‘তুরস্ক-বাংলাদেশের সম্পর্ক অনেক গভীরে’
jugantor
‘তুরস্ক-বাংলাদেশের সম্পর্ক অনেক গভীরে’

  যুগান্তর রিপোর্ট  

১৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২২:০০:৪৪  |  অনলাইন সংস্করণ

২০১০ সালে বাংলাদেশ সফর করেন তুরস্কের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান। ফাইল ছবি

অভিন্ন বিশ্বাস, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ওপর ভিত্তি করে তুরস্ক ও বাংলাদেশের সম্পর্ক অনেক গভীরে। আমি আনন্দিত হব যদি তুর্কির প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশ সফর করেন। দয়া করে আমার শুভেচ্ছা ও আমন্ত্রণের বার্তা প্রেসিডেন্ট ও ফার্স্ট লেডির কাছে পৌঁছে দেবেন।

সোমবার বিকেলে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে তুরস্কের আঙ্কারায় নবনির্মিত বাংলাদেশ চ্যান্সেরি কমপ্লেক্সের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন।

তার এ বক্তব্য নতুন করে তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আলোচনায় এসেছে। যদিও করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যেই ৪ দিনের সফরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন তুরস্কে যান। তার এ সফরই তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

উভয় দেশের জনগণের স্বার্থে তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘আমি জেনে আনন্দিত যে, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিগগিরই বাংলাদেশ সফর করবেন। আমি তাকে স্বাগত জানাই। আপনি কখন আসবেন আমরা সেই অপেক্ষায় থাকব।’

‘খুব শিগগিরই’ ঢাকায় তুরস্কের নবনির্মিত দূতাবাস ভবনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরের সম্ভাবনা রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন,আমি জেনে আনন্দিত যে, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিগগিরই বাংলাদেশ সফর করবেন। আমি তাকে স্বাগত জানাই। আপনি কখন আসবেন আমরা সেই অপেক্ষায় থাকব।” পাশাপাশি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়িপ এরদোয়ানকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান শেখ হাসিনা।

এর আগেমানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াত নেতাদের ফাঁসির পর বাংলাদেশের সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্ক অবনতি ঘটে। এক পর্যায়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত তুর্কি রাষ্ট্রদূতকে নিয়ে যায় এরদোগান সরকার।

এরপর জামায়াতের মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর নামে সড়কের নামকরণ করে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে তুরস্কের ইসলামপন্থী হিসেবে পরিচিত এরদোগান সরকার সম্পর্ক ‘আগুনে ঘি ঢালার মতো’ পরিস্থিতি তৈরি করে। দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক চরম অবনতি হয়।

পরে মিয়ানমার থেকে বিতারিত রোহিঙ্গা ইস্যুতে এরদোগান সরকার বাংলাদেশের পক্ষে ব্যাপক সরব ভূমিকা পালন করে। ভারত ও চীনের মতো বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সক্রিয়ভাবেপাশে পায়নি বাংলাদেশ। এ ইস্যুতে তারা নীরব ভূমিকা পালন করলেও এরদোগান সরকার রোহিঙ্গা ইস্যুটি আন্তর্জাতিক দরবারে জোরালোভাবে তুলে ধরে।

ওই সময়তুরস্কের ফার্স্ট লেডি এরদোগান পত্নী এমিনি এরদোগান সবাইকে অবাক করে দিয়ে রোহিঙ্গাদের দেখতে বাংলাদেশ সফরে চলে আসেন।এরপরআবাসন, স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রমে তুরস্ক এগিয়ে আসে। এরপরই মূলত বরফ গলতে শুরু করে দু’দেশের সম্পর্কের।

তুরস্কের ফার্স্টলেডি এমিন এরদোয়ানের বাংলাদেশ সফরের কথা স্মরণ করে আজ (সোমবার)শেখ হাসিনা বলেন, “আমার মনে আছে রোহিঙ্গারা যখন বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিল তখন ফার্স্ট লেডি… আমার মনে হয় তিনি প্রথম যিনি কক্সবাজার পরিদর্শন করেছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ, দুইজনকেই আমার আমন্ত্রণ।”

তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়ার কথা তুলে ধরে ২০১২ সালের ১৩ এপ্রিল দেশটির তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের আমন্ত্রণে আঙ্কারা সফরের কথা উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের এই ঐতিহাসিক সম্পর্ক উদযাপন অনুষ্ঠানে, আমি ২০১২ সালের ১৩ এপ্রিল তুরস্কের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপ এরদোগানের আমন্ত্রণে আঙ্কারা সফরের কথা উৎফুল্ল চিত্তে স্মরণ করছি।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক শুরু হয়েছিল ১৯৭৪ সালে, প্রায় ৫০ বছর আগে। অবশ্য আমাদের সম্পর্কের সূচনা ত্রয়োদশ শতক থেকেই, যখন তুর্কি জেনারেল ইখতিয়ারউদ্দীন মুহাম্মদ বখতিয়ার খিলজী বাংলা বিজয় করেন।’

শেখ হাসিনা মারাত্মক মহামারী মোকাবেলায় সাফল্যের জন্য তুর্কি নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে এর চিকিৎসা সরবরাহ প্রেরণের উদ্যোগেরও আমিও প্রশংসা করি।’

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তৃতায় বলেন, তুরস্ক এবং বাংলাদেশের ভ্রাতৃপ্রতীম সম্পর্কের শিকড় অনেক গভীরে প্রোথিত। তিনি বলেন, ‘আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে ভারত উপমহাদেশের মানুষের দ্ব্যর্থহীন সমর্থনের কথা আমরা সবসময় স্মরণ করি।’

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ব্যাপক সাফল্যের প্রশংশা করে চাভুসোগলু বলেন, একটি স্থিতিশীল অর্থনীতি নিয়ে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় একটি সাফল্যের গল্প। তিনি বলেন, শক্তিশালী অর্থনীতি এবং বিপুলসংখ্যক যুব জনসংখ্যা নিয়ে বাংলাদেশ হবে এশিয়ায় আমাদের অন্যতম প্রধান অংশীদার।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গার এক বিপুল জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দেয়ায় বাংলাদেশের বদান্যতার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং তার ও তুরস্কের ফাস্ট লেডির রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনের কথা স্মরণ করেন।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকায় তুরস্কের চ্যান্সেরি ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য ঢাকা সফরে বাংলাদেশ পররষ্ট্রমন্ত্রীর আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন।

আঙ্কারায় বাংলাদেশ চ্যান্সেরি কমপ্লেক্স নির্মাণ কাজ ৩ সেপ্টেম্বর সফলভাবে শেষ হয়।

কমপ্লেক্সটির মূল বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে রয়েছে চ্যান্সারি বিল্ডিং, দূতাবাসের আবাসিক ভবন, ২২৯ আসনের ‘বিজয় একাত্তর’ নামক হাইটেক অডিটোরিয়াম, স্বয়ংক্রিয় যান্ত্রিক ও বৈদ্যুতিক সিস্টেম, মসজিদ, জিমনেসিয়াম, বাংলাদেশী আইটেমের জন্য প্রদর্শন কেন্দ্র, বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ ও আর্থ-সামাজিক বিকাশের ওপর রেফারেন্স বইসহ প্রন্থাগার।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের প্রতিচ্ছবি হিসাবে কমপ্লেক্সে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি আবক্ষ ভাস্কর্য ও একটি শহীদ মিনার স্থাপন করা হয়েছে।

এছাড়া, কমপ্লেক্সে ‘অজেয় বাংলাদেশ’ শিরোনামের একটি ৩৬ বর্গমিটার ম্যুরাল এবং পাশাপাশি বাংলাদেশের গ্রামীণ জীবন নিয়ে পোড়ামাটির কাজও করা হয়েছে।

‘তুরস্ক-বাংলাদেশের সম্পর্ক অনেক গভীরে’

 যুগান্তর রিপোর্ট 
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০:০০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
২০১০ সালে বাংলাদেশ সফর করেন তুরস্কের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান। ফাইল ছবি
২০১০ সালে বাংলাদেশ সফর করেন তুরস্কের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান। ফাইল ছবি

অভিন্ন বিশ্বাস, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ওপর ভিত্তি করে তুরস্ক ও বাংলাদেশের সম্পর্ক অনেক গভীরে।  আমি আনন্দিত হব যদি তুর্কির প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশ সফর করেন।  দয়া করে আমার শুভেচ্ছা ও আমন্ত্রণের বার্তা প্রেসিডেন্ট ও ফার্স্ট লেডির কাছে পৌঁছে দেবেন।

সোমবার বিকেলে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে তুরস্কের আঙ্কারায় নবনির্মিত বাংলাদেশ চ্যান্সেরি কমপ্লেক্সের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন। 

তার এ বক্তব্য নতুন করে তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আলোচনায় এসেছে।  যদিও করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যেই ৪ দিনের সফরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন তুরস্কে যান।  তার এ সফরই তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশের ইঙ্গিত দিচ্ছে। 

উভয় দেশের জনগণের স্বার্থে তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘আমি জেনে আনন্দিত যে, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিগগিরই বাংলাদেশ সফর করবেন। আমি তাকে স্বাগত জানাই। আপনি কখন আসবেন আমরা সেই অপেক্ষায় থাকব।’

‘খুব শিগগিরই’ ঢাকায় তুরস্কের নবনির্মিত দূতাবাস ভবনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরের সম্ভাবনা রয়েছে। 

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমি জেনে আনন্দিত যে, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিগগিরই বাংলাদেশ সফর করবেন। আমি তাকে স্বাগত জানাই। আপনি কখন আসবেন আমরা সেই অপেক্ষায় থাকব।”  পাশাপাশি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়িপ এরদোয়ানকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান শেখ হাসিনা।

এর আগে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াত নেতাদের ফাঁসির পর বাংলাদেশের সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্ক অবনতি ঘটে।  এক পর্যায়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত তুর্কি রাষ্ট্রদূতকে নিয়ে যায় এরদোগান সরকার।

এরপর জামায়াতের মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর নামে সড়কের নামকরণ করে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে তুরস্কের ইসলামপন্থী হিসেবে পরিচিত এরদোগান সরকার সম্পর্ক ‘আগুনে ঘি ঢালার মতো’ পরিস্থিতি তৈরি করে। দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক চরম অবনতি হয়। 

পরে মিয়ানমার থেকে বিতারিত রোহিঙ্গা ইস্যুতে এরদোগান সরকার বাংলাদেশের পক্ষে ব্যাপক সরব ভূমিকা পালন করে।  ভারত ও চীনের মতো বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সক্রিয়ভাবে পাশে পায়নি বাংলাদেশ।  এ ইস্যুতে তারা নীরব ভূমিকা পালন করলেও এরদোগান সরকার রোহিঙ্গা ইস্যুটি আন্তর্জাতিক দরবারে জোরালোভাবে তুলে ধরে। 

ওই সময় তুরস্কের ফার্স্ট লেডি এরদোগান পত্নী এমিনি এরদোগান সবাইকে অবাক করে দিয়ে রোহিঙ্গাদের দেখতে বাংলাদেশ সফরে চলে আসেন। এরপর আবাসন, স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রমে তুরস্ক এগিয়ে আসে।  এরপরই মূলত বরফ গলতে শুরু করে দু’দেশের সম্পর্কের। 

তুরস্কের ফার্স্টলেডি এমিন এরদোয়ানের বাংলাদেশ সফরের কথা স্মরণ করে আজ (সোমবার) শেখ হাসিনা বলেন, “আমার মনে আছে রোহিঙ্গারা যখন বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিল তখন ফার্স্ট লেডি… আমার মনে হয় তিনি প্রথম যিনি কক্সবাজার পরিদর্শন করেছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ, দুইজনকেই আমার আমন্ত্রণ।”

তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়ার কথা তুলে ধরে ২০১২ সালের ১৩ এপ্রিল দেশটির তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের আমন্ত্রণে আঙ্কারা সফরের কথা উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের এই ঐতিহাসিক সম্পর্ক উদযাপন অনুষ্ঠানে, আমি ২০১২ সালের ১৩ এপ্রিল তুরস্কের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপ এরদোগানের আমন্ত্রণে আঙ্কারা সফরের কথা উৎফুল্ল চিত্তে স্মরণ করছি।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক শুরু হয়েছিল ১৯৭৪ সালে, প্রায় ৫০ বছর আগে। অবশ্য আমাদের সম্পর্কের সূচনা ত্রয়োদশ শতক থেকেই, যখন তুর্কি জেনারেল ইখতিয়ারউদ্দীন মুহাম্মদ বখতিয়ার খিলজী বাংলা বিজয় করেন।’

শেখ হাসিনা মারাত্মক মহামারী মোকাবেলায় সাফল্যের জন্য তুর্কি নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে এর চিকিৎসা সরবরাহ প্রেরণের উদ্যোগেরও আমিও প্রশংসা করি।’

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তৃতায় বলেন, তুরস্ক এবং বাংলাদেশের ভ্রাতৃপ্রতীম সম্পর্কের শিকড় অনেক গভীরে প্রোথিত। তিনি বলেন, ‘আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে ভারত উপমহাদেশের মানুষের দ্ব্যর্থহীন সমর্থনের কথা আমরা সবসময় স্মরণ করি।’

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ব্যাপক সাফল্যের প্রশংশা করে চাভুসোগলু বলেন, একটি স্থিতিশীল অর্থনীতি নিয়ে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় একটি সাফল্যের গল্প। তিনি বলেন, শক্তিশালী অর্থনীতি এবং বিপুলসংখ্যক যুব জনসংখ্যা নিয়ে বাংলাদেশ হবে এশিয়ায় আমাদের অন্যতম প্রধান অংশীদার।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গার এক বিপুল জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দেয়ায় বাংলাদেশের বদান্যতার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং তার ও তুরস্কের ফাস্ট লেডির রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনের কথা স্মরণ করেন।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকায় তুরস্কের চ্যান্সেরি ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য ঢাকা সফরে বাংলাদেশ পররষ্ট্রমন্ত্রীর আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন।

আঙ্কারায় বাংলাদেশ চ্যান্সেরি কমপ্লেক্স নির্মাণ কাজ ৩ সেপ্টেম্বর সফলভাবে শেষ হয়।

কমপ্লেক্সটির মূল বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে রয়েছে চ্যান্সারি বিল্ডিং, দূতাবাসের আবাসিক ভবন, ২২৯ আসনের ‘বিজয় একাত্তর’ নামক হাইটেক অডিটোরিয়াম, স্বয়ংক্রিয় যান্ত্রিক ও বৈদ্যুতিক সিস্টেম, মসজিদ, জিমনেসিয়াম, বাংলাদেশী আইটেমের জন্য প্রদর্শন কেন্দ্র, বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ ও আর্থ-সামাজিক বিকাশের ওপর রেফারেন্স বইসহ প্রন্থাগার।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের প্রতিচ্ছবি হিসাবে কমপ্লেক্সে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি আবক্ষ ভাস্কর্য ও একটি শহীদ মিনার স্থাপন করা হয়েছে।

এছাড়া, কমপ্লেক্সে ‘অজেয় বাংলাদেশ’ শিরোনামের একটি ৩৬ বর্গমিটার ম্যুরাল এবং পাশাপাশি বাংলাদেশের গ্রামীণ জীবন নিয়ে পোড়ামাটির কাজও করা হয়েছে।

 

ঘটনাপ্রবাহ : বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক