করোনার মধ্যেও বিভিন্ন কাজে স্বেচ্ছাচারিতা গভীর উদ্বেগজনক: টিআইবি

  যুগান্তর রিপোর্ট ৩০ মে ২০২০, ২২:০৭:১৩ | অনলাইন সংস্করণ

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। ফাইল ছবি

করোনা সংকটে দেশের এই ক্রান্তিকালে জবাবদিহিতাহীন স্বেচ্ছাচারের একের পর এক উদাহরণ সৃষ্টি হচ্ছে। দুর্নীতি প্রতিরোধ ও আইনের শাসনের স্বার্থে এখনই এই প্রবণতার লাগাম টেনে ধরার জোরালো দাবি জানিয়েছে দুর্নীতি বিরোধী আন্তর্জাতিক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে শনিবার পাঠানো এ কথা বলা হয়।

সংস্থাটি বলছে, সম্প্রতি দেশে বড় ধরনের দুটি ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে একটি বেসরকারি হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডে মর্মান্তিক প্রাণহানিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ‘গাফিলতি’ তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়াও বেসরকারি ব্যাংকের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাকে বেআইনিভাবে ঋণ সুবিধা দেয়ার জন্য গুলি করার মতো গুরুতর দায়ে অভিযুক্তরা দেশ ছেড়েছে। এ ধরনের ঘটনা কর্তৃপক্ষের যোগসাজশে ব্যবসায়িক দুর্বৃত্তায়ন।
পাশাপাশি আসন্ন বাজেটে পাচারকৃত অর্থসহ কালো টাকা বৈধতা দেয়ার সুযোগ করার যে পরিকল্পনার সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। ফলে আশঙ্কা হচ্ছে অনৈতিক ব্যবসায়িক চর্চাকে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা দেয়া হচ্ছে। জাতির বৃহত্তর স্বার্থে অবিলম্বে ব্যবসাখাতে জবাবদিহিতা নিশ্চিতের পাশাপাশি ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত শূন্য সহনশীলতা’ নীতির কঠোর বাস্তবায়ন জরুরি।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সম্প্রতি ইউনাইটেড হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডে ৫জনের প্রাণহানি নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, আইসোলেশন ইউনিটে আগুন ধরেছিল, সেখানে দাহ্যপদার্থ নির্মাণ সামগ্রী হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। আগুন নেভানোর যন্ত্রগুলোও ছিল মেয়াদোত্তীর্ণ। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, নিহতরা সবাই লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। তবে এ দাবি নাকচ করে দিয়েছেন নিহতদের স্বজন ও বিশেষজ্ঞরা। মালিকপক্ষের এমন আচরণ’ ও দায় স্বীকার না করা গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি বলেন, ঘটনা তদন্তে যে কমিটি করা হয়েছে, তারা যে-কোনো ধরনের প্রভাব উপেক্ষা করে বস্তুনিষ্ঠ প্রতিবেদন দেবেন, এমনটাই প্রত্যাশা। এতে গাফিলতির প্রমাণ পেলে, নিহতদের পরিবারকে সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণসহ আইনের কঠোরতম প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, সম্প্রতি অবৈধ ঋণ পাইয়ে দিতে একটি বেসরকারি ব্যাংকের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাকে গুলি করা, একাধিক কর্মকর্তাকে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগে মামলার ঘটনায় তোলপাড় হয়েছে। অথচ যাদের বিরুদ্ধে মামলা তারাই সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ‘প্রত্যক্ষ সহযোগিতায়’ ‘মিথ্যা রোগী সেজে’ ‘এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে’ দেশ ছাড়লেন। তাদের বিরুদ্ধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়নি, এমন অজুহাতে দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। করোনার কারণে বিশ্বজুড়ে আকাশপথে যোগাযোগ বন্ধ থাকার পরও অস্বাভাবিক দ্রুতগতিতে পুরো আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের দেশ ছাড়ার সুযোগ দেয়া হয়েছে, তাতে অবৈধ যোগসাজশের আশঙ্কা আরও জোরদার হয়েছে।

তিনি বলেন, অনৈতিক ব্যবসায়িক সুবিধা নিয়ে দেশের ব্যাংকিং খাতকে প্রায় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিয়েছেন প্রভাবশালীরা। বরাবরের মতো এবারও তারা সরকারের প্রত্যক্ষ মদতে দায়মুক্তি পেলে, সেটা হবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত শূন্য সহনশীল নীতির’ সরাসরি বরখেলাপ।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত