কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা

প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০১৮, ২২:০৯ | অনলাইন সংস্করণ

  ঢাবি প্রতিনিধি

কোটা সংস্কারের দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীরা। বুধবারের তোলা ছবি

কোটা সংস্কারের দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ হামলার প্রতিবাদে আগামী রোববার দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবেন আন্দোলনকারীরা। এদিন সকাল ১০টায় দেশের সব কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় ও জেলা শহরে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হবে। 

বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন কোটা সংস্কার আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন, যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হাসান ও মো. রাশেদ খান। এ সময় তারা কোটা সংস্কার আন্দোলনের সুনির্দিষ্ট ৫ দফা দাবি তুলে ধরেন। ৫ দফা দাবি হলো- কোটা ব্যবস্থার সংস্কার করে ৫৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশে নিয়ে আসা; কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে খালি থাকা পদগুলোতে মেধাবীদের নিয়োগ দেয়া; কোনো ধরনের বিশেষ পরীক্ষা না নেয়া; সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে সবার জন্য অভিন্ন বয়সসীমা এবং চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় কোটা সুবিধা একবারের বেশি ব্যবহার না করা।

এ সময় হাসান আল মামুন বলেন, বুধবার আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই হামলা চালিয়েছে। আমরা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় অভিমুখে রওনা দিয়েছিলাম। কিন্তু হাইকোর্টের সামনে গেলে পুলিশি বাধার সম্মুখীন হই। তখন আমরা সেখানে অবস্থান নিয়ে একপর্যায়ে ১০ জনের একটি প্রতিনিধিদল যখন মন্ত্রণালয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম ঠিক তখনই পুলিশ আমাদের কর্মসূচিতে টিয়ার শেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে। আটক করা হয় ৩ জনকে। এরপর আমরা ৫০-৬০ জন আটকদের ছাড়াতে রমনা থানায় গেলে পুলিশ আমাদেরও আটক করে। দুপুরে আটকের পর থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত আমাদের একটু পানিও দেয়নি তারা।

ফারুক হাসান বলেন, আমরা বঙ্গবন্ধুর অহিংস আন্দোলনে বিশ্বাসী। আমাদের আন্দোলন ছিল শান্তিপূর্ণ। কিন্তু পুলিশ বিনা উসকানিতে আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে, যা অপ্রত্যাশিত। অহিংস আন্দোলনে এ ধরনের হামলায় আমরা মর্মাহত ও ব্যথিত হয়েছি।

এর আগে ১৭ ফেব্রুয়ারি কোটা সংস্কারের দাবিতে শাহবাগে মানববন্ধন করেন চাকরিপ্রত্যাশীরা। পরে আবার ২৫ ফেব্রুয়ারি মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেন তারা। ৩ মার্চের মধ্যে এই সমস্যার সমাধান দাবি করে। সমাধান না হওয়ায় আবার আন্দোলনে নেমেছেন তারা। এই সময়ে দাবি পূরণ না হওয়ায় ৪ মার্চ রাজধানীর শাহবাগে কোটা সংস্কার চেয়ে বিক্ষোভ অবস্থান কর্মসূচি পালন করে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশী। দাবি আদায়ে ১৪ মার্চ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি ও স্মারকলিপি প্রদানের ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা। পাশাপাশি ওইদিন সারা দেশের সব জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয়ার কথা ছিল তাদের। কিন্তু ঢাকা শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে টিয়ার শেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে পুলিশ। এতে ১৬ জন আহত হয় এবং ৬৩ জনকে আটক করা হয়। পরে দেশব্যাপী ছাত্র বিক্ষোভের মুখে রাত ৯টার দিকে তাদের ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় পুলিশ।