সুমিকে বিমান ভাড়াসহ ২২ হাজার রিয়াল দিতে হবে সেই ট্রাভেল এজেন্সির

প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর ২০১৯, ১৩:৪০ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

সৌদি আরবে নির্যাতিত গৃহকর্মী সুমি আক্তার। ছবি- ফেসবুক

সৌদি আরবে নির্যাতিত গৃহকর্মী সুমি আক্তারকে দেশে ফেরাতে ট্রাভেল এজেন্সি ‘রূপসী বাংলা ওভারসিজ’কে বিমানের টিকিটসহ ২২ হাজার রিয়াল (প্রায় পাঁচ লাখ টাকা) দেয়ার প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিতে অনুরোধ করেছে জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল।

মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল থেকে পাঠানো এক চিঠিতে এ অনুরোধ জানানো হয়।

চিঠিতে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল লিখেছে- ২২ হাজার সৌদি রিয়াল সুমির নিয়োগকর্তাকে (কফিল) দিলে তার কাছ থেকে ছাড়া পাবেন সুমি। এ ছাড়া তার নিয়োগকর্তা তাকে ছাড়তে অপারগতা প্রকাশ করেছেন।  

সুমির নিয়োগকর্তার দাবি, সুমিকে সৌদি নিতে তার প্রায় তিন লাখ টাকার মতো খরচ হয়েছে, যা তিনি সেবার মাধ্যমে শোধ করেননি।

অর্থাৎ সুমিকে নিয়ে যাওয়া রূপসী বাংলা ওভারসিজের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে দিলেই তাকে ছাড়বেন সৌদির সেই কফিল।


চিঠিতে আরও জানানো হয়, ২২ হাজার সৌদি রিয়াল কফিলকে দিলে তার কাছ থেকে ফাইনাল এক্সিট গ্রহণ করা যাবে। এর পরই টিকিট কেটে সুমিকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো যাবে। আর এসব ব্যয় রূপসী বাংলা ওভারসিজকেই বহন করতে হবে।

সুমি আক্তার বর্তমানে নাজরান পুলিশের তত্ত্বাবধানে নাজরান শহরের একটি সেফহোমে অবস্থান করছেন। তবে কফিলের অনুমোদনসংক্রান্ত সৌদি আইনি জটিলতায় তাকে দেশে ফেরানো যাচ্ছে না।

সম্প্রতি ফেসবুকে কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিজের ওপর পাশবিক নির্যাতনের কথা বলে সুমি তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানান।

ভিডিওতে তাকে বলতে দেখা যায়, ওরা আমারে মাইরা ফালাইব, আমারে দেশে ফিরাইয়া নিয়া যান। আমি আমার সন্তান ও পরিবারের কাছে ফিরতে চাই। আমাকে আমার পরিবারের কাছে নিয়ে যান। আর কিছুদিন থাকলে আমি মরে যাব।’

সে ভিডিওটি ভাইরাল হয় এবং গত ৩ নভেম্বর এ বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত।

এসব সংবাদ দেখার পর সুমি আক্তারকে ফেরাতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন। পরে সৌদি আরবে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতের কার্যালয় থেকে কর্মকর্তারা তার (সুমি) সঙ্গে কথা বলেন।

এর পরই সুমি আক্তারকে তার কর্মস্থল থেকে উদ্ধার করে হেফাজতে নিয়েছে সেখানকার পুলিশ।

সুমি আশুলিয়ার চারাবাগ এলাকার নুরুল ইসলামের স্ত্রী। ভিডিওতে স্ত্রীর এমন আকুতির বিষয়ে তিনি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সৌদিতে যাওয়ার পর পরই তার ওপর নানাভাবে নির্যাতন চলে। আমার সঙ্গে মাঝে যোগাযোগ করতে দেইনি। এর পর যখনবা আমার সঙ্গে কথা হয়, তখনই সুমি বাড়ি আসতে চায়। সে আর সৌদিতে থাকতে চায় না।

তিনি বলেন, আমি গত ১১ অক্টোবর পল্টন থানায় ‘রূপসী বাংলা ওভারসিজ’ এজেন্সির মালিক আক্তার হোসেনের নামে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছি। এ ছাড়া ন্যায়বিচারের জন্য জনশক্তি কর্মসংস্থান রফতানি ব্যুরোর মহাপরিচালকের দফতরে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।

প্রসঙ্গত চলিত বছরের জানুয়ারিতে গৃহকর্মীর ট্রেনিং শেষ করেন পঞ্চগড় জেলার বোদা সদর থানার রফিকুল ইসলামের মেয়ে সুমি আক্তার।

এর পর গত ৩০ মে ‘রূপসী বাংলা ওভারসিজ’ নামে একটি এজেন্সির মাধ্যমে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সৌদি অ্যারিবিয়ান এয়ারলাইনস (এসভি) ৮০৫ যোগে সৌদি যান সুমি।  

সৌদি যাওয়ার সপ্তাহখানেক পর থেকে শুরু হয় তার ওপর মারধর, যৌন হয়রানিসহ নানা নির্যাতন।

দেখুন ফেসবুকে ভাইরাল সৌদিতে নির্যাতিতা সুমির সেই আকুতি-