নুসরাতকে নিয়ে আনন্দবাজার পত্রিকার ভয়ঙ্কর মিথ্যাচার

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৭ অক্টোবর ২০১৯, ১২:৫০ | অনলাইন সংস্করণ

নুসরাত

ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হয় গত বৃহস্পতিবার।

রায়ে মামলার প্রধান আসামি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলাসহ ১৬ জনের মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও এ খবর গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। বিবিসি, রয়টার্স, এএফপি, আলজাজিরাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে নুসরাত হত্যার খবর প্রকাশিত হয়।

ভারতের কলকাতার প্রধান দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকাও গত শুক্রবার নুসরাত হত্যার রায় নিয়ে খবর প্রকাশ করে।

কিন্তু পত্রিকাটির প্রতিবেদনে নুসরাতকে নিয়ে ভয়ঙ্কর রকম ভুল তথ্য প্রকাশ করা হয়।

অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলার যৌন হয়রানির শিকার হলেও আনন্দবাজারের ওই প্রতিবেদনে নুসরাতকে ধর্ষিতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

শুধু তাই নয়, নুসরাতের নামও বিকৃত করে লেখা হয়েছে। প্রতিবেদনে নুসরাত জাহান রাফির পরিবর্তে ‘নুসরত জহান রফি’ লেখা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ফেনির একটি মাদ্রাসার প্রধানশিক্ষক সিরাজদ্দৌলার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তুলে না নেয়ায় নুসরত নামে ১৯ বছরের ওই ছাত্রীর গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় দুষ্কৃতীরা।'

বাংলাদেশের পুলিশের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি জানায়, ‘গত ২৭ মার্চ ওই শিক্ষক নিজের ঘরে নিয়ে গিয়ে নুসরতকে ধর্ষণ করে। নুসরতের মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে ওই শিক্ষককে গ্রেফতার করা হয়।’

আনন্দবাজারের এ ধরনের ভুল তথ্য দিয়ে রিপোর্ট করায় বাংলাদেশের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, কীভাবে একটি পত্রিকা যৌন হয়রানির মতো বিষয়কে ধর্ষণ বলে চালিয়ে দিতে পারে। পত্রিকাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে এ ধরনের ভুল তথ্য দিয়ে খবর প্রকাশ করেছে।

শহিদুল ইসলাম শ্যামল নামের এক সাংবাদিক লিখেছেন, ‘নাম বিকৃত করার ক্ষেত্রে আনন্দবাজার বিশ্বে শ্রেষ্ঠ। বহুদিন ধরে দেখে আসছি শুদ্ধ বানান যেটি সারা বিশ্বে একই রকম লেখে। সেই বানানও তারা নিজস্ব ক্যারিশমা প্রকাশ করার জন্য বিকৃত করে লেখে। তাদের পত্রিকার পলিসি এমনটি কিনা জানা নেই।’

‘নুসরাতের এই নিউজটাতেও তার নাম বিকৃত করে লেখা হয়েছে এবং নিউজে জঘন্য ধরনের ভুল তথ্যও দেয়া হয়েছে। নুসরাত ধর্ষণের শিকার হয়েছিল এই তথ্য তাদের কে দিয়েছে?’

শামসুজ্জামান নামের একজন লিখেছেন, ‘অথচ এই (আনন্দবাজার) পত্রিকাটা বাংলা ভাষায় প্রকাশিত একটা অন্যতম পত্রিকা! কি যেন হয়তো এটা তাদের বাজার কাটতির কোনো একটা পলিসি হতেও পারে।’

প্রসঙ্গত সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী ছিলেন নুসরাত জাহান রাফি। মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে তাকে যৌন হয়রানি করেন।

এ ঘটনায় রাফির মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে ২৭ মার্চ সোনাগাজী থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে রাফির পরিবারকে হুমকি দেয়া হয়।

৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে আলিম পর্যায়ের আরবি প্রথম পত্রের পরীক্ষা দিতে ওই মাদ্রাসার কেন্দ্রে যায় রাফি। এ সময় বোরকা পরিহিত কয়েকজন তাকে পাশের বহুতল ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মামলা তুলে নিতে চাপ দেয়। রাজি না হলে রাফির গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেয় তারা।

এতে রাফির পুরো শরীর দগ্ধ হয়। ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়। এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই বাদী হয়ে ৮ এপ্রিল সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন।

ঘটনাপ্রবাহ : পরীক্ষা কেন্দ্রে ছাত্রীর গায়ে আগুন

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×