জবানবন্দির আগে এসপির বক্তব্য জনমনে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে: হাইকোর্ট

  যুগান্তর রিপোর্ট ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২২:১০ | অনলাইন সংস্করণ

জবানবন্দির আগে এসপির বক্তব্য জনমনে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে: হাইকোর্ট

বরগুনার আলোচিত রিফাত শরিফ হত্যায় তার স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে হাইকোর্টের দেয়া জামিনের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে।

রোববার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে দেয়া ৭ পৃষ্ঠার এ রায়ে পাঁচ যুক্তিতে মিন্নিকে আদালত জামিন দিয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

রায়টি লিখেছেন জ্যেষ্ঠ বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম। এতে একমত পোষণ করেছেন অন্য বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়ার আগেই মিন্নি দোষ স্বীকার করেছে বলে সংবাদ সম্মেলন করেন বরগুনার এসপি মারুফ হোসেন।

এ প্রসঙ্গে আদালত বলেছেন, একজন আসামি রিমান্ডে থাকাবস্থায় আইনের নির্ধারিত নিয়মে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জবানবন্দি প্রদানের পূর্বেই পুলিশ সুপারের বক্তব্য তদন্ত সম্পর্কে জনমনে নানাবিধ প্রশ্ন ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তার বক্তব্যের বিষয়বস্তু যদি ধরেও নেয়া হয় যে, সত্য তা হলেও গণমাধ্যমের সামনে এ পর্যায়ে প্রকাশ ছিল অযাচিত এবং ন্যায়-নীতি, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের পরিপন্থী। একজন দায়িত্বশীল অফিসারের কাছ থেকে এ ধরনের কার্য প্রত্যাশিত ও কাম্য ছিল না এবং তিনি নিজেই তার দায়িত্বশীলতা ও পেশাদারিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন, যা দুঃখ ও হতাশাজনক।

মামলার তদন্ত যেহেতু চলমান সে কারণে এ বিষয়ে আদালত এই মূহূর্তে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রদান করা থেকে বিরত থাকছেন। তদন্ত শেষে পুলিশ রিপোর্ট দাখিল হলে পুলিশের মহাপরিদর্শক এ বিষয়ে সামগ্রিক অবস্থা বিবেচনায় প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। এ রায়ের কপি সচিব জননিরাপত্তা বিভাগ/সুরক্ষা বিভাগ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের মহাপরিদর্শককে প্রেরণের নির্দেশ দেন আদালত।

গত ২৯ আগস্ট হাইকোর্ট থেকে শর্তসাপেক্ষে জামিন পান আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ জামিন প্রশ্নে রুল যথাযথ ঘোষণা করে এ রায় দেন।

রায়ে আদালত বলেছেন, জামিনে থাকা অবস্থায় আয়শা সিদ্দিকা তার বাবার জিম্মায় থাকবেন। তিনি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন না। ব্যত্যয় ঘটলে তার জামিন বাতিল হবে।

গত ২৬ জুন রিফাতকে বরগুনার রাস্তায় প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। সে সময় স্বামীকে বাঁচাতে মিন্নির চেষ্টার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে আলোচনার সৃষ্টি হয়।

পরদিন রিফাত শরীফের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ ১২ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন, তাতে প্রধান সাক্ষী করা হয়েছিল মিন্নিকে। পরে মিন্নির শ্বশুর তার ছেলেকে হত্যায় পুত্রবধূর জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করলে ঘটনা নতুন দিকে মোড় নেয়।

গত ১৬ জুলাই মিন্নিকে বরগুনার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে দিনভর জিজ্ঞাসাবাদের পর এ মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

ঘটনাপ্রবাহ : রিফাতকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×