এগারো নারী কর্মীর ৩৬টি ভিডিও ধারণ করে সজীব

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৮ জানুয়ারি ২০২০, ২১:২১ | অনলাইন সংস্করণ

এগারো নারী কর্মীর ৩৬টি ভিডিও ধারণ করে সজীব
সিরাজুল ইসলাম সজীব। ছবি: সংগৃহীত

আড়ংয়ের ১১ নারীর পোশাক পরিবর্তনের ৩৬টি দৃশ্য ভিডিও করেছেন প্রতিষ্ঠানটির সাবেক সেলসম্যান সিরাজুল ইসলাম সজীব (২২)। মঙ্গলবার আদালতে ১৪৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সজীব নিজেই বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।

পুলিশ জানায়, আড়ংয়ের বনানী শাখায় কর্মরত এক নারী ১৬ জানুয়ারি বনানী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন ১১ জানুয়ারি রাতে তার সাবেক সহকর্মী সিরাজুল ইসলাম সজীব তার ম্যাসেঞ্জারে একটি ভিডিও দেখতে বলেন। সীমান্ত সৈকত নামের ওই ফেসবুক আইডি থেকে পাঠানো একটি ভিডিওটিতে তার পোশাক পরিবর্তনের দৃশ্য দেখা যায়। এরপর সজীব তাকে ভিডিও কলে শরীর দেখাতে বলে। এতে রাজি না হওয়ায় ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেড়ে দেয়ার হুমকি দেয়া হয়। এরপর ওই ঘটনার তদন্তে নামে বানানী থানা পুলিশ।

এ ঘটনার আগ থেকেই ভোরের শিশির নামে অপর একটি ফেসবুক আইডি থেকে আরও কয়েকজন নারীর পোশাক পরিবর্তনের ভিডিও ভাইরাল হয়। এ ঘটনায় অন্তত দুই নারী পুলিশের সাইবার সিকিউরিটি সেলে এসে অভিযোগ করেন। ওই ঘটনার তদন্তে নামেন সাইবার সিকিউরিটি সেলের কর্মকর্তারা। এর মধ্যে তারা বনানীর বিষয়টিও আমলে নেন। একপর্যায়ে দেখা যায় ভোরের শিশির ও সীমান্ত সৈকত নামে ফেসবুক আইডির ফুটেজগুলো একই পজিশন থেকে তোলা এবং সবাই আড়ংয়ের নারী কর্মচারী। পরে পুলিশ সজীবকে গ্রেফতারে মাঠে নামে।

সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার নাজমুল ইসলাম বলেন, ভোরের শিশির নামে একটি ফেসবুক আইডির মালিককে আমরা সন্ধান করছিলাম। এ সময়ে আরও কয়েকজন নারী আমাদের কাছে পোশাক পরিবর্তনের দৃশ্য ধারণ করে ফেসবুকে ও ম্যাসেঞ্জারে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ করেন। এরপর আমরা তদন্তের আরও গভীরে গিয়ে দেখতে পাই অপরাধী একজনই। পরে ২৫ জানুয়ারি তাকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ বাদী হয়ে এ ঘটনায় বানানী থানায় মামলা করেছে। মঙ্গলবার সজীব আদালতে ১৪৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে সজীব তার অপরাধ স্বীকার করেছে। সে এ পর্যন্ত বনানী আড়ং শাখার ১১ নারী সহকর্মীর ৩৬টি ভিডিও ধারণ করেছে। তার সবগুলোই উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এ পর্যন্ত ৪ নারী তাদের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। সেগুলোও মামলার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হবে।

সূত্র মতে, ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সজীব বনানী আড়ং-এ সেলসম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সে সময় চতুর্থতলার কর্মচারী চেঞ্জ রুমের বাইরে দাঁড়িয়ে সেলফি স্টিক দিয়ে মোবাইল ক্যামেরার মাধ্যমে নারী কর্মচারীদের ইউনিফর্ম পরিবর্তন করার ভিডিও ধারণ করতেন। বিষয়টি জানাজানি হলে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়।

শনিবার দুপুরে সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম বিভাগের সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিং টিমের সদস্যরা অভিযান চালিয়ে কাফরুল থানার পূর্ব শেওড়াপাড়ার মনিপুর স্কুলের সামনে থেকে সিরাজুল ইসলাম সজীবকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার সজীবের বাবা মৃত নূরে আলম স্বপন মুন্সী। গ্রামের বাড়ি ভোলার চরফ্যাশন থানার আমিনাবাদে। বর্তমানে তিনি ১০৯৮ পূর্ব শেওড়াপাড়ার একটি বাসায় বসবাস করতেন।

গ্রেফতারের সময় সজীবের কাছ থেকে একটি রেডমি ৫ প্লাস ফোনসেট জব্দ করা হয়। ওই মোবাইলে তার নিজের ফেসবুক আইডি লগইন অবস্থায় পাওয়া যায়।

আড়ংয়ের চিফ অপারেটিং অফিসার আশরাফুল আলম জানান, একজন বিক্রয় প্রতিনিধির ১৬ জানুয়ারি বনানী থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা মামলার ব্যাপারে আমরা অবহিত আছি। এই মামলাটি দায়ের করার ব্যাপারে অভিযোগকারীকে শুরু থেকেই সহায়তা দেয়া হচ্ছে। আড়ং যৌন হয়রানিমূলক যে কোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নীতিগতভাবে সর্বদা কঠোর অবস্থানে থাকে।এরই ধারাবাহিকতায় বনানী আউটলেটের সাবেক বিক্রয় প্রতিনিধি সিরাজুল ইসলাম সজীবের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে একজন সহকর্মীর যৌন হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অভ্যন্তরীণ তদন্তের পর ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। চলমান মামলাটির কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষকে আমাদের পক্ষ থেকে সার্বিক সহায়তা করা হচ্ছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

 
×