র‌্যাবের কাছে স্বীকারোক্তি দেয়া আসাদুলের জবানবন্দি কেন নেয়া হয়নি?
jugantor
র‌্যাবের কাছে স্বীকারোক্তি দেয়া আসাদুলের জবানবন্দি কেন নেয়া হয়নি?

  যুগান্তর রিপোর্ট  

১২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২০:০৭:১০  |  অনলাইন সংস্করণ

ইউএনও ওয়াহিদা খানম ও গ্রেফতার বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা আসাদুল। ছবি: সংগৃহীত

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানমের ওপর হামলার ঘটনায় র‌্যাবের কাছে হত্যাকাণ্ডে নিজে জড়িত থাকার স্বীকারোক্তি দিয়েছিল যুবলীগের আসাদুল। হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত ওই যুবলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। কিন্তু সেই আসাদুলকে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ছাড়াই কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আবার পুলিশ বলছে, আসাদুলকে আর রিমান্ডে নেয়ার প্রয়োজন নেই।

মামলার প্রধান আসামি আসাদুল ইসলামের ৭ দিনের রিমান্ড শেষ হওয়ায় শনিবার বিকালে তাকে আদালতে সোপর্দ করে দিনাজপুর ডিবি পুলিশ। আদালতে হাজির করার সময় আসাদুলকে বেশ হাস্যোজ্জ্বল ও উচ্ছ্বসিত দেখাচ্ছিল। আদালতে আসাদুলের কোনো জবানবন্দি নেয়া হয়নি। এছাড়াও নতুন করে কোন রিমান্ড আবেদন করা হয়নি ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে। ফলে তাকে জেলহাজতে প্রেরনের নির্দেশ দেন আদালতের বিচারক দিনাজপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইসমাইল হোসেন।

এর আগে গত শুক্রবার ৭ দিনের রিমান্ড শেষে এই মামলার আসামী নবীরুল ইসলাম ও সান্টু কুমার দাসকে আদালতে সোপর্দ করে ডিবি পুলিশ এবং আদালত তাদের দুজনকে জেল হাজতে প্রেরনের নির্দেশ দেন।

শনিবার বিকালে এক ব্রিফিংয়ে পুলিশের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য এ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হন।

সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে পুলিশের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না। র‌্যাবের কর্মকর্তা যিনি, তিনি অত্যন্ত চৌকষ কর্মকর্তা, ভালো একজন কর্মকর্তা। তাকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি। এটি আসাদুল কেন বলেছে? হয়তোবা তাকে কেউ মিসগাইড করেছে। অন্য কোনো ইয়ে থাকতে পারে। সব বিষয়গুলো আমরা এখন দেখছি তদন্ত করে’।

এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে ইউএনও অফিসের বরখাস্তকৃত কর্মচারী রবিউল ইসলাম। রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য বলেন, সম্প্রতি আমরা রবিউল নামের একজন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছি। তার বাড়ি বিরলের বিজরা গ্রামে। সে তার সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে বক্তব্য প্রদান করেছে। আর তার বক্তব্যের প্রেক্ষিতে কিছু আলামতও উদ্ধার করেছি। ব্যবহৃত অস্ত্র হাতুড়িটি একটি পুকুর থেকে উদ্ধার করেছি। যে সিসিটিভি ফুটেজকে সংগ্রহ করে সেটির সঙ্গে আমরা মিলিয়ে দেখছি। আজকে তাকে আমরা বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করব এবং তার রিমান্ড চাইব। রিমান্ডে নিয়ে এসে তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করব। ঘটনার সঙ্গে সম্পূর্ণ তথ্য সংগ্রহের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। যেহেতু বিষয়টি এখনও চলমান রয়েছে, সেহেতু এই পর্যন্তই আমার বক্তব্য।

পরে রবিউলকে ৬ দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত।

মামলার অপর দুই আসামি যুবলীগের আসাদুল ও নৈশপ্রহরী নাহিদ হোসেন পলাশকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার রাতে র‌্যাব-১৩ (রংপুর) অধিনায়ক রেজা আহমেদ ফেরদৌস জানিয়েছিলেন, আসাদুল ইসলাম এ ঘটনায় জড়িত বলে র‌্যাবের কাছে স্বীকার করেছে। আর ঘটনার সময় নবীরুল ইসলাম ও সান্টু কুমার বিশ্বাসও তার সঙ্গে ছিল বলে জানিয়েছে আসাদুল।

র‌্যাবের ওই কর্মকর্তা বলেন, আসাদুল জানিয়েছে তারা চুরির জন্য ওই বাসায় মই বেয়ে ভেন্টিলেটর ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। তাদের বাধা দেয়ায় ওই হামলা চালায়। হামলার সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করার জন্য নবীরুল দায়ী বলে র‌্যাবকে জানিয়েছে আসাদুল।

গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে ইউএনওর সরকারি বাসভবনের ভেন্টিলেটর ভেঙে ভেতরে ঢুকে ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা ওমর আলী শেখের ওপর নৃশংস হামলা চালানো হয়। ইউএনও ওয়াহিদা খানম ঢাকায় ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালে চিকিৎসাধীন।

আলোচিত ওই হামলার ঘটনায় ইউএনও ওয়াহিদা খানমের বড় ভাই শেখ ফরিদ বাদী হয়ে ঘোড়াঘাট থানায় মামলা করেন। মামলাটি বর্তমানে দিনাজপুর জেলা ডিবি তদন্ত করছে। ওই মামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৩০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও র‌্যাব তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। এ ঘটনার পর ঘোড়াঘাট থানার ওসি আমিরুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

র‌্যাবের কাছে স্বীকারোক্তি দেয়া আসাদুলের জবানবন্দি কেন নেয়া হয়নি?

