রুম্পার রহস্যজনক মৃত্যুর কূলকিনারা করতে পারছে না পুলিশ
jugantor
রুম্পার রহস্যজনক মৃত্যুর কূলকিনারা করতে পারছে না পুলিশ

  যুগান্তর রিপোর্ট  

১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৫:২১:৩৮  |  অনলাইন সংস্করণ

সিদ্ধেশ্বরীতে গভীর রাতে সড়কে মৃত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ছাত্রী রুবাইয়াত শারমিনের মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। লাশ উদ্ধারের পর পেরিয়ে গেছে ছয় দিন। এখনও মৃত্যুরহস্যভেদ করতে পারেনি পুলিশ। সন্দেহভাজন হিসেবে রুম্পার বন্ধু আবদুর রহমান সৈকতকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদে মেলেনি তেমন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, ঘটনার দিন বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রুম্পা বাসার নিচে জুতা পরিবর্তন করে। আট বছর বয়সী চাচাতো ভাইয়ের কাছে মোবাইল, ঘড়ি, আংটি, ভ্যানিটি ব্যাগ এবং স্বর্ণালঙ্কার দিয়ে তিনি বেরিয়ে পড়েন। কেন তিনি সেদিন এসব বাসায় রেখে যান- এ বিষয়টি নিয়েও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। এই প্রশ্নের উত্তর এখনও মিলছে না।

রুম্পার লাশ দেখে ধারণা করা হয়েছিল, তাকে ধর্ষণের পর ওপর থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ যে প্রতিবেদন দিয়েছে, তাতে দেখা যায়– রুম্পাকে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। এই প্রতিবেদনের পর মামলা নতুন মোড় নেয়। 

রুম্পার লাশ উদ্ধারের আগের চার ঘণ্টা তিনি কোথায় ছিলেন এটি নিয়েও সংশয় দূর হয়নি। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত জানতে পারেননি তদন্তসংশ্লিষ্টরা। ওই সময়ে কী হয়েছিল, সেটি উদ্ঘাটন করা না গেলে রুম্পার মৃত্যুর রহস্যভেদ করা সম্ভব নয়। এই সময়ের হিসাব মেলানোর মতো কোনো ক্লু এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ফলে এখনও অন্ধকারে পুলিশ।

তদন্তসংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, ঘটনার দিন সকাল থেকে রুম্পা কী কী কাজ করেছিলেন, কোথায় কোথায় গিয়েছিলেন- এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। সেদিন রুম্পার সঙ্গে সৈকতের দেখা হয়েছিল। প্রেমের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে সৈকতের সঙ্গে রুম্পা কথাও বলেছিল। বিকাল ৪টায় সৈকতের সঙ্গে তার দেখা হয় সিদ্ধেশ্বরী এলাকায়।

ওই সময় তাদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হয়। তার পর আড়াই ঘণ্টা রুম্পা কোথায় ছিলেন, কী করেছিলেন- এ বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে ওই দিন সাড়ে ৬টার পর থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত রুম্পার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

ডিবির রমনা অঞ্চলের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) শামসুল আরেফিন যুগান্তরকে বলেন, রুম্পার মৃত্যুরহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে সৈকত নামে রুম্পার এক বন্ধুকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ৪ ডিসেম্বর রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী সার্কুলার রোডের ৬৪/৪ বাসার সামনে অজ্ঞাত ২০-২২ বছর বয়সী এক নারী উপুড় অবস্থায় পড়েছিলেন। তখন স্থানীয় লোকজন মৃতদেহটি ওড়না দিয়ে ঢেকে রাখেন। অজ্ঞাত আসামি ওই নারীকে ঘটনাস্থলের আশপাশের তিনটি ভবনের যেকোনো একটি ভবন থেকে নিচে ফেলে দেন বলে মামলায় বলা হয়।

এর পর পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে। লাশের ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। থানা পুলিশ প্রথমে মামলাটি তদন্ত করলেও পরবর্তী সময়ে তদন্তভার ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়। তদন্তকালে অজ্ঞাত ওই নারীর পরিচয় মেলে। 

ওই তরুণীর নাম রুবাইয়াত শারমিন। তিনি স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। মালিবাগের শান্তিবাগে মা ও ভাইয়ের সঙ্গে থাকতেন ভাড়া বাসায়। তার বাবা রোকনউদ্দিন হবিগঞ্জ জেলার একটি ফাঁড়িতে পুলিশ পরিদর্শক পদে কর্মরত। চাকরির সুবাদে রোকনউদ্দিন হবিগঞ্জেই থাকেন।

লাশটি পাওয়ার পর ধারণা করা হচ্ছিল– আশপাশের কোনো ভবন থেকে পড়ে যাওয়াই রুম্পার মৃত্যুর কারণ। কিন্তু পরে সুরতহাল প্রতিবেদন ও ময়নাতদন্ত শেষে পুলিশসহ সংশ্লিষ্টদের ধারণা হয় রুম্পা মৃত্যুর আগে ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন।

