‘সহস্রাধিক তরুণীকে দুবাই নিয়ে দেহব্যবসা করায় আজম’
jugantor
‘সহস্রাধিক তরুণীকে দুবাই নিয়ে দেহব্যবসা করায় আজম’

  যুগান্তর রিপোর্ট  

১২ জুলাই ২০২০, ১৬:১৯:৩২  |  অনলাইন সংস্করণ

সহস্রাধিক তরুণীকে দুবাই নিয়ে দেহব্যবসা করায় আজম

দুবাই ড্যান্স ক্লাবে আন্তর্জাতিক নারী পাচারকারী চক্রের হোতা মোহাম্মদ আজম খান এবং তার দুই সহযোগী আনোয়ার হোসেন ময়না ও আলামিন হোসেন ওরফে ডায়মন্ডকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

শনিবার রাতে সিআইডির অরগানাইজড ক্রাইম শাখার একটি টিম বিশেষ অভিযান চালিয়ে রাজধানী থেকে তাদের গ্রেফতার করে।

সিআইডির অরগানাইজড ক্রাইম শাখার ডিআইজি ইমতিয়াজ আহমেদ রোববার দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি কার্যালয় সংবাদ সম্মেলন এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, আজম খান গত আট বছর ধরে বাংলাদেশ থেকে অল্প বয়সী তরুণীদের দুবাইয়ের হোটেলে মোটা অঙ্কের বেতনে কাজের লোভ দেখিয়ে নিয়ে যেত।

জানা গেছে, দুবাইয়ে আজম খানের চারটি হোটেল রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি চার তারকা হোটেল ও একটি তিন তারকা হোটেল।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আজম খান জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে যে, সে ওই সব হোটেলে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে সহস্রাধিক তরুণীকে নিয়ে দেহব্যবসায় বাধ্য করেছে।

ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, এই চক্রের বাংলাদেশে অন্তত ৫০ জন রয়েছে যারা বিভিন্ন এলাকা থেকে তরুণীদের সংগ্রহ করত।

সম্প্রতি দুবাই পুলিশ আজম খানের ব্যাপারে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশ দূতাবাসে জানায়। দেশটি তার পাসপোর্ট বাতিল করে দেয়। একটি এক্সিট পাস নিয়ে আজম বাংলাদেশে চলে আসেন। তার পর থেকে আত্মগোপনে যান।

ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, অল্প বয়সী তরুণীদের হোটেলে ৫০ হাজার টাকা বেতনে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিনাখরচে তাদের দুবাই নিয়ে যেত আজম খান। এ ক্ষেত্রে তরুণীদের অগ্রিম ২০-৩০ হাজার টাকা দিয়ে দিত।

দুবাই যাওয়ার পর প্রথমে তাদের ড্যান্স বারে নাচতে বাধ্য করত আজম খান। পরে জোর করে দেহব্যবসা করাত।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আজম খানের মোবাইলে এমন অনেক ভুক্তভোগী তরুণীর কান্নাকাটি ও আহাজারির অডিও রেকর্ড পাওয়া গেছে, যা খুবই মর্মস্পর্শী।

সিআইডি বলছে, আজম খান একজন গডফাদার। সারা দেশ থেকে দালালের মাধ্যমে নারীদের সংগ্রহ করত আজম। তাদের হোটেলে কাজ দেয়ার কথা বলে জোর করে ড্যান্সবার ও যৌনকর্মে বাধ্য করা হতো।

এ কাজে আজম খানকে সহযোগিতা করত একাধিক ট্রাভেল এজেন্সি ও বিদেশি কিছু বিমান সংস্থা।

দেশে ছয়টি হত্যা মামলাসহ এই আজম খানের বিরুদ্ধে ১৫টি মামলা রয়েছে। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি। তিনি ছাড়াও এ কাজে দুবাইয়ে তার সঙ্গে আরও দুই ভাই যুক্ত ছিলেন। এই দলে ভারত ও পাকিস্তানের দলগুলোও যুক্ত আছে।

