ধর্ষণের পর ঢাবি ছাত্রীর কাছে ৫০০ টাকা চায় মজনু

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৩ জানুয়ারি ২০২০, ১৬:৩৪:১০ | অনলাইন সংস্করণ

রাজধানীর কুর্মিটোলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় গ্রেফতার ভবঘুরে মজনু ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখাকে (ডিবি) সে জানিয়েছে, ধর্ষণের পর ওই ছাত্রীর কাছ থেকে ৫০০টাকা দাবি করে সে।

মজুন জানিয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ছাত্রীকেও ভবঘুরে ভেবে ধর্ষণ করে সে। এতে বাধা পেয়ে তার ওপরও শারীরিক নির্যাতন চালায়।

ডিবির জিজ্ঞাসাবাদে মজনু বলেছে, ধর্ষণের পর ওই তরুণীর কাছে সে ৫০০ টাকা দাবি করে। মেয়েটি তার ব্যাগে টাকা আছে জানালে মজনু অন্ধকারে ব্যাগ খুঁজতে থাকে। একপর্যায়ে ব্যাগ পাওয়ার পর ভেতরে টাকা খুঁজতে থাকে সে। আর এই ফাঁকে মেয়েটি ছুটে পালায় ঘটনাস্থল থেকে।

মজনুর স্বীকারোক্তির সূত্রে গোয়েন্দা কর্মকর্তা আরও জানান, মজনু পেছন থেকে মুখ চেপে ধরে ঝোঁপের আড়ালে নেয়ার সময় বাঁচার আকুতি জানায় ঢাবির ওই ছাত্রী। কিন্তু রাস্তায় চলাচলকারী দ্রুতগতির যানবাহনের শব্দে তা ঢাকা পড়ে যায়। এ সুযোগ নিয়ে মজনু আরও বেপরোয়া আচরণ শুরু করে। একসময় নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষায় নাটকীয় সংলাপ, অঙ্গভঙ্গি ও খিস্তি-খেউড় করতে থাকে। এতে ওই তরুণী হতবিহ্বল হয়ে পড়েন, হয়ে পড়েন চরম বিপর্যস্ত। এ পর্যায়ে কিছুটা সময় অচেতন ছিলেন তিনি। চেতনা ফিরে পাওয়ার পর বেহুঁশ হওয়ার ভান ধরে পালানোর পথ খুঁজতে থাকেন। কিন্তু মজনুর ভয়ঙ্কর আচরণে সাহস হারিয়ে ফেলে হতবিহ্বল হয়ে পড়েন ফের। পরে তাকে ধর্ষণ করা হয়।

হত্যার হুমকি দিয়ে আগেও বহু নারীকে ধর্ষণ করেছে বলেও তথ্য দিয়েছে মজনু। গ্রেফতারের পর র‌্যাব জানায়, মজনু একজন সিরিয়াল রেপিস্ট। মজনু আগে থেকেই ওঁৎ পেতে ছিল ঘটনাস্থলে। ঢাবি ছাত্রীকে জোরপূর্বক সেখান থেকে ধরে নিয়ে যায় সে। এর পর ঝোপের এক পাশে নিয়ে পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়। এর আগেও একই জায়গায় কয়েকজন নারীকে ধর্ষণ করে সে।

একই জায়গায় মজনু এ ধরনের অপরাধ করেছে। প্রতিবন্ধী, ভিক্ষুকসহ বিভিন্ন নারীকে সে আটকে রেখে ধর্ষণ করত। তাদের হত্যার হুমকিও দিত। মজনু স্বীকার করেছে ঘটনার সময় সে একাই ছিল, ভিকটিমও তেমনই বলেছে।

মজনু এখন সাত দিনের ডিবি হেফাজতে রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, মজনু তার পাল্লায় পড়া নারীদের ধর্ষণে বাধা পেলে চরম মারধর করত সে।

উল্লেখ্য, ৫ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৭টার দিকে রাজধানীর কুর্মিটোলা হাসপাতাল এলাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের ওই ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হন।

জানা যায়, বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে করে শেওড়ায় বান্ধবীর বাসায় যাচ্ছিলেন ওই ছাত্রী। সন্ধ্যা ৭টার দিকে তিনি ভুল করে কুর্মিটোলায় বাস থেকে নামার পর এক ব্যক্তি তার মুখ চেপে ধরে পাশের নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে তাকে অজ্ঞান করে ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতন করেন।

রাত ১০টার দিকে জ্ঞান ফিরলে তিনি বিষয়টি বুঝতে পারেন। পরে সেখান থেকে অটোরিকশায় করে বাসায় ফেরার পর রাত ১২টার দিকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় ক্যান্টনমেন্ট থানায় ওই ছাত্রীর বাবার দায়ের করা মামলায় মজনুকে মঙ্গলবার গ্রেফতার দেখানো হয়।

গ্রেফতারের পর র‌্যাব জানায়, মজনু একজন সিরিয়াল রেপিস্ট। মজনু আগে থেকেই ওঁৎ পেতে ছিল ঘটনাস্থলে। ঢাবি ছাত্রীকে জোরপূর্বক সেখান থেকে ধরে নিয়ে যায় সে। এর পর ঝোপের এক পাশে নিয়ে পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়। এর আগেও একই জায়গায় কয়েকজন নারীকে ধর্ষণ করে সে।

একই জায়গায় মজনু এ ধরনের অপরাধ করেছে। প্রতিবন্ধী, ভিক্ষুকসহ বিভিন্ন নারীকে সে আটকে রেখে ধর্ষণ করত। তাদের হত্যার হুমকিও দিত। মজনু স্বীকার করেছে ঘটনার সময় সে একাই ছিল, ভিকটিমও তেমনই বলেছে।

ঘটনাপ্রবাহ : ঢাবি ছাত্রীকে ধর্ষণ

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত