কাঁচা চামড়া রফতানির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার দাবি ট্যানারি মালিকদের

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৪ আগস্ট ২০১৯, ১২:২৩ | অনলাইন সংস্করণ

কাঁচা চামড়া রফতানির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার দাবি ট্যানারি মালিকদের
সংবাদ সম্মেলনে বিটিএ নেতারা। ছবি: সংগৃহীত

দেশীয় শিল্প রক্ষায় কাঁচা চামড়া রফতানির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন ট্যানারি মালিকরা। তারা বলেছেন, কাঁচা চামড়া বিদেশে রফতানি হলে দেশীয় শিল্প ধ্বংসের মুখে পড়বে।

বুধবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে এক বৈঠক শেষে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান ট্যানারি মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএ)। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত উল্লাহ, সিনিয়র সহ-সভাপতি ইলিয়াছুর রহমান বাবু, কোষাধ্যক্ষ মিজানুর রহমান ও ট্যানারি ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সভাপতি আবুল কালাম প্রমুখ।

এর আগে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাঁচা চামড়া রফতানির সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

সংবাদ সম্মেলনে বিটিএ নেতারা বলেন, ২০ আগস্ট থেকে নিজস্ব প্রতিনিধির মাধ্যমে নির্ধারিত দরে লবনযুক্ত চামড়া সংরক্ষণ করা হবে। কাঁচা চামড়া রফতানির সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত দেশীয় শিল্পের ক্ষতি বয়ে আনবে।

সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের সভাপতি মো. শাহিন আহমেদ। তিনি বলেন, আমরা ২০ আগস্ট থেকে চামড়া সংগ্রহ শুরু করবো। সেই সময় চামড়ার বাজার স্থিতিশীল থাকবে। আশা করছি এই সময়ের মধ্যে সরকার তার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবে।

এর আগে মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ বকসী জানান, উপযুক্ত মূল্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাঁচা চামড়া রফতানির অনুমতি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

মন্ত্রণালয় জানায়, বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যমতে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, নির্ধারিত মূল্যে কোরবানির পশুর চামড়া কেনাবেচা হচ্ছে না। এ বিষয়ে চামড়াশিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবসায়ীর দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

একইসঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নির্ধারিত মূল্যে কাঁচা চামড়া বেচাকেনা নিশ্চিত করতে ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা চাওয়া হয়।

এদিকে কোরবানির পশুর চামড়ার দাম অস্বাভাবিক কমে যাওয়ার জন্য চামড়া ব্যবসায়ীদের দোষারোপ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তিনি দাম কমার পেছনে ব্যবসায়ীদের কারসাজি রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন।

বুধবার সকালে রংপুর নগরীর শালবন এলাকায় নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ঈদের আগে মালিক ও চামড়া ব্যবসায়ীদের নিয়ে সভা করে আমরা চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দিয়েছিলাম। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আমরা লক্ষ্য করলাম- ঈদের দিন দাম এমন কমে এলো, যা কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। এ কারণে আমরা কাঁচা চামড়া রফতানি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

তিনি বলেন, যখনই আমরা কোনো উদ্যোগ নিই, তখনই এটির বিরুদ্ধাচারণ করা হয়। চামড়ার দাম নিয়েও এমনটি হয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ব্যবসায়ীরা বলছেন- কাঁচাচামড়া রফতানি করলে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তিনি বলেন, কিছু সংখ্যক ব্যবসায়ীর জন্য কোনোভাবেই চামড়াশিল্পকে আমরা ধ্বংস করে দিতে পারি না।

বেচতে না পেরে বিভিন্ন স্থানে চামড়া পুঁতে ফেলা হচ্ছে

ন্যায্যমূল্য না পেয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় কোরবানির পশুর চামড়া পুঁতে ফেলার ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যে সুনামগঞ্জের একটি ঘটনা ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। মঙ্গলবার বিকালে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার শাহারপাড়া ইউনিয়নের সৈয়দপুরে চামড়া নিয়ে কারসাজির প্রতিবাদ জানিয়ে ৯০০টি চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সৈয়দপুর হোসাইনিয়া হাফিজিয়া আরাবিয়া দারুল হাদিস মাদ্রাসার পক্ষ থেকে প্রতি বছরের মতো এবারও বিভিন্ন গ্রাম থেকে কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ করা হয়। ওই চামড়া বিক্রির জন্য মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ দুদিন চেষ্টা করে। ন্যায্য দাম না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে চামড়াগুলো মাটি চাপা দেয় তারা।

ঈদের দিন সংগ্রহ করা চামড়াগুলো সোমবার বিকালে নিলামে বিক্রির আয়োজন করা হয়। তবে কোনো ব্যবসায়ী তা কিনতে আসেননি। পরে চামড়াগুলো একটি জায়গায় স্তুপ করে রাখা হয়। মঙ্গলবারও কোনো ব্যবসায়ী না আসায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন চামড়া ব্যবসায়ীর সঙ্গে যোগাযোগ করে। একজন ব্যবসায়ী প্রতিটি গরুর চামড়া ১২০ টাকা দরে নিতে চাইলেও পরে আর আসেননি। পরবর্তী সময়ে চামড়ার দুর্গন্ধ মাদ্রাসা ও আশপাশে ছড়িয়ে পড়লে সবার মতামত নিয়ে মঙ্গলবার মাদ্রাসা ক্যাম্পাসের পুকুর পাড়ে ৮০০টি গরুর, ৯৫টি ছাগলের ও ভেড়ার চামড়া পুঁতে ফেলা হয়।

ঘটনাপ্রবাহ : চামড়া ব্যবসায় সিন্ডিকেট

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×