তিস্তাসহ ৬টি নদীর পানি সমস্যা সমাধানে আগ্রহ দেখিয়েছে ভারত
jugantor
জেসিসি বৈঠক শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন 
তিস্তাসহ ৬টি নদীর পানি সমস্যা সমাধানে আগ্রহ দেখিয়েছে ভারত

  যুগান্তর রিপোর্ট  

২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৯:৪৬:৩১  |  অনলাইন সংস্করণ

পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন

তিস্তাসহ ছয়টি নদীর পানি বণ্টন সমস্যা সমাধানে আগ্রহ দেখিয়েছে ভারত। মঙ্গলবার ভার্চুয়াল মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ পরামর্শক কমিশনের (জেসিসি) বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বৈঠকে নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তার মধ্যে তিস্তাসহ ছয় নদীর পানি বণ্টন নিয়ে আলোচনা হয়। এসব নদীর পানি বণ্টন সমস্যার সমাধান চেয়েছে বাংলাদেশ। ভারত সমাধানের আগ্রহ দেখিয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, সীমান্ত হত্যা বাংলাদেশ-ভারত উভয়ের জন্যই লজ্জার। এছাড়া এই যে সামান্য পেঁয়াজ, এটা আমাদের বাজারকে অস্থিতিশীল করে তোলে।

করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে এবারের বৈঠক ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্কর নিজ নিজ দেশ থেকে এ বৈঠকে যোগ দেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্ত হত্যা নিয়ে বাংলাদেশ উদ্বিগ্ন। এ ইস্যুতে ভারতও একই প্রকার মনোভাব প্রকাশ করেছে। দুই দেশের মধ্যে ফ্লাইট পরিচালনা করতে আলোচনা হয়েছে। তিস্তা নদীর পানি বন্টন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিস্তা চুক্তির সমাধান হবে।

ন্যায্যতার ভিত্তিতে তিস্তাসহ ৭টি নদীর পানি বন্টন শিগগিরই হবে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

বৈঠক সূত্রে অভিন্ন নদ-নদীগুলোর পানিবণ্টন, ভারতীয় ঋণের (লাইন অব ক্রেডিট, সংক্ষেপে এলওসি) আওতাধীন প্রকল্পগুলোর দ্রুত বাস্তবায়নসহ দ্বিপক্ষীয় ইস্যুতে আলোচনা হয়েছে। এবারের বৈঠকেও সর্বশেষ জেসিসি বৈঠক ও শীর্ষ নেতাদের নির্দেশনা বাস্তবায়নে অগ্রগতি এবং সম্পর্কের অবস্থা পর্যালোচনা করা হয়।

গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে নয়াদিল্লিতে কমিশনের পঞ্চম বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার পর বাংলাদেশ জেসিসির ষষ্ঠ বৈঠক আয়োজন করার কথা, যা এখন ভার্চুয়ালি হয়েছে।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, চলমান মহামারীর প্রেক্ষাপটে উভয় পক্ষই স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেছেন। বিশেষত কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের সরবরাহ, বিতরণ এবং সহ-উৎপাদনের ক্ষেত্রে। ভবিষ্যতে সম্ভাব্য ভ্যাকসিন সরবরাহের জন্য বাংলাদেশকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে ভারতের আশ্বাসের প্রশংসা করেছেন ড. মোমেন।

উভয় পক্ষই সম্মিলিতভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী এবং দু'দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পঞ্চাশতম বার্ষিকী উদযাপন করতে সম্মত হয়েছে। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর পর্যায়ে ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হবে দুই দেশের মধ্যে। ঐতিহাসিক মুজিবনগর-কলকাতা সড়ক পুনরায় চালু করা হবে। বিজয় এবং বন্ধুত্বের ৫০ বছর উপলক্ষে ওয়েবসাইট চালু, দুই পক্ষই বঙ্গবন্ধু ও গান্ধীকে নিয়ে ডিজিটাল জাদুঘর প্রতিষ্ঠায় একমত হয়েছে।

ভারত সরকারও ২০২০ সালের ১৬ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে একটি স্মারক স্ট্যাম্প বঙ্গবন্ধুর জীবন ও আদর্শে তাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাবে। বাংলাদেশ পক্ষ ভারতীয় পক্ষকে অনুরোধ করেছে বিশেষ করে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য পারস্পরিকভাবে ভিসা এবং স্থলসীমা নিষেধাজ্ঞাগুলি সহজতর করতে বিশেষ করে যারা মেডিকেল রোগী এবং শিক্ষার্থীরা ভারতের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হন।

সাফটার আওতায় দেওয়া শুল্ক ছাড়ের জন্য বাংলাদেশ ভারতকে ধন্যবাদ জানিয়েছে।

কারণ শুল্কবিহীন বিভিন্ন বাধা এবং পর্যাপ্ত বাণিজ্য সুবিধার অভাব বাংলাদেশের প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করছে ভারতে পণ্য বিশেষত উত্তর-পূর্ব দিকে যাওয়ার ক্ষেত্রে।

ড. মোমেন তার প্রতিপক্ষ ড. সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্করকে পেঁয়াজের মতো প্রয়োজনীয় পণ্য রফতানির দিকে নজর রাখতে আহ্বান জানিয়েছেন, যেহেতু এটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাজারকে প্রভাবিত করে। তিনি সমতার ভিত্তিকে জোর দিয়েছেন বাংলাদেশ-ভারত বিনিয়োগ নীতি প্রয়োগে।

