মিন্নিকে নিয়ে পুলিশ সুপারের বক্তব্য সুষ্ঠু তদন্তের পরিপন্থি: হাইকোর্ট

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৯ আগস্ট ২০১৯, ১৯:৩৫ | অনলাইন সংস্করণ

মিন্নিকে নিয়ে পুলিশ সুপারের বক্তব্য সুষ্ঠু তদন্তের পরিপন্থি: হাইকোর্ট
আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি ও বরগুনার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন। ফাইল ছবি

বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় তার স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ জামিন প্রশ্নে রুল যথাযথ ঘোষণা করে বৃহস্পতিবার এ রায় দেন।

আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়ার আগেই মিন্নি দোষ স্বীকার করেছে বলে সংবাদ সম্মেলন করেন বরগুনার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন। রায়ে বরগুনার পুলিশ সুপারকে সতর্ক করে কয়েকটি পর্যবেক্ষণ দেন হাইকোর্ট।

আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছেন, আসামি আয়শা সিদ্দিকা রিমান্ডে থাকাকালে বরগুনার পুলিশ সুপার (এসপি) মারুফ হোসেন গণমাধ্যমে আয়শার দোষ স্বীকার করেছেন বলে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা শুধু অযাচিত, অনাকাঙ্ক্ষিতই নয়; ন্যায়নীতি ও সুষ্ঠু তদন্তের পরিপন্থি। পরিস্থিতি ও বাস্তবতা যা-ই হোক না কেন, কোনো পুলিশ সুপার দায়িত্বশীল পদে থেকে এমন ধরনের বক্তব্য দিলে- তা জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়। সেই সঙ্গে তিনি তার দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেননি, যা দুঃখজনক ও হতাশাজনক। উচ্চপর্যায়ের একজন পুলিশ কর্মকর্তার কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ প্রত্যাশিত ও কাম্য নয়। দায়িত্ব পালনে এরপর থেকে তিনি সতর্কতা ও পেশাদার মনোভাবের পরিচয় দেবেন এটাই আদালতের অনুরোধ। মামলার কাজ এখনও চলমান। সে কারণে এ বিষয়ে এই মুহূর্তে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়া হচ্ছে না। তবে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট বলেন, আজকাল দেখা যাচ্ছে যে, কোনো আলোচিত ঘটনার তদন্ত চলমান থাকলেও পুলিশ-র‌্যাবসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তি, অভিযুক্ত বিষয় বা তদন্ত সম্পর্কে প্রেস বিফ্রিং করছে। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তি, সন্দেহভাজন বা অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কোনো নিয়মনীতি ছাড়াই গণমাধ্যমের সামনে হাজির করা হয়। অনেক কর্মকর্তাকে অতি উৎসাহ নিয়ে, তদন্ত চলছে এমন বিষয়ে বক্তব্য দিতে দেখা যায়। এ সব বিষয় অনেক প্রশ্নের উদ্রেক করে। এ বিষয়ে আদালতের একটি রায়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল।

পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, এ কথা সবাইকে মনে রাখতে হবে যে, যতক্ষণ পর্যন্ত কোনো অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে অভিযোগ প্রমাণিত না হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত বলা যাবে না যে, তিনি অপরাধী বা অপরাধ করেছেন। তদন্ত বা বিচার পর্যায়ে গণমাধ্যমে এমনভাবে বক্তব্য দেয়া যাবে না যে, অভিযুক্ত ব্যক্তি অপরাধী। তদন্ত বা বিচার পর্যায়ে গণমাধ্যমে এমনভাবে বক্তব্য দেয়া যাবে না যে, অভিযুক্ত ব্যক্তি অপরাধী।

বরগুনার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালত এবং জেলা ও দয়েরা জজ আদালতে মিন্নির জামিন আবেদন নাকচ হওয়ায় হাইকোর্টে আসেন তার আইনজীবীরা।

গত ২০ আগস্ট আংশিক শুনানি নিয়ে রুল জারি করেন আদালত। আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়ার আগেই মিন্নি দোষ স্বীকার করেছে বলে সংবাদ সম্মেলন করায় এসপির ব্যাখ্যা চান আদালত। একই সঙ্গে মামলার নথিসহ তদন্তকর্মকর্তাকে হাইকোর্টের হাজির হতে বলা হয়।

গত বুধবার মিন্নির জামিন প্রশ্নে হাইকোর্টের রুলের ওপর শুনানি শেষ হয়। এ বিষয়ে রায়ের জন্য বৃহস্পতিবার দিন রেখেছিলেন হাইকোর্ট। সে অনুযায়ী রায় দিলেন আদালত।

ঘটনাপ্রবাহ : রিফাতকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×