চামড়া নিয়ে উদ্ভট পরিস্থিতির কারণ জানালেন শিল্প সচিব

  সাভার প্রতিনিধি ১৭ আগস্ট ২০১৯, ২২:০৭ | অনলাইন সংস্করণ

কোরবানির চামড়া নিয়ে উদ্ভট পরিস্থিতির কারণ জানালেন শিল্প সচিব
শিল্প সচিব আবদুল হালিম। ছবি: যুগান্তর

স্মরণকালের ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে কোরবানির পশুর চামড়ার বাজার। মৌসুমি ব্যবসায়ীরা ন্যায্য দাম না পেয়ে লক্ষাধিক পিস পশুর চামড়া ফেলে দেন। যার অধিকাংশই মাটির নিচে চাপা দেয়া হয়। কিছু ভাসিয়ে দেয়া হয় নদীতে।

ট্যানারি মালিক ও আড়ৎদারদের সঙ্গে লেনদেনের জটিলতার কারণে সারা দেশে চামড়া শিল্পে এমন উদ্ভট পরিস্থিতি হয়েছে বলে জানালেন শিল্প সচিব আবদুল হালিম।

এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে হলে ট্যানারি মালিক ও আড়ৎদার যৌথ হয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করা সম্ভব বলে মনে করেন সচিব।

শনিবার দুপুরে সাভার চামড়া শিল্প নগরীর বিসিক কার্যালয়ে মতবিনিময় সভায় এ সব কথা বলেন তিনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন শতাধিক ট্যানারি মালিক ও বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত উল্লাহসহ অনেকেই।

শিল্প সচিব আবদুল হালিম বলেন, ব্যবসা বাকিতে হয়, নগদে হয় আবার অগ্রিম টাকা দিয়েও করতে হয়। এটা ব্যবসায়িক মডেল। দীর্ঘদিন ধরে ট্যানারি মালিক ও আড়ৎদাররা সমন্বয় করে চামড়া ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। হটাৎ তাদের মধ্যে লেনদেনের জটিলতার কারণে চামড়া শিল্পে উদ্ভট পরিস্থিতি হয়েছে। তবে ট্যানারি মালিকদের ব্যবসা পরিচালনা করতে হলে তাদের চামড়া ক্রয় করতে হবে। তাই উভয়পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে এ সমস্যা সমাধান করা যেতে পারে।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, বিভিন্ন হাটে চামড়া কেনাকাটা হচ্ছে। আজকে ময়মনসিংহের সম্ভুগঞ্জ হাটে চামড়া ক্রয় করা হচ্ছে। নগদ টাকা ছাড়া চামড়া বিক্রি করবেন না এমন একটি ভুল তথ্যের কারণে পোস্তা ও চট্টগ্রামে আজ চামড়া কেনা হচ্ছে না।

আড়ৎদারদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আড়ৎদাররা হয়তো চামড়া রফতানি করবেন সে জন্য বিভিন্ন কথাবার্তা বলছেন। তবে অতি দ্রুত এ সব ভুল বোঝাবুঝির সমাধান হয়ে যাবে।

বিটিএ সাধারণ সম্পাদক বলেন, সরকার নির্ধারিত মূল্যে চামড়া ক্রয় করার ব্যাপারে সাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, যে সব চামড়ার গুণগত মান ভালো আছে সে সব চামড়া সরকার নির্ধারিত মূল্যে ক্রয় করা হবে। আর যে সব চামড়া কিছুটা নষ্ট হয়ে গেছে সে সব চামড়ার মূল্য কিছুটা কম পাবে।

ট্যানারি মালিকদের কাছে আড়ৎদাররা কত টাকা পাবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, মোট কত টাকা পাবে সেটা সঠিক মনে নেই। তবে ওনাদের সঙ্গে প্রতি বছর ১২০০ থেকে ১৪০০ কোটি টাকার ব্যবসা হয়। সে ক্ষেত্রে একটা লেনদেন হয়। আগামীতে এরকম পরিস্থিতি থাকবে না। গত দুই বছর আন্তর্জাতিক চামড়া বাজারে দাম কম।

বিটিএ সাধারণ সম্পাদক বলেন, গত দুই বছরের লোকশানের কারণে ট্যানারিগুলো খুব খারাপ অবস্থায় আছে। আশা করি আগামী বছর আমাদের ব্যবসা ভালো হবে। আমরা সব দায়-দেনা পরিশোধ করে দেব।

তিনি আরও বলেন, রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে চামড়া শিল্প কারখানা সাভারের হস্তান্তরের সময় আমাদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ত্রুটির কারণে গত দুই বছর ধরে আড়ৎদারদের কাছে কিছু বকেয়া পড়েছে। অতিদ্রুত বকেয়া পরিশোধ করে তাদের সঙ্গে সু-সম্পর্ক গড়ে তোলা হবে বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশ ফিনিস্ড লেদার, লেদারগুড্স অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএলএলএফইএ) সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান মো. দিলজাহান ভূঁইয়া বলেন, সরকার কাঁচা চামড়া রফতানির যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে এ ব্যাপারে আমরা বলতে চাই, আমাদের দেশে কোরবানির সময়সহ বছরব্যাপী যে চামড়াটা সংগ্রহ করি, সেই চামড়া দিয়ে আমাদের ট্যানারিগুলোর তিন থেকে চার মাস চলে। তারপর সারা বছর আমরা যে চামড়াটা পাই, ওই চামড়া দিয়ে কোনো কোনো ট্যানারি ৫০ ভাগ চলে, আবার কোনো ট্যানারি ২০ ভাগ। শতভাগ চামড়া সংগ্রহ করে কোনো ট্যানারি চালাতে পারি না। যদি কাঁচা চামড়া এক্সপোর্টের সিদ্ধান্ত নেয়া হয় তাহলে আমাদের হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়বে।

ঘটনাপ্রবাহ : চামড়া ব্যবসায় সিন্ডিকেট

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×