‘সহস্রাধিক তরুণীকে দুবাই নিয়ে দেহব্যবসা করায় আজম’

 যুগান্তর রিপোর্ট 
১২ জুলাই ২০২০, ০৪:১৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
সহস্রাধিক তরুণীকে দুবাই নিয়ে দেহব্যবসা করায় আজম
গ্রেফতার আজম। ছবি: সংগৃহীত

দুবাই ড্যান্স ক্লাবে আন্তর্জাতিক নারী পাচারকারী চক্রের হোতা মোহাম্মদ আজম খান এবং তার দুই সহযোগী আনোয়ার হোসেন ময়না ও আলামিন হোসেন ওরফে ডায়মন্ডকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

শনিবার রাতে সিআইডির অরগানাইজড ক্রাইম শাখার একটি টিম বিশেষ অভিযান চালিয়ে রাজধানী থেকে তাদের গ্রেফতার করে।

সিআইডির অরগানাইজড ক্রাইম শাখার ডিআইজি ইমতিয়াজ আহমেদ রোববার দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি কার্যালয় সংবাদ সম্মেলন এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, আজম খান গত আট বছর ধরে বাংলাদেশ থেকে অল্প বয়সী তরুণীদের দুবাইয়ের হোটেলে মোটা অঙ্কের বেতনে কাজের লোভ দেখিয়ে নিয়ে যেত।

জানা গেছে, দুবাইয়ে আজম খানের চারটি হোটেল রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি চার তারকা হোটেল ও একটি তিন তারকা হোটেল।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আজম খান জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে যে, সে ওই সব হোটেলে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে সহস্রাধিক তরুণীকে নিয়ে দেহব্যবসায় বাধ্য করেছে।

ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, এই চক্রের বাংলাদেশে অন্তত ৫০ জন রয়েছে যারা বিভিন্ন এলাকা থেকে তরুণীদের সংগ্রহ করত।

সম্প্রতি দুবাই পুলিশ আজম খানের ব্যাপারে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশ দূতাবাসে জানায়। দেশটি তার পাসপোর্ট বাতিল করে দেয়। একটি এক্সিট পাস নিয়ে আজম বাংলাদেশে চলে আসেন। তার পর থেকে আত্মগোপনে যান।

ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, অল্প বয়সী তরুণীদের হোটেলে ৫০ হাজার টাকা বেতনে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিনাখরচে তাদের দুবাই নিয়ে যেত আজম খান। এ ক্ষেত্রে তরুণীদের অগ্রিম ২০-৩০ হাজার টাকা দিয়ে দিত।

দুবাই যাওয়ার পর প্রথমে তাদের ড্যান্স বারে নাচতে বাধ্য করত আজম খান। পরে জোর করে দেহব্যবসা করাত।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আজম খানের মোবাইলে এমন অনেক ভুক্তভোগী তরুণীর কান্নাকাটি ও আহাজারির অডিও রেকর্ড পাওয়া গেছে, যা খুবই মর্মস্পর্শী।

সিআইডি বলছে, আজম খান একজন গডফাদার। সারা দেশ থেকে দালালের মাধ্যমে নারীদের সংগ্রহ করত আজম। তাদের হোটেলে কাজ দেয়ার কথা বলে জোর করে ড্যান্সবার ও যৌনকর্মে বাধ্য করা হতো।

এ কাজে আজম খানকে সহযোগিতা করত একাধিক ট্রাভেল এজেন্সি ও বিদেশি কিছু বিমান সংস্থা।

দেশে ছয়টি হত্যা মামলাসহ এই আজম খানের বিরুদ্ধে ১৫টি মামলা রয়েছে। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি। তিনি ছাড়াও এ কাজে দুবাইয়ে তার সঙ্গে আরও দুই ভাই যুক্ত ছিলেন। এই দলে ভারত ও পাকিস্তানের দলগুলোও যুক্ত আছে।