প্রাথমিকে প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে একগুচ্ছ উদ্যোগ

  সংসদ রিপোর্টার ০১ এপ্রিল ২০১৮, ২০:০৯ | অনলাইন সংস্করণ

প্রাথমিক পরীক্ষা
ফাইল ছবি

প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিএসপি) ও ইবতেদায়ি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে একগুচ্ছ উদ্যোগ নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। আগামী নভেম্বরে আয়োজিত এ পরীক্ষা পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হবে।

পরীক্ষা শতভাগ যোগ্যতাভিক্তিক প্রশ্ন প্রণয়ন (ক্লাস শিক্ষার্থীরা যতটুকু ধারণ করতে সক্ষম সে অনুযায়ী প্রশ্ন নির্বাচন করার প্রস্তাব) ছাড়াও এই উদ্যোগের মধ্যে প্রশ্নপত্র প্রণয়নের সঙ্গে জড়িত শিক্ষক-কর্মকর্তাদের সংখ্যা কমিয়ে আনা, প্রশ্নপত্রের সেট অর্ধেকে নামিয়ে আনা, আধঘন্টা আগে পরীক্ষার্থীদের নিজ নিজ আসনে বসারও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এজন্য মন্ত্রণালয় গত ৫ মার্চ একটি বৈঠক করে। ওই বৈঠকের কার্যবিবরণী রোববার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়।

বৈঠকের কার্যপত্র থেকে জানা যায়, প্রশ্নপত্রের গোপনীয়তা বা স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য প্রশ্নপত্র প্রণয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত শিক্ষক-কর্মকর্তার সংখ্যা কমিয়ে আনা হবে। এই প্রক্রিয়ায় প্রাথমিকভাবে ৬৪ সেট প্রশ্নপত্র প্রণয়নের পরিবর্তে ৩২ সেট প্রশ্নপত্রের খসড়া প্রণয়ন করা হবে। পরীক্ষা শুরুর আধঘন্টা আগে পরীক্ষার্থীদের নিজ নিজ আসনে বসানো নিশ্চিত করা হবে। কেন্দ্রের দায়িত্বরত কর্মকর্তা ও উপযুক্ত পুলিশ প্রহরায় ট্রেজারি/থানা/ব্যাংক হতে প্রশ্নপত্র কেন্দ্রে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে। কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা স্বয়ং পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রশ্নপত্র পৌঁছাবেন। দৈব দুর্বিপাক কোনো কারণ ছাড়া এক্ষেত্রে কোনো প্রতিনিধির ওপর দায়িত্ব অর্পণ করবেন না। কেন্দ্রসচিব, হল সুপার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তার উপস্থিতিতি প্রশ্নপত্রের প্যাকেট খুলতে হবে। প্রশ্নপত্র অক্ষত পাওয়ার প্রত্যায়নপত্র নেয়ার ব্যবস্থা করবে।

এছাড়াও পরীক্ষা কেন্দ্রে কেন্দ্রসচিব ব্যতীত অন্য কোনো শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী বা পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি কর্তৃক মোবাইল ফোন বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক্স ডিভাইডার ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হবে। পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত ছাড়া অন্য কারও প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রশ্নপত্র প্রণয়ণ, মডারেশন এবং প্রশ্নপত্রের ইংরেজি ভার্সনকারীদের বার বার বদল না করে একই ব্যক্তিদের একাধিকবার দায়িত্ব দেয়া হবে।

প্রতিবছর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মাধ্যমে মাঠ পর্যায় থেকে দক্ষ, মেধাবি, বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য শিক্ষক/কর্মকর্তাদের তালিকা সংগ্রহ করে প্রশ্নপত্র প্রণয়নের দায়িত্ব দেয়া হবে। পার্বত্য জেলা, হাওড়সহ দুর্গম অঞ্চলে অবস্থিত কেন্দ্রসমুহে যোগাযোগের বিষয়টি বিবেচনায় এনে প্রশ্নপত্র পরিবহণ ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। এছাড়া বিদেশে অবস্থিত পরীক্ষা কেন্দ্রসমূহের জন্য সরবরাহকৃত প্রশ্নপত্রের উপযুক্ত গোপনীতার ও নিরাপত্তা বজায় রাখা প্রয়োজন।

বৈঠকে কমিটির সভাপতি মোঃ মোতাহার হোসেন এমপি সভাপতিত্ব করেন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান এমপি, মোঃ নজুরুল ইসলাম বাবু এমপি, মোঃ আবুল কালাম এমপি, আলী আজম এমপি, মোহাম্মদ ইলিয়াছ এমপি এবং উম্মে রাজিয়া কাজল এমপি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, পঞ্চম শ্রেণির পাবলিক পরীক্ষায় এমসিকিউ প্রশ্ন তুলে দেয়ার চিন্তা-ভাবনা চলছে। নকলমুক্ত সুষ্ঠু পরিবেশে পরীক্ষা আয়োজন করতে সব চেষ্টায় করা হচ্ছে। যাতে পরীক্ষা নিয়ে বির্তক না হয়।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter