খুলনার সেই সালাম ঢালীর মুক্তি চেয়ে রিট
jugantor
খুলনার সেই সালাম ঢালীর মুক্তি চেয়ে রিট

  যুগান্তর রিপোর্ট  

০৫ জুলাই ২০২০, ১৬:৩১:১৪  |  অনলাইন সংস্করণ

সাজাপ্রাপ্ত পলাতক এক আসামির সঙ্গে নামের কিছুটা মিল থাকায় খুলনার সালাম ঢালীর কারাগারে থাকার বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।

রোববার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিশির মনির কারাগারে থাকা সালাম ঢালীর দ্রুত মুক্তি চেয়ে একটি রিট করেছেন। এছাড়া মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র পৃথক একটি রিট করে।

শিশির মনির দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে রিট করেন।

তিনি জানান, শফিজ উদ্দিনের ছেলে মো. আবদুস সালামের পরিবর্তে জেল খাটছেন মফিজ উদ্দিন ঢালীর ছেলে মো. সালাম ঢালী। গত ৩ জুলাই যুগান্তরের অনলাইন ভার্সনে ‘নামের মিল, আসল আসামির পরিবর্তে জেল খাটছেন মুদি দোকানি’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়।

আইনজীবী শিশির মনির বলেন, এই ঘটনা আমাদের নজরে আসার পর যোগাযোগ করে সব তথ্য সংগ্রহ করি এবং মামলার সব ধরনের কাগজপত্র সংগ্রহ করি। আমি সন্তুষ্ট হই যে, সালাম ঢালী প্রকৃত আসামি নয়। তাই রোববার হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের আদালতে একটি রিট মামলা দায়ের করি। রিটে সালাম ঢালীকে দ্রুত মুক্তির আবেদন করি। সঙ্গে সঙ্গে এই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আবেদন জানাই। একইসঙ্গে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়।

এদিকে গত ১ জুলাই ‘আসামি না হয়েও জেল খাটছেন খুলনার সালাম ঢালী’ শীর্ষক একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র একটি রিট করে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের আইনজীবী হিসেবে শুনানি করবেন জেড আই খান পান্না, ইয়াদিয়া জামান ও শাহিনুজ্জামান।

পরে শাহিনুজ্জামান জানান, আবেদনে সালাম ঢালীর পরিচয় নিশ্চিতকরণে তাকে সশরীরে অথবা ভার্চ্যুয়ালি হাইকোর্টে হাজির করা, তাৎক্ষণিক মুক্তি দেয়া এবং তার আটক আদেশ অবৈধ ও আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত ঘোষণা করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। আবেদনে বিবাদী করা হয়েছে, স্বরাষ্ট্র সচিব পুলিশের মহা-পরিদর্শক, কারা মহা-পরিদর্শক, খুলনার পুলিশ সুপার (এসপি) ও খুলনার জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিযোগ রয়েছে, আসামির নাম, বাবার নামের এবং ঠিকানার একাংশ নামে মিল থাকায় নিরাপরাধ মো. সালাম ঢালী (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার প্রকৃত আসামির নাম মো. আবদুস সালাম। মূল আসামিকে বাঁচাতে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ভুল ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

অনুসন্ধানীতে জানা যায়, চলতি বছরের ১১ মার্চ রাত ১২টায় খুলনার সোনাডাঙ্গা মডেল থানার এসআই সঞ্জিত কুমার মণ্ডল সদর থানা এলাকার ৬০/১৮, শের-এ-বাংলা রোডের বাসিন্দা মো. সালাম ঢালীকে গ্রেফতার করেন। মো. সালাম ঢালীর বাবার নাম মফিজ উদ্দিন ঢালী। মো. সালাম ঢালী এখন কারাগারে রয়েছেন। প্রায় চার মাস ধরে নিরাপরাধ মুদি দোকানি মো. সালাম ঢালী বাগেরহাটের কারাগারে সাজা ভোগ করছেন।

অন্যদিকে প্রকৃত অপরাধী মো. আবদুস সালাম খুলনার সোনাডাঙ্গা থানাধীন শেখপাড়া মেইন রোডের মৃত শফিজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি এখন পলাতক রয়েছেন।

মূলত নিজের নাম, বাবার নাম ও ঠিকানায় একাংশ মিল থাকার সুযোগ নিয়ে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে। তবে মামলার বিবরণে উল্লেখিত প্রকৃত আসামির নাম, বাবার নাম বা ঠিকানা কোনোটাতেই পুরোপুরি মিল নেই।

খুলনার সেই সালাম ঢালীর মুক্তি চেয়ে রিট

 যুগান্তর রিপোর্ট 
০৫ জুলাই ২০২০, ০৪:৩১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

সাজাপ্রাপ্ত পলাতক এক আসামির সঙ্গে নামের কিছুটা মিল থাকায় খুলনার সালাম ঢালীর কারাগারে থাকার বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।

রোববার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিশির মনির কারাগারে থাকা সালাম ঢালীর দ্রুত মুক্তি চেয়ে একটি রিট করেছেন। এছাড়া মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র পৃথক একটি রিট করে।

শিশির মনির দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে রিট করেন।

তিনি জানান, শফিজ উদ্দিনের ছেলে মো. আবদুস সালামের পরিবর্তে জেল খাটছেন মফিজ উদ্দিন ঢালীর ছেলে মো. সালাম ঢালী। গত ৩ জুলাই যুগান্তরের অনলাইন ভার্সনে ‘নামের মিল, আসল আসামির পরিবর্তে জেল খাটছেন মুদি দোকানি’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়।

আইনজীবী শিশির মনির বলেন, এই ঘটনা আমাদের নজরে আসার পর যোগাযোগ করে সব তথ্য সংগ্রহ করি এবং মামলার সব ধরনের কাগজপত্র সংগ্রহ করি। আমি সন্তুষ্ট হই যে, সালাম ঢালী প্রকৃত আসামি নয়। তাই রোববার হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের আদালতে একটি রিট মামলা দায়ের করি। রিটে সালাম ঢালীকে দ্রুত মুক্তির আবেদন করি। সঙ্গে সঙ্গে এই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আবেদন জানাই। একইসঙ্গে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়।

এদিকে গত ১ জুলাই ‘আসামি না হয়েও জেল খাটছেন খুলনার সালাম ঢালী’ শীর্ষক একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র একটি রিট করে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের আইনজীবী হিসেবে শুনানি করবেন জেড আই খান পান্না, ইয়াদিয়া জামান ও শাহিনুজ্জামান।

পরে শাহিনুজ্জামান জানান, আবেদনে সালাম ঢালীর পরিচয় নিশ্চিতকরণে তাকে সশরীরে অথবা ভার্চ্যুয়ালি হাইকোর্টে হাজির করা, তাৎক্ষণিক মুক্তি দেয়া এবং তার আটক আদেশ অবৈধ ও আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত ঘোষণা করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। আবেদনে বিবাদী করা হয়েছে, স্বরাষ্ট্র সচিব পুলিশের মহা-পরিদর্শক, কারা মহা-পরিদর্শক, খুলনার পুলিশ সুপার (এসপি) ও খুলনার জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিযোগ রয়েছে, আসামির নাম, বাবার নামের এবং ঠিকানার একাংশ নামে মিল থাকায় নিরাপরাধ মো. সালাম ঢালী (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার প্রকৃত আসামির নাম মো. আবদুস সালাম। মূল আসামিকে বাঁচাতে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ভুল ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

অনুসন্ধানীতে জানা যায়, চলতি বছরের ১১ মার্চ রাত ১২টায় খুলনার সোনাডাঙ্গা মডেল থানার এসআই সঞ্জিত কুমার মণ্ডল সদর থানা এলাকার ৬০/১৮, শের-এ-বাংলা রোডের বাসিন্দা মো. সালাম ঢালীকে গ্রেফতার করেন। মো. সালাম ঢালীর বাবার নাম মফিজ উদ্দিন ঢালী। মো. সালাম ঢালী এখন কারাগারে রয়েছেন। প্রায় চার মাস ধরে নিরাপরাধ মুদি দোকানি মো. সালাম ঢালী বাগেরহাটের কারাগারে সাজা ভোগ করছেন।

অন্যদিকে প্রকৃত অপরাধী মো. আবদুস সালাম খুলনার সোনাডাঙ্গা থানাধীন শেখপাড়া মেইন রোডের মৃত শফিজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি এখন পলাতক রয়েছেন।

মূলত নিজের নাম, বাবার নাম ও ঠিকানায় একাংশ মিল থাকার সুযোগ নিয়ে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে। তবে মামলার বিবরণে উল্লেখিত প্রকৃত আসামির নাম, বাবার নাম বা ঠিকানা কোনোটাতেই পুরোপুরি মিল নেই।

 
আরও খবর