নিয়তির কী নির্মম পরিহাস, বাদল চলে গেলেন: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর ২০১৯, ২১:৩১ | অনলাইন সংস্করণ

  সংসদ রিপোর্টার

গত ২৬ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে গণভবনে দেখা করতে যান সংসদ সদস্য মঈনউদ্দীন খান বাদল। ফাইল ছবি

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা প্রয়াত জাসদ নেতা মঈনউদ্দীন খান বাদলের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে বলেছেন, চলার পথে অনেক আপনজনকে হারিয়েছি, অনেকে হারিয়ে যাচ্ছে। অবশ্য সময়ের সঙ্গে সবাইকে একদিন চলে যেতে হবে। কিন্তু মঈনউদ্দীন খান বাদলের মৃত্যু রাজনৈতিক অঙ্গনে বিরাট শূন্যতা সৃষ্টি করেছে। আমাদের দুর্ভাগ্য, তার সেই বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর আর শুনব না। 

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ সব কথা বলেন। 

এ সময় প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ছাত্রলীগের একজন কর্মী হিসেবে ছাত্র রাজনীতিতে তিনি সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধেও তার বলিষ্ঠ অবদান রয়েছে। তিনি সব সময় অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী ছিলেন এবং শান্তি-সমৃদ্ধিতে বিশ্বাসী ছিলেন। সংসদে তিনি যখন ভাষণ দিতেন প্রত্যেকটা ভাষণই মনে একটা দাগ কেটে যেত। অত্যন্ত বলিষ্ঠভাবেই তিনি কথা বলতেন। এলাকার উন্নয়নের জন্য সব সময় তিনি সক্রিয় ছিলেন। তার মৃত্যুতে তার এলাকাবাসীর যেমন ক্ষতি হয়েছে, তেমনি রাজনীতিরও। 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নেন বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ, আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা আমীর হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান, সাবেক মন্ত্রী ড. মহীউদ্দিন খান আলমগীর, সাবেক মন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ, সাবেক প্রধান হুইপ আসম ফিরোজ, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, জাতীয় পার্টির ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মশিউর রহমান রাঙা। 

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, নিয়তির কী নির্মম পরিহাস। আজ (বৃহস্পতিবার) সকালেই মঈনউদ্দীন খান বাদল চলে গেলেন। তার লাশ নিয়ে আসার জন্য ইতিমধ্যে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আমাদের হাইকমিশনের একজন কর্মকর্তাকে পাঠিয়েছি। লাশ আজ (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যার মধ্যে পৌঁছানোর কথা, হয়তো আগামীকাল (শুক্রবার) সকালের মধ্যে পৌঁছাবে।

তিনি বলেন, মঈনউদ্দীন খান বাদল ২০০৮, ২০১৪ এবং ২০১৮ তিনটা নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ছাত্ররাজনীতিতে তিনি সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে আমরা যারা স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন করেছি, আমরা যারা গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছি, এমনকি আইয়ুববিরোধী আন্দোলন থেকে নিয়ে ৬ দফা আন্দোলন, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার আন্দোলন মুক্তিযুদ্ধ প্রতিটি ক্ষেতেই বাদলের সক্রিয় ভূমিকা ছিল। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি ছাত্রলীগের কর্মী ছিলেন। স্বাধীনতার পর তিনি জাসদে যোগ দেন। আমরা যখন ঐক্যজোট গঠন করি আমাদের ঐক্যজোটের সঙ্গেও তিনি সক্রিয় ছিলেন। কাজেই আন্দোলন-সংগ্রামের রাজপথে এবং এই সংসদে একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ হয়েছে।

সংসদ নেতা বলেন, রাজনৈতিক চিন্তা-চেতনা ও প্রজ্ঞায় মঈনউদ্দীন খান বাদল যথেষ্ট শক্তিশালী ভূমিকা রেখেছেন। তার মৃত্যুতে রাজনৈতিক অজ্ঞনে একটা বিরাট শূন্যতা সৃষ্টি হল। তিনি বলেন, দুইদিন আগেই আমি সব সময় তার শরীর স্বাস্থ্যের খোঁজ নিতাম। তিনি অসুস্থ ছিলেন। তার স্ত্রী মেসেজ পাঠিয়ে খবর দিতেন তিনি কী অবস্থায় আছেন। সকালে যখন খবর পেলাম তখন একটা বিরাট ধাক্কা লেগে গিয়েছিল। কারণ এটা আমি ভাবতেই পারিনি যে তিনি এভাবে মৃত্যুবরণ করবেন।  পার্লামেন্ট শুরু হবে তিনি আসবেন পার্লামেন্টে এবং দ্রুত সুস্থ হতে হবে এটাই তার মনে ছিল। আমাদের দুর্ভাগ্য যে তার সেই বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর আর শুনতে পাব না।