নেপালে বিমান দুর্ঘটনা

নিহতদের মরদেহ দেখতে পারবেন স্বজনরা

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৮ মার্চ ২০১৮, ০৯:১২ | অনলাইন সংস্করণ

বিমান দুর্ঘটনা

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে ইউএস-বাংলার বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ২৮ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৭ বাংলাদেশি, ১০ নেপালি ও একজন চীনা নাগরিক রয়েছেন।

শনাক্ত হওয়া লাশগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যে স্বজনদের দেখানোর ব্যবস্থা করা হবে। নেপালি ও চীনা নাগরিকের মরদেহ স্বজনদের দেখানোর পর বাংলাদেশি নাগরিকদের মরদেহ দেখানোর ব্যবস্থা করা হবে।

শনিবার সন্ধ্যায় নেপালের ত্রিভুবন ইউনিভার্সিটি টিচিং হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের পক্ষ থেকে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানা যায়। সেখানে মরদেহগুলোর পরিচয় প্রকাশ করা হয়।

এ সময় হাসপাতালটির ফরেনসিক বিভাগের প্রধান প্রমোদ শ্রেষ্ঠা এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান সোহেল মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।

শনাক্ত হওয়া বাংলাদেশিদের তালিকা প্রেস ব্রিফিংয়ে পড়ে শোনান ডা. সোহেল মাহমুদ। তারা হলেন- পাইলট আবিদ সুলতান, কো-পাইলট পৃথুলা রশীদ ও ক্রু খাজা হোসেন মো. শফি। যাত্রীদের মধ্যে রয়েছেন- ফয়সাল আহমেদ, বিলকিস আরা, মোসাম্মৎ আখতারা বেগম, মো. রকিবুল হাসান, সানজিদা হক, মো. হাসান ইমাম, মিনহাজ বিন নাসির, শিশু তামারা প্রিয়ন্ময়ী, মো. মতিউর রহমান, এসএম মাহমুদুর রহমান, তাহিরা তানভীন শশী রেজা, শিশু অনিরুদ্ধ জামান, মো. নুরুজ্জামান ও মো. রফিকুজ জামান।

মরদেহগুলোর পরিচয়ের তালিকা শনিবার দেয়ার খবরে হাসপাতালের সামনে ভিড় করেন নিহতের স্বজনরা। ব্রিফিংয়ের সময়ও তারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় নেপালিরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তারা সবার লাশ শনাক্তের দাবি জানান। তদন্তে সহযোগিতা করতে বাংলাদেশ থেকে একটি বিশেষজ্ঞ দল আজ নেপালে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, বাকি লাশের পরীক্ষা-নিরীক্ষা আজ করা হবে। আরও তিন-চারটি লাশ শনাক্ত হতে পারে। শনাক্ত হওয়া বাংলাদেশিদের লাশ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করতে মঙ্গলবারের মধ্যে দেশে আনার ব্যবস্থা করা হবে। তবে যেসব লাশ শনাক্ত করতে ডিএনএ পরীক্ষার প্রয়োজন হবে সেসব লাশ দেশে আনতে আরও অন্তত দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের সহযোগী অধ্যাপক হোসাইন ইমাম শনিবার কাঠমান্ডুতে সাংবাদিকদের বলেন, বিমান বিধ্বস্তে আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসায় এখানে কোনো ঘাটতি ছিল না। আন্তরিকতার সঙ্গে যথাসম্ভব সেবা দেয়া হয়েছে। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যে তারা (চিকিৎসকরা) সঠিক চিকিৎসা দেয়ার যথাসম্ভব চেষ্টা করেছেন। যখন যেটা দরকার, তখন তারা সেটা করেছেন।

আহত বাংলাদেশি যাত্রীদের মধ্যে রয়েছেন- মো. রেজওয়ানুল হক, শাহরিন আহমেদ, মেহেদি হাসান, সাঈদা কামরুন্নাহার স্বর্ণা, আলমুন নাহার অ্যানি, শেখ রাশেদ রুবায়েত, মো. শাহীন বেপারি, মো. কবীর হোসেন, ইয়াকুব আলী ও ইমরানা কবীর হাশি। তাদের মধ্যে এ পর্র্যন্ত ছয়জন কাঠমান্ডু ছেড়েছেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য ইমরানা কবীর হাশি ও রেজওয়ানুল হককে সিঙ্গাপুর নেয়া হয়েছে। এ ছাড়া শাহরিন আহমেদ, আলমুন নাহার অ্যানি, কামরুন্নাহার স্বর্ণা ও মেহেদি হাসানকে ঢাকায় আনা হয়েছে।

বর্তমানে কাঠমান্ডু মেডিকেল কলেজ (কেএমসি) হাসপাতাল ও নরভিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ইয়াকুব আলী, কবির হোসেন এবং শাহীন বেপারি। ইয়াকুব আলী মাথায় আঘাত পেয়েছেন। তবে তার অবস্থা স্থিতিশীল। তাকে দিল্লির অ্যাপোলো হাসপাতালে পাঠানোর বিষয়ে কথা চলছে। কবির হোসেনের অবস্থা সংকটাপন্ন।

সোমবার নেপালের কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়। তখন সেটিতে আগুনও ধরে যায়। উড়োজাহাজের ৭১ আরোহীর মধ্যে ৫১ জন নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বিমানের পাইলট, কো-পাইলট ও দু’জন ক্রুসহ বাংলাদেশের ২৬ জন, নেপালের ২৪ জন এবং চীনের একজন রয়েছেন। আর আহতদের মধ্যে আছেন বাংলাদেশি ১০ জন, নেপালের ৯ এবং মালদ্বীপের একজন।

ঘটনাপ্রবাহ : নেপালে ইউএস বাংলা বিধ্বস্ত

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter