আবরারকে প্রথম আঘাতকারী ছাত্রলীগ নেতা রবিনের মুখে নির্যাতনের বর্ণনা

  যুগান্তর ডেস্ক ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ২২:৩৬ | অনলাইন সংস্করণ

বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন।
বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন। ইনসেটে নিহত আবরার।

ভারতের সঙ্গে চুক্তির বিরোধিতা করার জেরে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হাতে নির্মমভাবে নিহত বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন।

সোমবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে ১৬৪ ধারায় দেয়া জবানবন্দিতে এসব কথা জানান তিনি।

৫ দিনের রিমান্ড শেষে সোমবার সকাল ১১টায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মেহেদী হাসান রবিনকে ঢাকা মহানগর হাকিম মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন এর আদালতে হাজির করেন। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। এরপর আসামীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

হত্যার দায় স্বীকার করে মেহেদী হাসান রবিন আদালতকে জানিয়েছেন, তার নেতৃত্বেই আবরারের ওপর হামলা পরিচালনা করা হয়।

স্বীকারোক্তিতে মেহেদী হাসান রবিন বলেন, শিবির সন্দেহে আবরারকে তার ১০১১ নম্বর রুম থেকে ডেকে আনা হয়। আবরার কোনো কথা স্বীকার করছিল না। এ সময় তাকে আমি কয়েকটি থাপ্পর মারি। এরপর অন্যরা (বাকি আসামিরা) আবরারকে ক্রিকেট স্ট্যাম্প ও রশি দিয়ে মারে। আবরার ওপর নির্যাতন চলাকালে আমি কয়েকদফা ওই রুম থেকে বের হই। আবার ওই রুমে ফিরে আসি।

ইফতি মোশাররফ সকাল, মো. মেফতাহুল ইসলাম ওরফে জিয়ন, মো. অনিক সরকার ওরফে অপু ও মো. মোজাহিদুর রহমান (চার জনই আসামি) আবরারকে সরাসরি ক্রিকেট স্ট্যাম্প ও রশি দিয়ে উপর্যপুরি আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যায় আবরার।

এর আগে আসামি ইফতি মোশাররফ সকাল, মো. মেফতাহুল ইসলাম ওরফে জিয়ন, মো. অনিক সরকার ওরফে অপু ও মো. মোজাহিদুর রহমান আদালতে দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাদের জবানবন্দিতে তারা রবিনের নাম প্রকাশ করেন।

মেহেদী স্বীকারোক্তিতে আরও বলেন, সকাল, জিসান, তানিম, সাদাত, মোরশেদ বিভিন্ন সময়ে ওই কক্ষে আসেন ও আবরারকে মারেন। মোয়াজ, বিটু, তোহা, বিল্লাহ ও মুজাহিদও ঘুরে ফিরে এসে আবরারকে মারপিট করেন। ২০১১ নম্বর কক্ষে প্রথমে তাকে মারা হয়।

পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে কিছুটা সময় দিয়ে তাকে ২০০৫ নম্বর কক্ষে নেওয়া হয়। সেখানেও তাকে মারধর করা হয়। এক পর্যায়ে আবরার নিস্তেজ হয়ে পড়েন। তিনি কয়েকবার বমিও করেন। এতেও মার থামেনি। তারপর আবরারকে ধরাধরি করেন তানিম, মেয়াজ, জেমি সিঁড়ির দিকে নিয়ে যায়। পেছনে মোরশেদ, মুজাহিদ, তোহা, বিল্লাহ, মাজেদও ছিলেন। এক পর্যায়ে ডাক্তার ডাকা হয়। ডাক্তার এসে বলেন আবরার মারা গেছেন।

প্রসঙ্গত, ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেক্ট্রিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদ রাব্বীকে পিটিয়ে হত্যা করেন বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মী। পরদিন ৭ অক্টোবর আবরারের বাবা মো. বরকত উল্লাহ ১৯ জনসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে অভিযুক্ত করে চকবাজার থানায় মামলা করেন। এজাহারভুক্ত আসামীদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এজাহারভুক্ত আরও ৪ আসামী পলাতক। এর বাইরে তদন্তের ভিত্তিতে পুলিশ আরও ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে।

রোববার আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছেন বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সদস্য মুজাহিদুর রহমান। এর আগে ইফতি মোশাররফ সকাল, মেফতাহুল ইসলাম ওরফে জিয়ন ও অনিক সরকার স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

এছাড়া ৫দিনের রিমান্ডে রয়েছেন, আবরারকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া শামীম বিল্লাহ ও মোয়াজ আবু হুরায়রা। এছাড়া আরও ৫জনকে রোববার কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনাপ্রবাহ : বুয়েট ছাত্রের রহস্যজনক মৃত্যু

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×