বিরোধী অপপ্রচার ঠেকাতে প্রেস উইং খুলবে সরকার

  সংসদ রিপোর্টার ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ২০:২৩ | অনলাইন সংস্করণ

ইনু

বহির্বিশ্বে বাংলাদেশ বিরোধী অপপ্রচার ঠেকাতে বিদ্যমান মিশনগুলোতে প্রেস উইং খুলবে সরকার। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এ তথ্য জানিয়েছেন।

সংসদ সদস্য এ কে এম রহমতুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরও জানান, বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ইতিবাচক প্রচার-প্রচারণা চালানোর জন্য প্রেস উইংয়ের মাধ্যমে কার্যক্রম গ্রহণের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশ বিরোধী অপপ্রচার রোধ করে সঠিক তথ্য বিশ্ববাসীকে জানানো সম্ভব হবে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন- বর্তমানে ওয়াশিংটন, নিউইয়র্ক, লন্ডন, নয়াদিল্লি, কলকাতা, পাকিস্তান, রিয়াদ এবং টোকিও বাংলাদেশ মিশনে প্রেস উইং চালু করা হয়েছে। এছাড়া আরও ১৫টি মিশনে প্রেস উইং খোলার লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মতি চাওয়া হয়। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে- জেদ্দা, আবুধাবি, সংযুক্ত আরব-আমিরাত, মাস্কাট, ওমান, মানামা, বাহরাইন, ইস্তাম্বুল-তুর্কি, ব্রাজিল, কাতার, প্যারিস, ইতালি, কুয়ালালামপুর, দুবাই ও ব্রাসেলস। এর মধ্যে কুয়ালালামপুর,দুবাই ও ব্রাসেলসে নতুন প্রেস উইং খোলার বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্মতি দিয়েছে।

ইনু বলেন, এই তিনটি প্রেস উইংয়ের জনবল,যানবাহন এবং অফিস সরঞ্জামাদি সাংগঠনিক কাঠামোতে অন্তর্ভুক্ত করতে সম্মতির জন্য ২৮ জানুয়ারি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে চিটি পাঠানো হয়েছে।

বেগম উম্মে রাজিয়া কাজলের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, জঙ্গি তৎপরতাকে নতুন প্রজন্ম কর্তৃক ঘৃণা প্রদর্শন ও জঙ্গিবাদিতার বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার মানসিকতা তৈরিতে তথ্য মন্ত্রণালয় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। জঙ্গি তৎপরতা এবং মানুষ হত্যার মতো মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তথ্য মন্ত্রণালয় সংবাদ সম্মেলন করে তাদের মুখোশ উন্মোচনসহ প্রকৃত ঘটনা দেশবাসীকে অবগত করছে। ফলে সহিংস ও অমানবিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরও জানান, গুলশানের হলি আর্টিজানসহ সব জঙ্গি তৎপরতা এবং সব সহিংস ও মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ সব বেসরকারি ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম ব্যাপক প্রচারণা চালায়। এতে করে এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যাপক জনমত সৃষ্টি সম্ভব হয়।

তথ্যমন্ত্রী জানান, নতুন প্রজন্ম কর্তৃক জঙ্গি তৎপরতার প্রতি আজীবন ঘৃণা প্রদর্শন ও জঙ্গিবাদিতার বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার জন্য চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদফতর কর্তৃক নির্মিত প্রমাণ্যচিত্র/তথ্যচিত্র প্রদর্শন/অনুষ্ঠান প্রচার কার্যক্রম বাংলাদেশ টেলিভিশন এবং বাংলাদেশ বেতারের মাধ্যমে চলমান রয়েছে।

তিনি জানান, বাংলাদেশ ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী অসাম্প্রদায়িক দেশ। জঙ্গি তৎপরতার সঙ্গে যুবসমাজ ছাত্রছাত্রীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ যেন জড়িত হতে না পারে সে বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিসহ বাংলাদেশ টেলিভিশন, চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদফতর কর্তৃক নির্মিত প্রমাণ্যচিত্র প্রদর্শনের ব্যবস্থা নেয়াসহ গণযোগাযোগ অধিদফতরের সহায়তায় মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়েছে। এ ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

ফখরুল ইমামের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী জানান, তথ্য অধিকার আইনের সহায়ক হিসেবে কাজ করে এমন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। তবে এ বিষয়ে ভবিষ্যতে কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

তিনি জানান, তথ্য অধিকার আইন- ২০০৯ থেকে বাস্তবায়নের শুরু থেকে প্রতি বছর জনঅবহিতকরণ সভা, তথ্যপ্রাপ্তির আবেদন, আপিল নিষ্পত্তি ও অভিযোগ নিষ্পত্তির সংখ্যা ক্রমবর্ধমান হারে প্রতি বছর বেড়ে যাচ্ছে। এখানে কোনো ব্যর্থতা নেই, বরং সফলতা রয়েছে।

এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে বাংলাদেশ টেলিভিশনের দর্শক জনপ্রিয়তার অভিযোগ অস্বীকার করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিটিভির দর্শক জনপ্রিয়তা কম তা সত্য নয়। ২০১৭ সালের মে মাসে দেশের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার ২ হাজার ৩৭২ জন দর্শকের কাছে প্রশ্নমালা পাঠিয়ে জরিপ করা হয়। ওই জরিপের প্রতিবেদন অনুযায়ী শতকরা ৮০ ভাগ দর্শক বিটিভি দেখেন। বেসরকারি যে কোনো টিভি চ্যানেলের দর্শক সংখ্যার তুলনায় বিটিভির দর্শক বেশি। তাই বিটিভির দর্শক কমে গেছে তা ভাবার কোনো কারণ নেই।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×