দুই বাসের রেষারেষিতে মৃত্যু

দুই বছরে ক্ষতিপূরণের এক টাকাও পায়নি রাজীবের পরিবার

  যুগান্তর রিপোর্ট ২০ এপ্রিল ২০২০, ১৯:৫৯:৩৯ | অনলাইন সংস্করণ

রাজীব হোসেন। ফাইল ছবি

দুই বাসের রেষারেষিতে হাত হারানো কলেজছাত্র রাজীব হোসেনের মৃত্যুর দুই বছর পার হলেও ক্ষতিপূরণের এক টাকাও পায়নি তার পরিবার। এক মাসের মধ্যে রাজীবের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা দিতে স্বজন পরিবহনকে নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ।

আইনজীবী জানান, এ পর্যন্ত ক্ষতিপূরণের এক টাকাও পায়নি রাজীবের পরিবার। আগামী জুন পর্যন্ত টাকা পরিশোধের সময় নিয়েছে স্বজন পরিবহন।

সোমবার রাজীবের খালা খাদিজা বেগম লিপি যুগান্তরকে জানান, ১৬ এপ্রিল রাজীবের মৃত্যুর দুই বছর পূর্ণ হয়েছে। কিন্তু দুই বছরেও তার ছোট দুই ভাই আদালতের নির্দেশে কোনো ক্ষতিপূরণ পায়নি। রাজীবের মৃত্যুর পর অনেকে দুই ভাইকে সাহায্যের আশ্বাস দিলেও কেউই এখন আর খবর রাখে না।

করোনার কারণে দুই ভাইসহ স্বজনরা গ্রামে অবস্থান করছেন। রাজীবের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে ঘরে বসে দোয়া করছেন তার পরিবারের সদস্যরা।

খাদিজা বেগম বলেন, অন্তত কিছুটা ক্ষতিপূরণ পেলেও দুটি ভাই কিছু করে চলতে পারতো।

ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল যুগান্তরকে বলেন, রাজীবের মৃত্যুর দুই বছর পার হলেও এখনও কোনো ক্ষতিপূরণ পায়নি তার পরিবার। সর্বশেষ আপিল বিভাগের আদেশ অনুযায়ী ১০ লাখ টাকা এক মাসের মধ্যে স্বজন পরিবহন দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু স্বজন পরিবহন টাকা পরিশোধে আগামী জুন পর্যন্ত সময় নেয়।

হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী ২৫ লাখ করে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার রায় স্থগিত চেয়ে স্বজন পরিবহন আবেদন করলে গত বছরের ১৭ জুলাই চেম্বার বিচারপতি বিষয়টি আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন। পরে ওই বছরের ১৩ অক্টোবর আবেদনের শুনানি নিয়ে রাজীব হোসেনের পরিবারকে আপাতত এক মাসের মধ্যে ১০ লাখ টাকা দিতে স্বজন পরিবহনকে নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ। আদালতে স্বজন পরিবহনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম বাবুল। রিটের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার কাজল।

গত বছরের ২০ জুন রাজীবের পরিবারকে দুই মাসের মধ্যে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে রাজীবের দুর্ঘটনার দায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিসি) ও স্বজন পরিবহনকে নিতে হবে বলেও পর্যবেক্ষণে বলেন আদালত। বিআরটিসি ও স্বজন পরিবহনকে ক্ষতিপূরণের ৫০ লাখ টাকার মধ্যে ২৫ লাখ করে দিতে বলা হয় রায়ে। এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিলে আবেদন করে স্বজন পরিবহন।

রাজধানীতে বেপরোয়া দুই বাসের চাপায় হাত হারানো তিতুমীর কলেজের ছাত্র রাজিব হোসেন চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০১৮ সালের ১৬ এপ্রিল মারা যান। একই বছরের ৩ এপ্রিল বিআরটিসির একটি দোতলা বাসের পেছনের ফটকে দাঁড়িয়ে ছিলেন সরকারি তিতুমীর কলেজের স্নাতকের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রাজীব।

বাসটি হোটেল সোনারগাঁওয়ের বিপরীতে পান্থকুঞ্জ পার্কের সামনে পৌঁছলে হঠাৎ পেছন থেকে স্বজন পরিবহনের একটি বাস বিআরটিসি বাসটির গা ঘেঁষে অতিক্রম করে। দুই বাসের প্রবল চাপে গাড়ির পেছনের গেটে দাঁড়িয়ে থাকা রাজীবের হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ওই ঘটনার পর পথচারীরা রাজীবকে পান্থপথের শমরিতা হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এরপর তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়া হয়। রাজীবের বাবা-মা কেউ বেঁচে নেই। তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি সবার বড় ছিলেন। পড়ালেখার পাশাপাশি একটি প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার বিভাগে কাজ করে তিনি নিজের এবং ছোট দুই ভাইয়ের খরচ চালাতেন। এ ঘটনায় রিট আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার কাজল।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত