স্বামীর জন্য রক্ত যোগাড় করতে গিয়ে গৃহবধূ ধর্ষিত, রিমান্ডে দুইজন
jugantor
স্বামীর জন্য রক্ত যোগাড় করতে গিয়ে গৃহবধূ ধর্ষিত, রিমান্ডে দুইজন

  অনলাইন ডেস্ক  

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২২:৫২:৫১  |  অনলাইন সংস্করণ

র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হহওয়া দুই অভিযুক্ত

মুমূর্ষু স্বামীর জন্য রক্ত যোগাড়করতে গিয়ে এক নারী ধর্ষণের শিকার হওয়ার ঘটনায় গ্রেফতার দুইজনকে দুই দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত। তারা হলেন, মনোয়ার হোসেন ওরফে সজীব (৪৩) ও সহায়তাকারী মাশনু আরা বেগম ওরফে শিল্পীর (৪০)।

রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দেবদাস চন্দ্র অধিকারী এই আদেশ দেন।

আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার ওমেদার মোহাম্মদ সরোয়ার সংবাদ মাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তপন কুমার বিশ্বাস আসামিদের হাজির করে সাত দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে গত শুক্রবার রাত ৮টায় রাজধানীর মিরপুরে মনিপুরীপাড়ায় শিফা ভিলা নামের একটি ফ্ল্যাট থেকে র‌্যাব ২-এর একটি বিশেষ দল তাদের গ্রেফতার করে।

এ বিষয়ে র‍্যাব ২-এর কমান্ডিং অফিসার (সিপিসি-২) মেজর এম এম পারভেজ আরেফিন গণমাধ্যমকে বলেন, আসামি মনোয়ার হোসেন সজীবের মা ও অভিযোগকারী গৃহবধূর স্বামী সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামীর জন্য ‘ও' পজিটিভ রক্ত প্রয়োজন বলে চিকিৎসক জানিয়ে দেন। পরে রক্তের সন্ধানে গৃহবধূ হাসপাতালটির নিচ তলার ব্ল্যাড ব্যাংকে যান। সেখানেই বসে ছিলেন অভিযুক্ত সজীব।

র‍্যাব কর্মকর্তা জানান, ব্ল্যাড ব্যাংকে রক্ত না থাকায় সজীব তখন ওই গৃহবধূকে মালিবাগের কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের কার্যালয়ে যেতে বলেন। কিন্তু গৃহবধূ মালিবাগ চিনেন না বলে সজীবকে জানান। এ সময় সজীব তাকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। পরে ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে তারা মালিবাগের কোয়ান্টামের উদ্দেশ্যে যাত্রা করনে। সেখানে রক্ত না থাকায় কোয়ান্টাম থেকে জানানো হয়, টাকা রেখে যেতে। টাকা দিলে পরেরদিন রক্ত পাওয়া যাবে বলে জানানো হয়।

মেজর এম এম পারভেজ আরেফিন জানান, কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে রক্তের প্রয়োজনের কারণে গৃহবধূ কোয়ান্টামে টাকা জমা না দিয়ে সেখান থেকে চলে আসেন। পরে তারা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রওনা দেন।

পথিমধ্যে মনোয়ার হোসাইন সজীব ওই গৃহবধূকে বলেন, 'মিরপুরের মনিপুরে আমার এক বোন আছেন। সেখানে গেলে রক্তের ব্যবস্থা হতে পারে।' পরে তারা দুজনই মনিপুরে যান। সে সময় সজীব তাকে একটি বাসায় উঠতে বলেন। কিন্তু গৃহবধূ রাজি হচ্ছিলেন না। পরে গৃহবধূকে জোর করে অপর আসামি শিল্পীর বাসায় ওঠানো হয়। এরপর শিল্পী তাদের নাস্তা খাওয়ানোর কথা রান্নাঘরের দিকে যান।

সে সময় সজীব ঘরের দরজা বন্ধ করে দেন এবং গৃহবধূকে ধর্ষণ করেন। ধর্ষণের পর তিনি যাতে এই ঘটনা কাউকে না বলেন সেজন্য মেরে ফেলার হুমকি দেন। পরে তারা হাসপাতালে চলে যান। গৃহবধূর স্বামী অধিক অসুস্থ হওয়ায় এই ঘটনা তিনি কাউকে জানাননি। পরে অন্যভাবে রক্ত ম্যানেজ করেন ওই গৃহবধূ।

ওই রোগীর পুনরায় রক্তের প্রয়োজন হয়। এই ঘটনা সজীব জানতে পারেন। পরবর্তী সময়ে গত ২৪ সেপ্টেম্বর সজীব পুনরায় রক্ত ম্যানেজ করে দেওয়ার কথা জানান ওই গৃহবধূকে। পরে গৃহবধূ ধর্ষণের ঘটনা তার স্বামীকে জানিয়ে দেন। এরপরে গত ২৫ সেপ্টেম্বর তার স্বামী র‍্যাবের কাছে অভিযোগ করেন। ওই দিন রাতে মনিপুরে ওই বোনের বাড়ি থেকে সজীব ও তার বোনকে গ্রেফতার করে র‍্যাব। গ্রেফতারের পর পুরো ঘটনা স্বীকার করেছেন সজীব।

স্বামীর জন্য রক্ত যোগাড় করতে গিয়ে গৃহবধূ ধর্ষিত, রিমান্ডে দুইজন

 অনলাইন ডেস্ক 
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০:৫২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হহওয়া দুই অভিযুক্ত
র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হহওয়া দুই অভিযুক্ত। ছবি: সংগৃহীত

মুমূর্ষু স্বামীর জন্য রক্ত যোগাড় করতে গিয়ে এক নারী ধর্ষণের শিকার হওয়ার ঘটনায় গ্রেফতার দুইজনকে দুই দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত। তারা হলেন, মনোয়ার হোসেন ওরফে সজীব (৪৩) ও সহায়তাকারী মাশনু আরা বেগম ওরফে শিল্পীর (৪০)।

রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দেবদাস চন্দ্র অধিকারী এই আদেশ দেন।

আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার ওমেদার মোহাম্মদ সরোয়ার সংবাদ মাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। 

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তপন কুমার বিশ্বাস আসামিদের হাজির করে সাত দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে গত শুক্রবার রাত ৮টায় রাজধানীর মিরপুরে মনিপুরীপাড়ায় শিফা ভিলা নামের একটি ফ্ল্যাট থেকে র‌্যাব ২-এর একটি বিশেষ দল তাদের গ্রেফতার করে।

এ বিষয়ে  র‍্যাব ২-এর কমান্ডিং অফিসার (সিপিসি-২) মেজর এম এম পারভেজ আরেফিন গণমাধ্যমকে  বলেন, আসামি মনোয়ার হোসেন সজীবের মা ও অভিযোগকারী গৃহবধূর স্বামী সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামীর জন্য ‘ও' পজিটিভ রক্ত প্রয়োজন বলে চিকিৎসক জানিয়ে দেন। পরে রক্তের সন্ধানে গৃহবধূ হাসপাতালটির নিচ তলার ব্ল্যাড ব্যাংকে যান। সেখানেই বসে ছিলেন অভিযুক্ত সজীব।

র‍্যাব কর্মকর্তা জানান, ব্ল্যাড ব্যাংকে রক্ত না থাকায় সজীব তখন ওই গৃহবধূকে মালিবাগের কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের কার্যালয়ে যেতে বলেন। কিন্তু গৃহবধূ মালিবাগ চিনেন না বলে সজীবকে জানান। এ সময় সজীব তাকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। পরে ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে তারা মালিবাগের কোয়ান্টামের উদ্দেশ্যে যাত্রা করনে। সেখানে রক্ত না থাকায় কোয়ান্টাম থেকে জানানো হয়, টাকা রেখে যেতে। টাকা দিলে পরেরদিন রক্ত পাওয়া যাবে বলে জানানো হয়।

মেজর এম এম পারভেজ আরেফিন জানান, কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে রক্তের প্রয়োজনের কারণে গৃহবধূ কোয়ান্টামে টাকা জমা না দিয়ে সেখান থেকে চলে আসেন। পরে তারা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রওনা দেন। 

পথিমধ্যে মনোয়ার হোসাইন সজীব ওই গৃহবধূকে বলেন, 'মিরপুরের মনিপুরে আমার এক বোন আছেন। সেখানে গেলে রক্তের ব্যবস্থা হতে পারে।' পরে তারা দুজনই মনিপুরে যান। সে সময় সজীব তাকে একটি বাসায় উঠতে বলেন। কিন্তু গৃহবধূ রাজি হচ্ছিলেন না। পরে গৃহবধূকে জোর করে অপর আসামি শিল্পীর বাসায় ওঠানো হয়। এরপর শিল্পী তাদের নাস্তা খাওয়ানোর কথা রান্নাঘরের দিকে যান। 

সে সময় সজীব ঘরের দরজা বন্ধ করে দেন এবং গৃহবধূকে ধর্ষণ করেন। ধর্ষণের পর তিনি যাতে এই ঘটনা কাউকে না বলেন সেজন্য মেরে ফেলার হুমকি দেন। পরে তারা হাসপাতালে চলে যান। গৃহবধূর স্বামী অধিক অসুস্থ হওয়ায় এই ঘটনা তিনি কাউকে জানাননি। পরে অন্যভাবে রক্ত ম্যানেজ করেন ওই গৃহবধূ। 

ওই রোগীর পুনরায় রক্তের প্রয়োজন হয়। এই ঘটনা সজীব জানতে পারেন। পরবর্তী সময়ে গত ২৪ সেপ্টেম্বর সজীব পুনরায় রক্ত ম্যানেজ করে দেওয়ার কথা জানান ওই গৃহবধূকে। পরে গৃহবধূ ধর্ষণের ঘটনা তার স্বামীকে জানিয়ে দেন। এরপরে গত ২৫ সেপ্টেম্বর তার স্বামী র‍্যাবের কাছে অভিযোগ করেন। ওই দিন রাতে মনিপুরে ওই বোনের বাড়ি থেকে সজীব ও তার বোনকে গ্রেফতার করে র‍্যাব। গ্রেফতারের পর পুরো ঘটনা স্বীকার করেছেন সজীব।