 যুগান্তর রিপোর্ট 
১২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৮:০৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
ইউএনও ওয়াহিদা খানম ও গ্রেফতার বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা আসাদুল। ছবি: সংগৃহীত
ইউএনও ওয়াহিদা খানম ও গ্রেফতার বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা আসাদুল। ছবি: সংগৃহীত

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানমের ওপর হামলার ঘটনায় র‌্যাবের কাছে হত্যাকাণ্ডে নিজে জড়িত থাকার স্বীকারোক্তি দিয়েছিল যুবলীগের আসাদুল। হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত ওই যুবলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। কিন্তু সেই আসাদুলকে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ছাড়াই কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আবার পুলিশ বলছে, আসাদুলকে আর রিমান্ডে নেয়ার প্রয়োজন নেই।

মামলার প্রধান আসামি আসাদুল ইসলামের ৭ দিনের রিমান্ড শেষ হওয়ায় শনিবার বিকালে তাকে আদালতে সোপর্দ করে দিনাজপুর ডিবি পুলিশ। আদালতে হাজির করার সময় আসাদুলকে বেশ হাস্যোজ্জ্বল ও উচ্ছ্বসিত দেখাচ্ছিল। আদালতে আসাদুলের কোনো জবানবন্দি নেয়া হয়নি। এছাড়াও নতুন করে কোন রিমান্ড আবেদন করা হয়নি ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে। ফলে তাকে জেলহাজতে প্রেরনের নির্দেশ দেন আদালতের বিচারক দিনাজপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইসমাইল হোসেন।

এর আগে গত শুক্রবার ৭ দিনের রিমান্ড শেষে এই মামলার আসামী নবীরুল ইসলাম ও সান্টু কুমার দাসকে আদালতে সোপর্দ করে ডিবি পুলিশ এবং আদালত তাদের দুজনকে জেল হাজতে প্রেরনের নির্দেশ দেন।

শনিবার বিকালে এক ব্রিফিংয়ে পুলিশের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য এ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হন।

সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে পুলিশের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না। র‌্যাবের কর্মকর্তা যিনি, তিনি অত্যন্ত চৌকষ কর্মকর্তা, ভালো একজন কর্মকর্তা। তাকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি। এটি আসাদুল কেন বলেছে? হয়তোবা তাকে কেউ মিসগাইড করেছে। অন্য কোনো ইয়ে থাকতে পারে। সব বিষয়গুলো আমরা এখন দেখছি তদন্ত করে’।

এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে ইউএনও অফিসের বরখাস্তকৃত কর্মচারী রবিউল ইসলাম। রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য বলেন, সম্প্রতি আমরা রবিউল নামের একজন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছি। তার বাড়ি বিরলের বিজরা গ্রামে। সে তার সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে বক্তব্য প্রদান করেছে। আর তার বক্তব্যের প্রেক্ষিতে কিছু আলামতও উদ্ধার করেছি। ব্যবহৃত অস্ত্র হাতুড়িটি একটি পুকুর থেকে উদ্ধার করেছি। যে সিসিটিভি ফুটেজকে সংগ্রহ করে সেটির সঙ্গে আমরা মিলিয়ে দেখছি। আজকে তাকে আমরা বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করব এবং তার রিমান্ড চাইব। রিমান্ডে নিয়ে এসে তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করব। ঘটনার সঙ্গে সম্পূর্ণ তথ্য সংগ্রহের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। যেহেতু বিষয়টি এখনও চলমান রয়েছে, সেহেতু এই পর্যন্তই আমার বক্তব্য।

পরে রবিউলকে ৬ দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত।

মামলার অপর দুই আসামি যুবলীগের আসাদুল ও নৈশপ্রহরী নাহিদ হোসেন পলাশকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার রাতে র‌্যাব-১৩ (রংপুর) অধিনায়ক রেজা আহমেদ ফেরদৌস জানিয়েছিলেন, আসাদুল ইসলাম এ ঘটনায় জড়িত বলে র‌্যাবের কাছে স্বীকার করেছে। আর ঘটনার সময় নবীরুল ইসলাম ও সান্টু কুমার বিশ্বাসও তার সঙ্গে ছিল বলে জানিয়েছে আসাদুল।

র‌্যাবের ওই কর্মকর্তা বলেন, আসাদুল জানিয়েছে তারা চুরির জন্য ওই বাসায় মই বেয়ে ভেন্টিলেটর ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। তাদের বাধা দেয়ায় ওই হামলা চালায়। হামলার সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করার জন্য নবীরুল দায়ী বলে র‌্যাবকে জানিয়েছে আসাদুল।

গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে ইউএনওর সরকারি বাসভবনের ভেন্টিলেটর ভেঙে ভেতরে ঢুকে ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা ওমর আলী শেখের ওপর নৃশংস হামলা চালানো হয়। ইউএনও ওয়াহিদা খানম ঢাকায় ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালে চিকিৎসাধীন।

আলোচিত ওই হামলার ঘটনায় ইউএনও ওয়াহিদা খানমের বড় ভাই শেখ ফরিদ বাদী হয়ে ঘোড়াঘাট থানায় মামলা করেন। মামলাটি বর্তমানে দিনাজপুর জেলা ডিবি তদন্ত করছে। ওই মামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৩০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও র‌্যাব তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। এ ঘটনার পর ঘোড়াঘাট থানার ওসি আমিরুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : ইউএনও ওয়াহিদার ওপর হামলা

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০