নীরবতা না ভাঙলে কারও নিরাপত্তা থাকবে না: আনু মুহাম্মদ

  যুগান্তর ডেস্ক    ০৯ অক্টোবর ২০১৯, ১৮:০৬ | অনলাইন সংস্করণ

আনু মুহাম্মদ। ছবি-যুগান্তর
আনু মুহাম্মদ। ছবি-যুগান্তর

তেল, গ্যাস, খনিজসম্পদ ও বিদ্যুৎ, বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন, নীরবতা ভাঙাই হচ্ছে নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নীরবতা না ভাঙলে আমাদের কারও নিরাপত্তা থাকবে না।

আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় নিপীড়নবিরোধী অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

বুধবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে এ প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

আনু মুহাম্মদ বলেন, আজকে ছাত্ররাজনীতি নয়, সন্ত্রাস বন্ধ করতে হবে। ছাত্রলীগসহ সন্ত্রাসী যারা, ছাত্রলীগ নাম যদি নাও থাকে, আপনারা খেয়াল করে দেখবেন, অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিস্থিতির কারণে জনমতের চাপে ছাত্রলীগের কমিটি ভেঙে দেয়া হয়েছিল কোনো কোনো সময়। কমিটি ভেঙে দেয়ায় কিন্তু সেখানে সন্ত্রাস বন্ধ হয়নি।

‌‌‌‘কাউকে কাউকে বহিষ্কার করা হয়েছে, বহিষ্কার করার পরও তার সন্ত্রাস বন্ধ হয়নি। কারণ ক্ষমতার সঙ্গে তার জোট। তারা যদি লাঠিয়াল বাহিনীর নাম পরিবর্তন করে তাতে পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হবে না।’

তিনি বলেন, যে সব ক্ষমতাসীন উপাচার্য-প্রভোস্ট ছাত্র তরুণদের বিষাক্ত করে নিজেদের ক্ষমতা আধিপত্য, সাম্রাজ্যবাদী আধিপত্য, দেশের সম্পদ পাচারের ব্যবস্থাকে পাকাপোক্ত করতে চায়, জোরজবরদস্তিমূলকভাবে ক্ষমতায় থেকে দেশের মানুষকে একটা ভয়ঙ্কর নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে ঠেলে দিতে চায়- তা নিয়ে প্রশ্ন তোলাটাই শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব।

‘তা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে বা যারা প্রশ্ন তুলবে সেই প্রশ্ন তোলা সংগঠন বা শক্তি এবং রাজনীতি ছাড়া বাংলাদেশের কোনো ভবিষ্যৎ নেই। আজকের যারা এখানে উপস্থিত আছেন, যারা কোনো সংগঠনে নেই, তারাও সেই রাজনীতির অংশ, যে রাজনীতি অন্যায়ের প্রতিবাদ করে, প্রশ্ন তোলে, নিজেদের সাহস নিয়ে সবার পাশে দাঁড়ায়। সেই ধারাটাকেই শক্তিশালী করতে হবে।’

সারা দেশে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে, সব অঞ্চলে দুর্নীতি লুণ্ঠন এবং নিপীড়নের বিরুতদ্ধে বৃহত্তর ঐক্যমঞ্চ গড়ে তোলার আহ্বান জানান আনু মুহাম্মদ।

‘এ ব্যাপারে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন, ছাত্রসংগঠনের বাইরে যারা কাজ করছেন, ছাত্রসংসদ নির্বাচনের কৌশলের মধ্য দিয়ে যারা নিজেরা স্বীকৃতি পেয়েছেন তাদের সবাইকে আহ্বান করব- এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে।’

তিনি বলেন, যারা শিক্ষক আছেন তাদের আহ্বান জানাই, আমরা একটা গণতদন্ত কমিশন করি। সেখানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের যে অসংখ্যা নির্যাতনের যে কাহিনী আছে, যেগুলো বলা হয়নি বা নিরাপত্তার কারণে বলতে পারেনি সেগুলো নিয়ে একটা গণতদন্ত কমিশনের প্রস্তাব করি।

‘সেখানে যারা বাংলাদেশের সব পর্যায়ে যারা নির্যাতিত হচ্ছে সব ঘটনায় সেগুলো লিপিবদ্ধ করি। এবং সেটা সারা দেশের মানুষকে জানাই।’

আনু মুহাম্মদ বলেন, কারা খুনি, কারা সন্ত্রাসী, কাদের মদদে তারা এ অবস্থায় এসেছে, সরকারের এখানে দায়িত্ব কী, ভূমিকা কী? এবং এ পরিবর্তনের জন্য যে রাজনীতি, যে শক্তি, সংগঠন তুলতে গেলে সেটাকে বিকশিত করতে গেলে এ তথ্যটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। যে কথাগুলো বলা হচ্ছে না। সেই কথাগুলো বলাটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, নীরবতা ভাঙাই হচ্ছে নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নীরবতা না ভাঙলে আমাদের কারও নিরাপত্তা থাকবে না। আজকে আমাদের ওপর যখন একের পর এক আক্রমণ আসে, সেই আক্রমণ মোকাবেলা করার জন্য প্রধান করণীয় হচ্ছে যে ভয় তারা দেখাতে চায় সেই ভয়কে অতিক্রম করে নিজেরা সংগঠিত হওয়া, সংঘবদ্ধ হওয়া। সেই প্রত্যাশা রেখেই আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে আমার বক্তব্য এখানে শেষ করছি।

ঘটনাপ্রবাহ : বুয়েট ছাত্রের রহস্যজনক মৃত্যু

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×