বিমান দুর্ঘটনার তদন্ত যেভাবে করা হয়, দায়িত্ব কার?

  যুগান্তর ডেস্ক ১৪ মার্চ ২০১৮, ০৯:২৩ | অনলাইন সংস্করণ

বিমান দুর্ঘটনা

নেপালের কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশ বিমান পরিবহন সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমান দুর্ঘটনার ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে, কিন্তু বিমান দুর্ঘটনার তদন্ত কীভাবে হয়?

কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারদের সঙ্গে দুর্ঘটনাকবলিত ফ্লাইটের পাইলটের কথোপকথনের একটি রেকর্ড ইউটিউবে ছড়িয়ে পড়ার পর দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে নানা জল্পনা চলছে।

কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সোমবারের দুর্ঘটনার তদন্তে এই কথোপকথন ছাড়াও নানা দিক খুঁটিয়ে দেখা হবে।

ভারতের এক্সিকিউটিভ পাইলট ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট এবং বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞ ভি কে ভাল্লাহ বলেছেন, দুর্ঘটনার পর প্রধানত দুটি দিক দেখা হয়- যন্ত্র বিকল হয়েছিল, নাকি মানুষের ভুল হয়েছিল। সাধারণত যন্ত্রের কারণেই অধিকাংশ বিমান দুর্ঘটনা হয়।-খবর বিবিসি অনলাইন।

তিনি বলেন, তদন্ত শুরু করা হয়- বিমান উড্ডয়ন করারও অনেক আগের ঘটনাপ্রবাহ থেকে। ফ্লাইটের আগে পাইলটকে কী ব্রিফ করা হয়েছিল, আগের দিনগুলোতে ওই বিমানে কোনো ত্রুটি কখনও ধরা পড়েছিল কিনা। ধরা পড়লে সেটি শুধরানো হয়েছিল কিনা। বিমান ওভারলোড ছিল কিনা... ইত্যাদি বহু কিছু। সংশ্লিষ্ট বহু মানুষের সঙ্গে কথা বলা হয়।

কিন্তু তদন্তের প্রধান দুটি সূত্র- ব্ল্যাকবক্স এবং ফ্লাইই ডেটা রেকর্ডার (এফডিআর)। ইউএস-বাংলা বিধ্বস্ত ফ্লাইটের ধ্বংসাবশেষ থেকে এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রই উদ্ধার করা হয়েছে।

বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান এয়ার কমোডর ইকবাল হোসেন বলেন, দুর্ঘটনার আগের সব কথোপকথন বা যান্ত্রিক গোলমালের সব তথ্য জমা থাকে এ দুটিতে।

তিনি বলেন, আগুনে পুড়লেও এগুলো নষ্ট হয় না এবং প্রধানত এ দুটি যন্ত্র থেকে পাওয়া তথ্য থেকে বিমান দুর্ঘটনার কারণ নির্ণয় করা হয়।

ইকবাল হোসেন বলেন, ব্ল্যাকবক্স থেকে তথ্য বের করার সক্ষমতা অধিকাংশ দেশের এখনও নেই। সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাউ) সহায়তা নিয়ে থাকে।

তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় বিমান চলাচল সংস্থা এফএএ এসব ব্যাপারে সাহায্য করে থাকে।

কমোডর ইকবাল বলেন, যেহেতু বাংলাদেশ এবং নেপালের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের এ ধরনের সক্ষমতা নেই, সুতরাং তারা হয়তো ব্লাকবক্স আইকাও বা এফএএর কাছে নিয়ে যাবে।

তদন্তের দায়িত্ব কার?

কমোডর ইকবাল বলেন, দুর্ঘটনার কারণ নির্ণয়ের প্রধান দায়িত্ব যে দেশে দুর্ঘটনা ঘটে এবং যে দেশের বিমান সেই দুই দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের। সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলার এবং ব্ল্যাকবক্স বা এফডিআরের তথ্য জানার অধিকার প্রধানত তাদেরই থাকে।

তিনি জানান, প্রতিটি দেশের বেসামরিক চলাচল কর্তৃপক্ষেরই বিশেষ একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি থাকে, যাদের প্রধান দায়িত্ব দুর্ঘটনা হলে তার তদন্ত করা।

পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিমান পরিবহন সংস্থা, বিমান নির্মাণ প্রতিষ্ঠান বা বীমা কোম্পনিগুলো নিজেরাও দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করে।

কিন্তু দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের প্রধান দায়িত্ব নিজ নিজ দেশের বিমান পরিবহন নিয়ন্ত্রক সংস্থার।

ঘটনাপ্রবাহ : নেপালে ইউএস বাংলা বিধ্বস্ত

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.