এ ঘটনায় শনিবার রুম্পার প্রেমিক আবদুর রহমান সৈকতকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি অপর একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সিআইডি নিয়ে গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।

রুম্পার সুরতহাল প্রতিবেদন বলছে, তার মেরুদণ্ড, বাঁ হাতের কনুই ও ডান পায়ের গোড়ালি ভাঙা। মাথা, নাক, মুখে জখম এবং রক্তাক্ত অবস্থায় ছিল। বুকের ডান দিকে ক্ষতচিহ্ন রয়েছে।

রমনা বিভাগের পুলিশের সহকারী কমিশনার এসএম শামীম যুগান্তরকে বলেন, ‘ঘটনাস্থলের আশপাশের ভবন থেকে একটি সিসিটিভির ফুটেজ উদ্ধার করা হয়েছে। সেখানে সন্ধ্যা ৬টা ৪৭ মিনিটে রুম্পাকে একটি ভবনে প্রবেশ করতে দেখা গেছে। তিনি আরও জানান, ফুটেজে রাত পৌনে ১১টায় ভবনের ওপর থেকে তাকে পড়ে যেতে দেখা যায়। পুলিশের ওই কর্মকর্তা আরও জানান, যে ভবন থেকে রুম্পা পড়েছিল, ওই ভবনের তৃতীয় তলায় ছাত্রদের একটি মেস রয়েছে। ঘটনার পর পরই সেখানে গিয়ে মেসটি বন্ধ পাওয়া গেছে। 

রুম্পার পারিবারিক সূত্র জানায়, তিনি দুটি টিউশনি করে বুধবার সন্ধ্যায় বাসায় ফেরেন। পরে তিনি কাজ আছে বলে বাসা থেকে বের হন। বাসা থেকে নিচে নেমে তার ব্যবহৃত মুঠোফোন ও পরা স্যান্ডেল বাসায় পাঠিয়ে দিয়ে এক জোড়া পুরনো স্যান্ডেল পায়ে দিয়ে তিনি বেরিয়ে যান। কিন্তু রাতে আর বাসায় ফিরেননি। স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান পাননি। বৃহস্পতিবার রুম্পার মাসহ স্বজনরা রমনা থানায় গিয়ে লাশের ছবি দেখে তাকে শনাক্ত করেন।

রুম্পার রহস্যজনক মৃত্যুর কূলকিনারা করতে পারছে না পুলিশ

 যুগান্তর রিপোর্ট 
১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৩:২১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

সিদ্ধেশ্বরীতে গভীর রাতে সড়কে মৃত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ছাত্রী রুবাইয়াত শারমিনের মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। লাশ উদ্ধারের পর পেরিয়ে গেছে ছয় দিন। এখনও মৃত্যুরহস্যভেদ করতে পারেনি পুলিশ। সন্দেহভাজন হিসেবে রুম্পার বন্ধু আবদুর রহমান সৈকতকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদে মেলেনি তেমন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, ঘটনার দিন বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রুম্পা বাসার নিচে জুতা পরিবর্তন করে। আট বছর বয়সী চাচাতো ভাইয়ের কাছে মোবাইল, ঘড়ি, আংটি, ভ্যানিটি ব্যাগ এবং স্বর্ণালঙ্কার দিয়ে তিনি বেরিয়ে পড়েন। কেন তিনি সেদিন এসব বাসায় রেখে যান- এ বিষয়টি নিয়েও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। এই প্রশ্নের উত্তর এখনও মিলছে না।

রুম্পার লাশ দেখে ধারণা করা হয়েছিল, তাকে ধর্ষণের পর ওপর থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ যে প্রতিবেদন দিয়েছে, তাতে দেখা যায়– রুম্পাকে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। এই প্রতিবেদনের পর মামলা নতুন মোড় নেয়।

রুম্পার লাশ উদ্ধারের আগের চার ঘণ্টা তিনি কোথায় ছিলেন এটি নিয়েও সংশয় দূর হয়নি। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত জানতে পারেননি তদন্তসংশ্লিষ্টরা। ওই সময়ে কী হয়েছিল, সেটি উদ্ঘাটন করা না গেলে রুম্পার মৃত্যুর রহস্যভেদ করা সম্ভব নয়। এই সময়ের হিসাব মেলানোর মতো কোনো ক্লু এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ফলে এখনও অন্ধকারে পুলিশ।

তদন্তসংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, ঘটনার দিন সকাল থেকে রুম্পা কী কী কাজ করেছিলেন, কোথায় কোথায় গিয়েছিলেন- এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। সেদিন রুম্পার সঙ্গে সৈকতের দেখা হয়েছিল। প্রেমের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে সৈকতের সঙ্গে রুম্পা কথাও বলেছিল। বিকাল ৪টায় সৈকতের সঙ্গে তার দেখা হয় সিদ্ধেশ্বরী এলাকায়।

ওই সময় তাদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হয়। তার পর আড়াই ঘণ্টা রুম্পা কোথায় ছিলেন, কী করেছিলেন- এ বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে ওই দিন সাড়ে ৬টার পর থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত রুম্পার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

ডিবির রমনা অঞ্চলের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) শামসুল আরেফিন যুগান্তরকে বলেন, রুম্পার মৃত্যুরহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে সৈকত নামে রুম্পার এক বন্ধুকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ৪ ডিসেম্বর রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী সার্কুলার রোডের ৬৪/৪ বাসার সামনে অজ্ঞাত ২০-২২ বছর বয়সী এক নারী উপুড় অবস্থায় পড়েছিলেন। তখন স্থানীয় লোকজন মৃতদেহটি ওড়না দিয়ে ঢেকে রাখেন। অজ্ঞাত আসামি ওই নারীকে ঘটনাস্থলের আশপাশের তিনটি ভবনের যেকোনো একটি ভবন থেকে নিচে ফেলে দেন বলে মামলায় বলা হয়।

এর পর পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে। লাশের ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। থানা পুলিশ প্রথমে মামলাটি তদন্ত করলেও পরবর্তী সময়ে তদন্তভার ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়। তদন্তকালে অজ্ঞাত ওই নারীর পরিচয় মেলে।

ওই তরুণীর নাম রুবাইয়াত শারমিন। তিনি স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। মালিবাগের শান্তিবাগে মা ও ভাইয়ের সঙ্গে থাকতেন ভাড়া বাসায়। তার বাবা রোকনউদ্দিন হবিগঞ্জ জেলার একটি ফাঁড়িতে পুলিশ পরিদর্শক পদে কর্মরত। চাকরির সুবাদে রোকনউদ্দিন হবিগঞ্জেই থাকেন।

লাশটি পাওয়ার পর ধারণা করা হচ্ছিল– আশপাশের কোনো ভবন থেকে পড়ে যাওয়াই রুম্পার মৃত্যুর কারণ। কিন্তু পরে সুরতহাল প্রতিবেদন ও ময়নাতদন্ত শেষে পুলিশসহ সংশ্লিষ্টদের ধারণা হয় রুম্পা মৃত্যুর আগে ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন।

এ ঘটনায় শনিবার রুম্পার প্রেমিক আবদুর রহমান সৈকতকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি অপর একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সিআইডি নিয়ে গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।

রুম্পার সুরতহাল প্রতিবেদন বলছে, তার মেরুদণ্ড, বাঁ হাতের কনুই ও ডান পায়ের গোড়ালি ভাঙা। মাথা, নাক, মুখে জখম এবং রক্তাক্ত অবস্থায় ছিল। বুকের ডান দিকে ক্ষতচিহ্ন রয়েছে।

রমনা বিভাগের পুলিশের সহকারী কমিশনার এসএম শামীম যুগান্তরকে বলেন, ‘ঘটনাস্থলের আশপাশের ভবন থেকে একটি সিসিটিভির ফুটেজ উদ্ধার করা হয়েছে। সেখানে সন্ধ্যা ৬টা ৪৭ মিনিটে রুম্পাকে একটি ভবনে প্রবেশ করতে দেখা গেছে। তিনি আরও জানান, ফুটেজে রাত পৌনে ১১টায় ভবনের ওপর থেকে তাকে পড়ে যেতে দেখা যায়। পুলিশের ওই কর্মকর্তা আরও জানান, যে ভবন থেকে রুম্পা পড়েছিল, ওই ভবনের তৃতীয় তলায় ছাত্রদের একটি মেস রয়েছে। ঘটনার পর পরই সেখানে গিয়ে মেসটি বন্ধ পাওয়া গেছে।

রুম্পার পারিবারিক সূত্র জানায়, তিনি দুটি টিউশনি করে বুধবার সন্ধ্যায় বাসায় ফেরেন। পরে তিনি কাজ আছে বলে বাসা থেকে বের হন। বাসা থেকে নিচে নেমে তার ব্যবহৃত মুঠোফোন ও পরা স্যান্ডেল বাসায় পাঠিয়ে দিয়ে এক জোড়া পুরনো স্যান্ডেল পায়ে দিয়ে তিনি বেরিয়ে যান। কিন্তু রাতে আর বাসায় ফিরেননি। স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান পাননি। বৃহস্পতিবার রুম্পার মাসহ স্বজনরা রমনা থানায় গিয়ে লাশের ছবি দেখে তাকে শনাক্ত করেন।