রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান মিয়ানমারকেই করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
jugantor
রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান মিয়ানমারকেই করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

  হাসানুজ্জামান সাকী, নিউইয়র্ক থেকে  

২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২১:৪৪:৩৬  |  অনলাইন সংস্করণ

ফাইল ছবি

জাতিসংঘে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বাংলাদেশ ১১ লাখেরও বেশি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিককে আশ্রয় প্রদান করেছে। তিন বছরের বেশি সময় অতিক্রান্ত হলেও এখন পর্যন্ত মিয়ানমার একজন রোহিঙ্গাকেও ফেরত নেয়নি। এই সমস্যা মিয়ানমারের সৃষ্টি এবং এর সমাধান মিয়ানমারকেই করতে হবে। আমি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এ ব্যাপারে আরও কার্যকর ভূমিকা গ্রহণের অনুরোধ জানাচ্ছি।’

শনিবার জাতিসংঘে দেয়া ভার্চুয়াল ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

শনিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দিনের প্রথমার্ধের শুরুর দিকে বক্তৃতা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অধিবেশনে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা। এসময় প্রায় প্রতিটি সদস্য দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। করোনা মহামারির কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে অধিবেশন কক্ষে একটি দেশের একজন প্রতিনিধিকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের বক্তৃতা অধিবেশনের বড় পর্দায় প্রদর্শিত হয়।

বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারির কারণে জাতিসংঘের ৭৫ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম বিশ্ব নেতৃবৃন্দ বিশ্বের সর্বোচ্চ ফোরাম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভার্চুয়াল অধিবেশনে অংশ নিচ্ছেন। এ অধিবেশনের মূল পর্ব সাধারণ বিতর্কে শনিবার বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতিসংঘে এটি শেখ হাসিনার ১৭তম ভাষণ। এরআগে ১৬ বার সশরীরে উপস্থিত হয়ে বিশ্বশান্তি ও সৌহার্দ্যরে ডাক দিয়েছেন তিনি। এবারই ব্যতিক্রম ঘটেছে। করোনা মহামারির কারণে বিশ্বের কোনো রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান নিউইয়র্কে যাননি। আগে ধারণ করা ভিডিওতে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে বক্তৃতা দেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তৃতার একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল করোনা পরিস্থিতি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘কোভিড-১৯ প্রমাণ করেছে, আমাদের সকলের ভাগ্য একই সূত্রে গাঁথা। আমরা কেউই সুরক্ষিত নই যতক্ষণ পর্যন্ত না আমরা সবার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারছি। এই ভাইরাস আমাদের অনেকটাই ঘরবন্দি করে ফেলেছিল। যার ফলে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার পাশাপাশি আর্থনীতিক কর্মকা­ও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বাংলাদেশে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৮.২ শতাংশ হারে জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু কোভিড-১৯ আমাদের এই অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করেছে।’

করোনা মহামারীর মধ্যে বাংলাদেশ প্রথম থেকেই ‘জীবন ও জীবিকা’ দুই ক্ষেত্রেই সমানভাবে গুরুত্ব দিয়ে কার্যক্রম শুরু করেছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, উৎপাদন যাতে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন না হয়, তার জন্য সরকার বিভিন্ন প্রণোদনার ব্যবস্থা করেছে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিধি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কোভিড-১৯ বিস্তারের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষের জন্য আমরা তাৎক্ষণিকভাবে খাদ্য ও অন্যান্য সহায়তার ব্যবস্থা নিয়েছি। এতে ১০ মিলিয়নের বেশি পরিবার উপকৃত হয়েছেন। আমরা ৪ মিলিয়ন শিক্ষার্থীকে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করেছি। করোনাকালে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, শ্রমিক ও দিনমজুরসহ ৫ মিলিয়ন মানুষকে নগদ অর্থ সহায়তা দিয়েছি। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে গ্রাম পর্যায়ের প্রায় ১৮ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র হতে বিনামূল্যে ৩০ ধরনের ওষুধ দেওয়া হয়।’

আরও পড়ুন

সব দেশ যাতে একসঙ্গে করোনা ভ্যাকসিন পায় তা নিশ্চিত করুন

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান মিয়ানমারকেই করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

 হাসানুজ্জামান সাকী, নিউইয়র্ক থেকে 
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯:৪৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
ফাইল ছবি
ফাইল ছবি

জাতিসংঘে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বাংলাদেশ ১১ লাখেরও বেশি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিককে আশ্রয় প্রদান করেছে। তিন বছরের বেশি সময় অতিক্রান্ত হলেও এখন পর্যন্ত মিয়ানমার একজন রোহিঙ্গাকেও ফেরত নেয়নি। এই সমস্যা মিয়ানমারের সৃষ্টি এবং এর সমাধান মিয়ানমারকেই করতে হবে। আমি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এ ব্যাপারে আরও কার্যকর ভূমিকা গ্রহণের অনুরোধ জানাচ্ছি।’

শনিবার জাতিসংঘে দেয়া ভার্চুয়াল ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

শনিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দিনের প্রথমার্ধের শুরুর দিকে বক্তৃতা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অধিবেশনে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা। এসময় প্রায় প্রতিটি সদস্য দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। করোনা মহামারির কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে অধিবেশন কক্ষে একটি দেশের একজন প্রতিনিধিকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের বক্তৃতা অধিবেশনের বড় পর্দায় প্রদর্শিত হয়।

বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারির কারণে জাতিসংঘের ৭৫ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম বিশ্ব নেতৃবৃন্দ বিশ্বের সর্বোচ্চ ফোরাম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভার্চুয়াল অধিবেশনে অংশ নিচ্ছেন। এ অধিবেশনের মূল পর্ব সাধারণ বিতর্কে শনিবার বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতিসংঘে এটি শেখ হাসিনার ১৭তম ভাষণ। এরআগে ১৬ বার সশরীরে উপস্থিত হয়ে বিশ্বশান্তি ও সৌহার্দ্যরে ডাক দিয়েছেন তিনি। এবারই ব্যতিক্রম ঘটেছে। করোনা মহামারির কারণে বিশ্বের কোনো রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান নিউইয়র্কে যাননি। আগে ধারণ করা ভিডিওতে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে বক্তৃতা দেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তৃতার একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল করোনা পরিস্থিতি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘কোভিড-১৯ প্রমাণ করেছে, আমাদের সকলের ভাগ্য একই সূত্রে গাঁথা। আমরা কেউই সুরক্ষিত নই যতক্ষণ পর্যন্ত না আমরা সবার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারছি। এই ভাইরাস আমাদের অনেকটাই ঘরবন্দি করে ফেলেছিল। যার ফলে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার পাশাপাশি আর্থনীতিক কর্মকা­ও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বাংলাদেশে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৮.২ শতাংশ হারে জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু কোভিড-১৯ আমাদের এই অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করেছে।’

করোনা মহামারীর মধ্যে বাংলাদেশ প্রথম থেকেই ‘জীবন ও জীবিকা’ দুই ক্ষেত্রেই সমানভাবে গুরুত্ব দিয়ে কার্যক্রম শুরু করেছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, উৎপাদন যাতে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন না হয়, তার জন্য সরকার বিভিন্ন প্রণোদনার ব্যবস্থা করেছে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিধি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কোভিড-১৯ বিস্তারের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষের জন্য আমরা তাৎক্ষণিকভাবে খাদ্য ও অন্যান্য সহায়তার ব্যবস্থা নিয়েছি। এতে ১০ মিলিয়নের বেশি পরিবার উপকৃত হয়েছেন। আমরা ৪ মিলিয়ন শিক্ষার্থীকে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করেছি। করোনাকালে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, শ্রমিক ও দিনমজুরসহ ৫ মিলিয়ন মানুষকে নগদ অর্থ সহায়তা দিয়েছি। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে গ্রাম পর্যায়ের প্রায় ১৮ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র হতে বিনামূল্যে ৩০ ধরনের ওষুধ দেওয়া হয়।’

আরও পড়ুন

সব দেশ যাতে একসঙ্গে করোনা ভ্যাকসিন পায় তা নিশ্চিত করুন

 

ঘটনাপ্রবাহ : রোহিঙ্গা বর্বরতা