জেসিসি বৈঠক শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন 

তিস্তাসহ ৬টি নদীর পানি সমস্যা সমাধানে আগ্রহ দেখিয়েছে ভারত

 যুগান্তর রিপোর্ট 
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৭:৪৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন
ছবি: সংগৃহীত

তিস্তাসহ ছয়টি নদীর পানি বণ্টন সমস্যা সমাধানে আগ্রহ দেখিয়েছে ভারত।  মঙ্গলবার ভার্চুয়াল মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ পরামর্শক কমিশনের (জেসিসি) বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বৈঠকে নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।  তার মধ্যে তিস্তাসহ ছয় নদীর পানি বণ্টন নিয়ে আলোচনা হয়। এসব নদীর পানি বণ্টন সমস্যার সমাধান চেয়েছে বাংলাদেশ। ভারত সমাধানের আগ্রহ দেখিয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, সীমান্ত হত্যা বাংলাদেশ-ভারত উভয়ের জন্যই লজ্জার।  এছাড়া এই যে সামান্য পেঁয়াজ, এটা আমাদের বাজারকে অস্থিতিশীল করে তোলে।

করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে এবারের বৈঠক ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্কর নিজ নিজ দেশ থেকে এ বৈঠকে যোগ দেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্ত হত্যা নিয়ে বাংলাদেশ উদ্বিগ্ন।  এ ইস্যুতে ভারতও একই প্রকার মনোভাব প্রকাশ করেছে।  দুই দেশের মধ্যে ফ্লাইট পরিচালনা করতে আলোচনা হয়েছে। তিস্তা নদীর পানি বন্টন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিস্তা চুক্তির সমাধান হবে।

ন্যায্যতার ভিত্তিতে তিস্তাসহ ৭টি নদীর পানি বন্টন শিগগিরই হবে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

বৈঠক সূত্রে অভিন্ন নদ-নদীগুলোর পানিবণ্টন, ভারতীয় ঋণের (লাইন অব ক্রেডিট, সংক্ষেপে এলওসি) আওতাধীন প্রকল্পগুলোর দ্রুত বাস্তবায়নসহ দ্বিপক্ষীয় ইস্যুতে আলোচনা হয়েছে। এবারের বৈঠকেও সর্বশেষ জেসিসি বৈঠক ও শীর্ষ নেতাদের নির্দেশনা বাস্তবায়নে অগ্রগতি এবং সম্পর্কের অবস্থা পর্যালোচনা করা হয়।

গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে নয়াদিল্লিতে কমিশনের পঞ্চম বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার পর বাংলাদেশ জেসিসির ষষ্ঠ বৈঠক আয়োজন করার কথা, যা এখন ভার্চুয়ালি হয়েছে।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, চলমান মহামারীর প্রেক্ষাপটে উভয় পক্ষই স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেছেন। বিশেষত কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের সরবরাহ, বিতরণ এবং সহ-উৎপাদনের ক্ষেত্রে। ভবিষ্যতে সম্ভাব্য ভ্যাকসিন সরবরাহের জন্য বাংলাদেশকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে ভারতের আশ্বাসের প্রশংসা করেছেন ড. মোমেন।

উভয় পক্ষই সম্মিলিতভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী এবং দু'দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পঞ্চাশতম বার্ষিকী উদযাপন করতে সম্মত হয়েছে। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর পর্যায়ে ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হবে দুই দেশের মধ্যে। ঐতিহাসিক মুজিবনগর-কলকাতা সড়ক পুনরায় চালু করা হবে। বিজয় এবং বন্ধুত্বের ৫০ বছর উপলক্ষে ওয়েবসাইট চালু, দুই পক্ষই বঙ্গবন্ধু ও গান্ধীকে নিয়ে ডিজিটাল জাদুঘর প্রতিষ্ঠায় একমত হয়েছে।

ভারত সরকারও ২০২০ সালের ১৬ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে একটি স্মারক স্ট্যাম্প বঙ্গবন্ধুর জীবন ও আদর্শে তাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাবে। বাংলাদেশ পক্ষ ভারতীয় পক্ষকে অনুরোধ করেছে বিশেষ করে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য পারস্পরিকভাবে ভিসা এবং স্থলসীমা নিষেধাজ্ঞাগুলি সহজতর করতে বিশেষ করে যারা মেডিকেল রোগী এবং শিক্ষার্থীরা ভারতের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হন।

সাফটার আওতায় দেওয়া শুল্ক ছাড়ের জন্য বাংলাদেশ ভারতকে ধন্যবাদ জানিয়েছে।

কারণ শুল্কবিহীন বিভিন্ন বাধা এবং পর্যাপ্ত বাণিজ্য সুবিধার অভাব বাংলাদেশের প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করছে ভারতে পণ্য বিশেষত উত্তর-পূর্ব দিকে যাওয়ার ক্ষেত্রে।

ড. মোমেন তার প্রতিপক্ষ ড. সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্করকে পেঁয়াজের মতো প্রয়োজনীয় পণ্য রফতানির দিকে নজর রাখতে আহ্বান জানিয়েছেন, যেহেতু এটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাজারকে প্রভাবিত করে। তিনি সমতার ভিত্তিকে জোর দিয়েছেন বাংলাদেশ-ভারত বিনিয়োগ নীতি প্রয়োগে।