শিশু প্রিয়ন্ময়ীর স্মৃতি হাতড়ানো ফারুকের বাড়ি

  শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি ২০ মার্চ ২০১৮, ১৯:৪২ | অনলাইন সংস্করণ

প্রিয়ন্ময়ী

ঘরভর্তি মানুষ। নিচতলা, দোতলা, সিঁড়ি সব জায়গাতেই মানুষের আনাগোনা। কেউ চোখের জল মুছছেন আবার কেউ আফসোস করছেন নানা ভাষায়। বাড়িজুড়ে যারা থাকার কথা ছিল তারাই শুধু নেই। মঙ্গলবার গাজীপুরের শ্রীপুরের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কঘেঁষা নগরহাওলা গ্রামের ফারুক হোসেন প্রিয়ক (এফ এইচ প্রিয়কের) দোতলা বাড়িটির দৃশ্যপট ছিল এ রকমই।

নেপালে বিমান দুর্ঘটনার আট দিনের মাথায় সোমবার রাত ৮টার দিকে ফারুক হোসেন প্রিয়ক, শিশুকন্যা তামাররা প্রিয়ক প্রিয়ন্ময়ী বাড়িতে প্রবেশ করে কফিনবন্দি হয়ে।

জৈনা বাজারের মুদি ব্যবসায়ী আকতার হোসেন বলেন, হৃদয়ের টানে ফারুকের স্বজনদের দেখতে এসেছিলেন এ বাড়িতে। তিনি বলেন, ১২ মার্চের পর থেকে এ বাড়িতে বেশ কয়েকবার এসেছি। এ বাড়ির প্রতিটি দেয়ালে যেন বেদনার রং লেগে আছে। ফারুক বেঁচে থাকাবস্থায়ও তাদের বাড়িতে আসতাম। তার মেয়ে তামাররা প্রিয়ন্ময়ী বাড়িটি জাগিয়ে রাখত। সবাই কেবলই মেয়েটির কথা বলছে বারবার। এ বাড়ির কঠিন শোক থেকে বেরিয়ে আসার কোনো অবলম্বনই এখন আর বাকি রইল না। প্রিয়ন্ময়ী তার বাবা ফারুকের পথ ধরে ওপারে চলে গেছে।

ছবি বেগম ফারুকের বাড়ির গৃহপরিচারিকা। তিনি বলেন, গত চার বছর হতে চলল এ বাড়িতে রয়েছেন। তার দেখা নানা ঘটনার বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, শিশুকন্যা প্রিয়ন্ময়ী মায়ের শাসনের নানা ধরনের অভিযোগ দাদুর কাছেই করত। প্রিয়ন্ময়ী তার দাদুর সঙ্গে সারা দিন দৌড়াদৌড়ি করে বাড়িটি মাতিয়ে রাখত। যেদিন নেপাল যাবে সেদিন বিমানে উঠার খবর শুনে আনন্দিত হয়েছিল। প্রতিদিন গোসলের সময় সে কান্নাকাটি করত। কিন্তু সেদিন গোসলের সময় হাসছিল আর কুট কুট করে বিমানে উঠার গল্প করছিল। বিমান কেমন হবে, বিমানের ভেতর কেমন থাকে ইত্যাদি।

প্রিয়ন্ময়ীর দাদি ফিরুজা বেগম বলেন, তিনি নিজ হাতে তাকে গোসল করিয়ে দিয়েছেন। প্রিয়ন্ময়ীকে আমি দাদু বলে ডাকতাম। আমার সঙ্গে এখন আর কেউ দৌড়াদৌড়ি খেলবে না, দাদু বলে প্রিয়ন্ময়ী আর আমাকে ডাকবে না বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

ফিরুজা বেগমের ভাই তোফাজ্জল হোসেন জানান, প্রিয়ন্ময়ী প্রতিটি মুহূর্ত বাড়িটি মাতিয়ে রাখত। আমরা যখন আসতাম সে দৌড়ে আসত, শুভেচ্ছা জানিয়ে আমাদের কবিতা শোনাত। সদা হাস্যোজ্জল স্বভাবের এই শিশুকন্যার স্মৃতি ঘিরে রয়েছে আজ।

তিনি বলেন, গত পাঁচ বছর আগে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে তার বোনের জামাই শরাফত আলী মারা যান। কিন্তু পাঁচ বছর পরেই আবার একটি দুর্ঘটনার মধ্য দিয়ে সব শেষ হয়ে গেল।

প্রসঙ্গত, ১২ মার্চ সোমবার নেপালে বিধ্বস্ত বিমানের যাত্রী ফারুক হোসেন প্রিয়ক ও তার শিশুকন্যা প্রিয়ন্ময়ী নিহত হয়।

নিহত প্রিয়কের চাচাতো ভাই লুৎফর রহমান সোমবার মরদেহ দুটি বাড়িতে আনার পর মঙ্গলবার সকাল ৯টায় শ্রীপুরের আব্দুল আউয়াল ডিগ্রি কলেজ মাঠ ও বেলা ১১টায় জৈনা বাজার এলাকার মাতব্বর বাড়ি মাঠে দুই দফা জানাজা শেষে প্রিয়ক ও প্রিয়ংময়ীর মরদেহ তাদের বাড়ির সামনেই দাফন করা হয়।

ঘটনাপ্রবাহ : নেপালে ইউএস বাংলা বিধ্বস্ত

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter