মুচলেকা দিলে বিজিএমইএ ভবন ভাঙতে সময় বাড়ানোর বিবেচনা

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৭ মার্চ ২০১৮, ১০:১৪ | অনলাইন সংস্করণ

বিজিএমইএ ভবন
বিজিএমইএ ভবন

ঢাকার হাতিরঝিল প্রকল্প এলাকায় বেআইনিভাবে নির্মিত বিজিএমইএ ভবন ভাঙতে বারবার সময় চাওয়ায় তীব্র অসন্তোষ জানিয়েছেন আদালত।

বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ ভবনটি ভাঙতে এক বছর সময় চেয়ে আবেদন করার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ অসন্তোষ জানান।

এরপর আদালত আদেশে বলেন, বিজিএমইএ ভবন ভাঙতে আর সময় আবেদন করা হবে না মর্মে মুচলেকা দিলে সময় আবেদনের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এর আগে ২৫ মার্চ একই বেঞ্চ আজ আদেশ দেয়ার দিন ঠিক করেন।

আদালতে বিজিএমইএ-এর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী ও ইমতিয়াজ মঈনুল ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

আবেদনটি আদেশের জন্য আদালতে উত্থাপন করা প্রধান বিচারপতি বিজিএমইএর আইনজীবীকে বলেন, আপনারা তো বারবার আসেন। ইউ আর প্লেয়িং উইথ কোর্ট অর্ডার। এটা সো আনফরচুনেট। আপনার নিজেরও তো বিষয়টি নিয়ে আদালতে দাঁড়াতে দ্বিধা হওয়ার কথা। আমাদের লজ্জা লাগে। আদালতের প্রেসটিজ চলে যাবে আর আপনি আপনার ক্লায়েন্টের জন্য আসবেন এটা হতে পারে না।

প্রধান বিচারপতি বলেন, আদালতের আদেশ পালন করা কি দরকার ছিল না? সময় কতবার নিয়েছেন, এরপর আবার বলবেন আবার আসবেন। বার বার আসতেই থাকবেন।

এ সময় কামরুল হক সিদ্দিকী বলেন, তারা এ পর্যন্ত তিনবার সময়ের আবেদন করেছেন।

বিচারপতি ইমান আলী তখন জানতে চান, ভবন ভাঙতে এ পর্যন্ত কী কী পদক্ষেপ বিজিএমইএ নিয়েছে। জবাবে কামরুল হক বলেন, তারা কার্যালয় সরানোর জন্য জায়গা খুঁজছেন।

বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী তখন বলেন, যে স্টেপ নিয়েছেন তাতে তো পাঁচ বছর লেগে যাবে। তখন আইনজীবী কামরুল হক বলেন, ক্লায়েন্টের জন্যই তো আমাকে সময়ের আবেদন করতে হয়। এটা তো আমার প্রফেশনাল ডিউটি।”

এ সময় প্রধান বিচারপতি বিজিএমইএর আইনজীবীকে বলেন, প্রফেশনাল ডিউটি সেকেন্ডারি। প্রথম হচ্ছে আদালতের ডিউটি। আপনি খুব বুদ্ধিমান। কারণ এক সাথে কোথাও এত বড় স্পেস পাবেন না। আর তখন কোর্টে আসবেন সময়ের জন্য।

এরপর বিচারপতি মির্জা হোসেন হায়দার জানতে চান, বিজিএমইএ ভবন কত বর্গফুটের। জবাবে আইনজীবী বলেন, ৬০ হাজার বর্গফুট।

তখন প্রধান বিচারপতি বলেন, ৬০ হাজার স্কয়ার ফিটের ভবন পাবেন কোথাও? আর কোর্ট কি অর্ডার বাস্তবায়নের কথা বলে দেবে?

এরপর বিচারপতি ইমান আলী বিজিএমইএর আইনজীবীর কাছে জানতে চান, শেষ এক বছরে তারা কী পদক্ষেপ নিয়েছেন। জবাবে কামরুল হক বলেন, ১১০ কাঠা জমি তারা কিনেছেন।

প্রধান বিচারপতি বলেন, এভাবে তো পাঁচ বছর লাগবে। কারণ এখন বলছেন, পাইলিং হচ্ছে। কয়দিন পর বলবেন বেইজমেন্ট হচ্ছে। কামরুল হক তখন বলেন, না মাইলর্ড, বেশি সময় লাগবে না।

প্রধান বিচারপতি তখন বলেন, তাহলে আপনাদের আন্ডারটেকিং দিতে হবে যে, আর সময় চাইবেন না। তাহলে আমরা বিবেচনা করতে পারি। কামরুল হক তাতে সম্মতি জানালে আদালত আদেশ অপেক্ষমাণ রাখেন।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ৫ মার্চ আপিল বিভাগ বিজিএমইএ ভবন ভেঙে ফেলতে রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে করা আবেদন খারিজ করে দেন। তখন ভবন ভাঙতে কত দিন সময় লাগবে তা জানিয়ে আবেদন করতেও নির্দেশ দেন আদালত।

বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ ভবন সরাতে তিন বছর সময় চেয়ে আবেদন করেন। এর পর একই বছরের ১২ মার্চ আপিল বিভাগ আবেদন নিষ্পত্তি করে ভবন সরাতে ছয় মাস সময় দেন।

এরপর চলতি বছরের ৫ মার্চ আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ ভবনটি ভাঙতে এক বছর সময় চেয়ে আবারও আবেদন করে।

ঘটনাপ্রবাহ : বিজিএমইএ ভবন

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×