গণপরিবহনে কোথাও স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৪ জুন ২০২০, ১৯:২৯:২২ | অনলাইন সংস্করণ

বাস ভাড়া বাড়ানোর পরও স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। ছবি: স্টার মেইল

রাজধানীজুড়ে চলছে গণপরিবহন। কথা ছিল স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবে এসব গণপরিবহন। কিন্তু কিছু কিছু পরিবহনে তা মানা হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মানা হচ্ছে না। ক’দিন স্বাস্থ্যবিধি বলতে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখলেও বৃহস্পতিবার থেকে সেটাও মানছে না অনেক গণপরিবহন। এতে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুর, ফার্মগেট ও এয়ারপোর্ট সড়ক ঘুরে দেখা যায়, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী গণপরিবহনে তাপমাত্রা পরীক্ষা করে যাত্রী তোলার কথা থাকলেও সেটা প্রথম দিন থেকেই মানছে না কোনো গণপরিবহন। এছাড়াও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও প্রতিদিন একাধিকবার জীবাণুনাশক স্প্রে করার কথা থাকলেও কোনোটাই করা হচ্ছে না।

গত কয়েকদিন আসন ফাঁকা রেখে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখলেও বৃহস্পতিবার গণপরিবহনে গাদাগাদি করে যাত্রী বহন করতে দেখা গেছে। পাশাপাশি আসনে বসে যাত্রী বহন করছে অনেক গণপরিবহনই। ফলে করোনা সংক্রমণ বাড়ার শঙ্কা বেড়েই চলছে। বাড়তি ভাড়া নিয়ে আসন ফাঁকা না রেখে যাত্রী বহন করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে।

তবে কিছু কিছু পরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাত্রী চলাচল করতেও দেখা গেছে। যদিও সেটা হাতেগোনা কয়েকটি পরিবহন।
এদিকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে লঞ্চ চলাচলের কথা থাকলেও সেখানে সেভাবে মেনা হচ্ছে না।

সরেজমিনে রাজধানীর সদরঘাটে গিয়ে দেখা যায়, চাঁদপুর, বরিশালসহ বিভিন্ন রুটে লঞ্চ চলছে। লঞ্চ আসছে ও ছেড়ে যাচ্ছে। কিন্তু কোথাওই সেভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাত্রী চলাচল করতে দেখা যাচ্ছে না।

এর আগে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহন চালানোর জন্য ভিডিও বার্তায় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, সরকার গণপরিবহন চালুর বিষয়ে ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোকে বিআরটিএসহ বসে আলাপ-আলোচনা করে একটি পরিকল্পনা গ্রহণের অনুরোধ করছি। গণপরিবহন পরিচালনায় যাত্রী, চালক ও শ্রমিকদের সুরক্ষায় সুনির্দিষ্টভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে সবাইকে। জনস্বার্থে সরকারের দেয়া এ ছাড় ফ্রি-স্টাইলে অপপ্রয়োগ করলে হিতে বিপরীত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

গণপরিবহন চালুর তিন দিন আগে যুগান্তরকে দেয়া এক সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্ল্যাহ যুগান্তরকে বলেছিলেন, গণপরিবহনে যাত্রীদের স্বাস্থ্যবিধি মানানো খুবই কষ্টকর হবে। যাত্রীদের অনেকেই সাধারণ নিয়ম মানতে চান না, তারা স্বাস্থ্যবিধি মানবেন কিনা সন্দেহ রয়েছে। তিনি বলেন, বাসের ভেতরে পুলিশ থাকে না। যাত্রীরা স্বাস্থ্যবিধি না মানলে কী করার থাকবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) যুগ্ম পরিচালক মো. আলমগীর বলেন, কয়েকটি রুটে যাত্রী বেশি হওয়ায় ডেকে গাদাগাদি করে যাতায়াত করেছেন। তবে সেই সংখ্যা খুবই কম। আমরা যাত্রীদের সচেতন করেছি। কিন্তু অনেক যাত্রী তা মানতে নারাজ।

কিশোরগঞ্জের চামড়া বন্দর থেকে ছেড়ে আসা উজানভাটির চালক হুমায়ুন কবির যুগান্তরের কাছে স্বাস্থ্যবিধি মানার কথা দাবি করে বলেন, আমরা পুরো বাসে ঢাকায় মাত্র ২০জন করে যাত্রী নিয়ে ঢাকায় আসছি। কাউন্টার থেকেই অর্ধেক টিকিট বিক্রি হয়।

তবে মোবাইল কোর্টের ভয়ে মাঝপথে যাত্রী তোলার সাহস পান না জানিয়ে তিনি বলেন, এখন খুব কড়াকড়ি। রাস্তায় রাস্তায় চেকিং। এজন্য বাড়তি ঝামেলায় যাচ্ছি না।

স্বাস্থ্যবিধি না মানলে পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে বৃহস্পতিবার রাতে যুগান্তরকে ঢাকা মেডিকেলের চিকিৎসক ডা. নাজিরুম মুবিন বলেন, দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সক্ষমতার চাইতে বেশি মানুষ কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হতে পারে৷ এর মানে হচ্ছে মানুষ বিনা চিকিৎসায় মারা যাবে। তাই স্বাস্থ্যবিধি না মানা একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।

তিনি আরও বলেন, করোনাভাইরাসে সংক্রমিত অধিকাংশদের কোনো প্রকার উপসর্গ দেখা যায় না। তাই গণপরিবহনে নিজের নিরাপত্তার জন্য যাত্রীদেরই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা জরুরি। যারা গণপরিবহন ব্যবহার করতে চান না তাদের জন্য বাইসাইকেল একটি পরিবেশ ও স্বাস্থ্যবান্ধব যাতায়াত মাধ্যম হতে পারে।

এ ব্যাপারে রাজধানীর ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. মোমিনুল হক বাঁধন যুগান্তরকে বলেন, গণপরিবহন চালুর কারণে করোনায় আক্রান্তের পরিমাণ দিন দিন আরও অনেক বেড়ে যাবে। আমাদের দেশের মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মানতে এখনও অভ্যস্ত হয়নি। সামনে দেশ এক ভয়ানক অবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, এর প্রমাণ প্রতিদিন রেকর্ড মৃত্যু আর শনাক্তের হার আশংকাজনক হারে বৃদ্ধি।

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

আরও

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত