাব ছিল তার নিজের বাড়ির মতো।সাংবাদিক হিসেবে সে সততা বজায় রেখেছে।বেবী নানা গুণে গুণান্বিত মানুষ।বেবী মানুষকে সেবা করতে ভালোবাসতো।দেশের জন্য গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যুক্ত থেকে নিজেকে ধন্য মনে করতো।

বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সদস্য সচিব শেখ হাফিজুর রহমান বলেন,তাকে আমি বেবী ফুপু বলতাম। প্রধানমন্ত্রী তাকে সংসদ সদস্য হিসেবে মনোনিত করতে গেলেন,তিনি কিছুতেই রাজি হচ্ছিলেন না।

তিনি বলতেন,পরিচয়ের দরকার নেই।কোন স্বার্থচিন্তা করে তিনি কোনো কাজ করেননি।তার কথা ৫ ঘণ্টা বললেও তার স্মৃতি শেষ হবে না।তার সঙ্গে আমাদের যে স্মৃতি তা লেখালেখি ও গবেষণার। অনেকের উপকার করেছেন নীরবে।তার স্মৃতি আমাদের কাছে চিরকাল অমর হয়ে থাকুক।

যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও জাতীয় প্রেস ক্লাব সভাপতি সাইফুল আলম বলেন,বেবী আপা একজন সাচ্চা মানুষ ছিলেন।বেবী আপা অনেকের সঙ্গে চলতেন কিন্তু সবাই কি বেবী আপার সঙ্গে ছিল? বেবী আপা যাদের ভালোবেসেছেন তাদের কাছে বেশি আঘাত পেয়েছেন।এই দুঃখবোধ আমারও আছে,বেবী আপা চলে গেছেন এটা তারও ছিল।বেবী আপা কারও ক্ষতি করেছে কেউ বলতে পারবে না।বেবী আপা মানুষকে এগিয়ে দিতে সাহস ও অনুপ্রেরণা যোগিয়েছেন।আমরা অনেকে ভালোবাসতে জানি না বলে বেবী আপাকে বুঝিনি।তার সঙ্গে স্মৃতি অনেক লম্বা।তিনি একজন আপাদমস্তক ভালো মানুষ ছিলেন।

আওয়ামী লীগের উপ-দফত্র সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া বলেন,বেবী আপা অনেকের জন্য অনেক কিছু করেছেন,তবে প্রকাশ করতেন না।আমার এ চলার পথে বেবী আপার অনুপ্রেরণা রয়েছে।

সাবেক সংসদ সদস্য কবি কাজী রোজী বলেন,সে চার বছর অসুস্থ ছিল।আমার খুব খারাপ লাগতো, বলতাম নিজের শক্তি নিজের আনতে হবে।সে বলতো,এত শক্তি কোথায় পাস।আমিও ২৬ বছর ধরে ক্যান্সার নিয়ে আছি।বেবী কাউকে কিছু বলতো না।কাউকে অসুখের কথা জানায়নি।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী বলেন, তার মধ্যে সন্তান বাৎসল্য লক্ষ্য করতাম। বেবী মুওদুদ সুযোগ পাওয়ার পরও সৎ ছিলেন। তিনি ছিলেন অনন্য এক উদাহরণ। তার সুযোগকে তিনি কখনও ব্যবহার করেননি।

ড. মাখদুমা নার্গিস রত্না বলেন, সুযোগ সুবিধা পাওয়া সত্বেও তিনি সুযোগ নেননি। অনেকে তার ভাল মানুষীর সুযোগও নিয়েছে। প্রতিষ্ঠিত হয়ে তাকে ভুলেও গেছে অনেকে।

বক্তব্য রাখেন চিত্রসাংবাদিক পাভেল রহমান, বেবী মওদুদের অনুজ আজিমুল হক রায়হান ও ছেলে রবিউল হাসান অভি। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলা একাডেমির উপ-পরিচালক ড. মো. শাহাদাৎ হোসেন (নিপু)।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×