‘ঝাঁকুনির পর বিকট এক শব্দ, এরপর আর কিছু মনে নেই’

  যুগান্তর ডেস্ক ১৪ মার্চ ২০১৮, ১৮:৪৪ | অনলাইন সংস্করণ

নেপালে বিমান বিধ্বস্ত
নেপালে বিমান বিধ্বস্তে আহত কেশব পান্ডে

নেপালের ত্রিভুবন বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলার একটি বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় আহত হয়েছেন অনেকেই। এর মধ্যে প্রাণে বেঁচে গেছেন বাংলাদেশে আসা নেপালের একটি ট্রাভেল এজেন্সির অপারেটর কেশব পান্ডে। বর্তমানে তিনি নেপালের ললিতপুরে মেডিসিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

গত ৯ মার্চ বাংলাদেশে কাস্টমার সাকসেস সামিট নামের একটি সম্মেলনে যোগ দিতে এসেছিলেন তিনি। নেপাল থেকে কেশবের সঙ্গে বাংলাদেশে এসেছিলেন আরও ১১ জন ট্রাভেল এজেন্সি অপারেটর এবং ইউএস-বাংলা বিমানের দুই প্রতিনিধি। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার আগে ও পরের ঘটনার বিবরণ দেন তিনি।

কেশব পান্ডে বলেন, ‘ব্যবসায়িক অংশীদার হিসেবে আমরা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স আয়োজিত সম্মেলনে অংশ নিতে বাংলাদেশে রওনা করেছিলাম। কক্সবাজারে অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরপরই আমাদের দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু আমরা আরও একটা দিন বেশি থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।’

কেশব জানান, ট্রাভেল এজেন্সির ১২ বন্ধুর মধ্যে ১০ জন বাংলাদেশে থেকে গিয়েছিলেন। এর মধ্যে দুজন ছিলেন ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের কর্মী। আর দুই বন্ধু আগের দিনই অর্থাৎ ১১ মার্চ নেপাল ফিরে যায়।

১২ মার্চ সোমবার তাদের বহনকারী বিমানটি যথাসময়ে উড্ডয়ন করেছিল বলে জানান কেশব। তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই বিমানে উঠলাম এবং সামনের দিকের সিটে বসলাম। বিমানে অনেক নেপালি যাত্রী ছিলেন। এমবিবিএস কোর্স শেষ করা অনেক শিক্ষার্থীও ওই বিমানে করে বাড়ি ফিরছিল। নিউরোসার্জন বল কৃষ্ণ থাপাও একই বিমানে ছিলেন। পাশাপাশি অনেক পর্যটকও ছিলেন।’

প্রসঙ্গত, বল কৃষ্ণ থাপাও ওই দুর্ঘটনায় প্রাণে বেঁচে গেছেন। তাকেও নেপালের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

নেপালে বিধ্বস্ত বিমান

বিমানের রুট পরিবর্তন নিয়ে কেশব বলেন, ‘যখন বিমানটি কাঠমান্ডু ভ্যালিতে প্রবেশ করল তখন এটি অবতরণের জন্য কোটেশ্বরের দিকের রুটটি ব্যবহারের কথা ছিল। কিন্তু এটি অন্য আরেকটি রুটে গেলো এবং বিমানবন্দর খুঁজে পাচ্ছিলেন না। আমরা ভাবলাম, পাইলট এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ারের নির্দেশনাই অনুসরণ করছে।’

কেশব জানান, বুধানিলকন্ঠ এবং বৌদ্ধ এলাকাগুলোতে অবস্থিত পাহাড়ের ওপর দিয়ে চালিয়ে নিয়ে এরপর বিমানটিকে বিমানবন্দরের দিকে ঘোরান পাইলট। বিমানটি ঘরবাড়ি এবং গাছের খুব কাছ দিয়ে উড়ছিল। এতে যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল।

‘আমরা তখনই অনুভব করলাম আমাদের জীবন ঝুঁকিতে আছে। তবে পাইলট যখন বিমানটিকে দিশাহীন পথ থেকে বের করে বিমানবন্দরের দিকে ঘোরালো তখন আমরা ভাবলাম প্রাণে বেঁচে যাব।’

কেশব বলেন, সে আশা মুহূর্তের মধ্যে নিভে গেল। অবতরণের দুই মিনিট আগে আমরা আশাবাদী হয়ে উঠলাম। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই বিমানটি ঝাঁকুনি খেল এবং বিকট এক শব্দ হলো। এতটুকুই আমার মনে আছে। পরে আর কিছু মনে নাই। কিছুক্ষণ পর আমি নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করছিলাম। পেট্রল বের হচ্ছিল এবং বিমান ধোঁয়ায় ছেয়ে গেল। বিধ্বস্ত বিমান থেকে বের হয়ে আসার চেষ্টা করছিলাম আমি কিন্তু পায়ে আঘাত পাওয়ার কারণে পারছিলাম না।

‘এরই মধ্যে নেপালের সেনাবাহিনী আমাকে হামাগুড়ি দেয়া অবস্থায় দেখতে পেল। উদ্ধার করে সিনামঙ্গলভিত্তিক কাঠমান্ডু মেডিকেল কলেজে নেয়া হলো আমাকে। পরে আমার পরিবারের সদস্যরা আমাকে চিকিৎসার জন্য মেডিসিটি হাসপাতালে নিয়ে গেল।’

ভয়াবহ ওই বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিজে প্রাণে বেঁচে গেলেও অনেক পর্যটন উদ্যোক্তা, সম্প্রতি পড়াশোনা শেষ করা চিকিৎসক এবং পর্যটকরা নিহত হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন কেশব পান্ডে। আক্ষেপ করে তিনি বলেন,‘জীবিত থাকার আশা আমি ছেড়ে দিয়েছিলাম। অনেক বন্ধুকে হারানোর মধ্য দিয়ে আমি নতুন জীবন পেয়েছি।’

সূত্র: নেপালি সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্ট

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter