রায়ে সন্তুষ্ট, প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ: নুসরাতের মা

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৮ নভেম্বর ২০১৯, ১৫:৪৫ | অনলাইন সংস্করণ

রায়ে সন্তুষ্ট, প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ: নুসরাতের মা
ফাইল ছবি

আইসিটি মামলায় ওসি মোয়াজ্জেমের আট বছরের কারাদণ্ড হওয়ার ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন নুসরাত জাহান রাফির মা শিরিন আখতার। তিনি বলেন, বিচারে আমি সন্তুষ্ট।

বৃহস্পতিবার বিকালে ফেনীতে গ্রামের বাড়িতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এমন কথা বলেছেন।

এসময় এক সাংবাদিক তাকে প্রশ্ন করেন, আচ্ছা, ওসি মোয়োজ্জেম কী অপরাধ করেছেন? জবাবে তিনি বলেন, ওসি মোয়াজ্জেম কী অপরাধ করেছেন, তা সবাই আপনারা দেখেছেন।

শিরিন আখতার বলেন, উনার ভিডিওর কারণে আমি মা হয়ে থানার ভেতরে ঢুকতে পারিনি।

সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি আরও জানান, ওইদিন নুসরাতকে ভেতরে নিয়ে গেছে। তাদের দুই ক্লাসমেটকে নিয়ে গেছে। তখন বলা হয়েছে, তার সঙ্গে আমাদের গোপন কথা আছে, আপনি ভেতরে ঢুকতে পারবেন না।

‌‘ওসি মোয়াজ্জেম বলেছিলেন, এই ভিডিও আমার কাছে থাকবে, আমি কাউকে দেখাব না। কিন্তু উনি আমানতের খেয়ানত করেছেন।’

এদিকে রায়কে মাইলফলক আখ্যায়িত করে মামলার বাদী ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন বলেন, ওসিদের কাছ থেকে জমিদারের মতো আচরণ মানায় না।

‘রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছেন, ওসি মোয়াজ্জেম তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। যে কারণে তাকে এই মামলায় সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়া হয়েছে।’

তিনটি ধারায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। একটিতে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করা যায়নি বলে জানান ব্যারিস্টার সুমন। তিনি বলেন, তবে রায় বিশ্লেষণ করে এ বিষয়ে আমরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।

একইসঙ্গে তাকে ১৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে ওসি মোয়াজ্জেমকে। জরিমানার এই টাকা নুসরাতের পরিবারকে দিতে বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আস-শামস জগলুল হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন। এটি বাংলাদেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের হওয়া কোনো মামলার প্রথম রায়।

বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ২০ মিনিটে বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আস-শামছ জগলুল হোসেন এজলাসে আসন গ্রহণ করেন। দুপুর ২টা ১৭ মিনিটে ওসি মোয়াজ্জেমকে কাঠগড়ায় তোলা হয়। এরপর রায় পড়া শুরু করেন আদালত।

মামলার বাদি ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন এ সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে ওসি মোয়াজ্জেমকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে আদালতে নেয়া হয়। ২০ নভেম্বর মামলাটিতে রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে আজ রায় ঘোষণার দিন ঠিক করা হয়েছিল।

১৫ এপ্রিল সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন ঢাকার সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে এ মামলা করেন। ওইদিন ট্রাইব্যুনাল মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দেন।

১৭ জুন ওসি মোয়াজ্জেম জামিন আবেদন করলে নাকচ করেন সাইবার ট্রাইব্যুনাল। পরে তিনি ২ জুলাই হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন। সেখানেও তার জামিন নাকচ হয়।

১৬ জুন শাহবাগ এলাকা থেকে গ্রেফতার হন মোয়াজ্জেম হোসেন। ২০ জুন সাইবার ট্রাইব্যুনালে ওসি মোয়াজ্জেমের পক্ষে কারাগারে ডিভিশন পাওয়ার বিষয়ে আবেদন করা হলে বিচারক গত ২৪ জুন তাকে প্রথম শ্রেণির বন্দির (ডিভিশন) সব সুবিধা দেয়ার নির্দেশ দেন।

উল্লেখ্য, ফেনীর সোনাগাজী থানায় মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে ‘অসম্মানজনক’ কথা বলায় এবং তার জবানবন্দির ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ এনে ১৫ এপ্রিল সাইবার ট্রাইব্যুনালে সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সাইয়্যেদুল হক সুমন বাদী হয়ে এ মামলা করেন।

ঘটনাপ্রবাহ : পরীক্ষা কেন্দ্রে ছাত্রীর গায়ে আগুন

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

 
×