মিন্নিসহ সব আসামির প্রাণদণ্ড চায় রিফাতের পরিবার
jugantor
মিন্নিসহ সব আসামির প্রাণদণ্ড চায় রিফাতের পরিবার

  যুগান্তর রিপোর্ট  

৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০:৫৭:২০  |  অনলাইন সংস্করণ

মিন্নিসহ সব আসামির প্রাণদণ্ড চায় রিফাতের পরিবার

বরগুনার চাঞ্চল্যকর রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় তার স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিসহ প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির সবার মৃত্যুদণ্ড চান রিফাতের বাবা-মা। অন্যদিকে মিন্নি বেকসুর খালাস পাবেন বলে আশা তার পরিবার ও আইনজীবীর।

কিছুক্ষণ পরই রিফাত হত্যা মামলায় প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির রায়। বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ মো. আছাদুজ্জামান এ মামলার রায় ঘোষণা করবেন।

১৫ মাস আগের নৃশংসভাবে রিফাতকে কুপিয়ে হত্যার বহুল আলোচিত এ মামলায় পুলিশ যে ২৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছিল, তাদের মধ্যে ১০ জনের বিচার চলে জজ আদালতে। বাকি ১৪ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাদের বিচার চলছে বরগুনার শিশু আদালতে আলাদাভাবে।

এ মামলার ১ নম্বর আসামি রাকিবুল হাসান ওরফে রিফাত ফরাজী (২৩) বরগুনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেনের ভায়রার ছেলে। আর নিহত রিফাতের স্ত্রী মিন্নি (১৯) অভিযোগপত্রের ৭ নম্বর আসামি, যার নাম এ মামলার এজাহারে ছিল এক নম্বর সাক্ষী হিসেবে।

প্রাপ্তবয়স্ক বাকি আট আসামি হলেন- আল কাইয়ুম ওরফে রাব্বি আকন (২১), মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত (১৯), রেজোয়ান আলী খান হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয় (২২), হাসান (১৯), মুসা (২২), রাফিউল ইসলাম রাব্বি (২০), সাগর (১৯) ও কামরুল হাসান সায়মুন (২১)।

এদের মধ্যে মুসা পলাতক, মিন্নি আছেন জামিনে। বাকিরা গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন।

মিন্নি আইনজীবীর জিম্মায় ইতিমধ্যে আদালতে পৌঁছেছেন। অন্য আসামিদেরও কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়েছে।

মামলার বাদী রিফাতের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ বলেন, মিন্নিসহ সব আসামির শাস্তি চাই আমরা। আদালত রিফাতের খুনের সঙ্গে জড়িতদের এমন শাস্তি দিক যাতে আমরা স্বস্তি পাই।

সব আসামির ফাঁসি চেয়েছেন রিফাতের মা ডেইজি আক্তার।

তিনি বলেন, আমি সব আসামির ফাঁসি চাই। এমন জঘন্য হত্যাকাণ্ড যেন দেশ আর না হয়। আমার মত আর কোনো মায়ের বুক যেন খালি না হয়।

ভাইকে হারিয়ে শোকাহত রিফাতের একমাত্র বোন ইসরাত জাহান মৌ বলেন, ভাই ছিল কলিজার টুকরা। ভাই ছিল আমার সাহস ও ভরসা। ভাইকে হারিয়ে আজ আমরা নিঃস্ব। ভাইকে তো আর ফিরে পাব না।

মিন্নিসহ সব খুনির দৃষ্টান্তমূলক সাজা হলে কিছুটা শান্তি পাব। ভাইয়ার আত্মাও শান্তি পাবে। ভাইয়ের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।

অন্যদিকে নিহত রিফাতের স্ত্রী মিন্নিকে নির্দোষ দাবি করছে তার বাবা-মা। মিন্নি অভিযোগপত্রের ৭ নম্বর আসামি, যার নাম এ মামলার এজাহারে ছিল এক নম্বর সাক্ষী হিসেবে। পরে পুলিশের তদন্তের পর তাকে আসামি করা হয়।

মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর বলেন, আমরা হয়রানির শিকার। জীবন বাজি রেখে মিন্নি তার স্বামীকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। অথচ মিন্নি প্রধান সাক্ষী থেকে এখন আসামির কাঠগড়ায়। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।

মিন্নি বেকসুর খালাস পাবে বলে আমরা আশা করি।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৬ জুন রিফাত হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়। হত্যাকাণ্ডের একদিন পর ১২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৫-৬ জনকে আসামি করে বরগুনা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহত রিফাতের বাবা। এ মামলায় মিন্নিকে প্রধান সাক্ষী করেন নিহত রিফাতর বাবা দুলাল শরীফ।

হত্যাকাণ্ডের ২০ দিন পর গত বছরের ১৬ জুলাই মিন্নিকে তার বাবার বাসা থেকে বরগুনা পুলিশ লাইন্সে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ওইদিন রাতেই মিন্নিকে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ।

মিন্নিসহ সব আসামির প্রাণদণ্ড চায় রিফাতের পরিবার

 যুগান্তর রিপোর্ট 
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০:৫৭ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ
মিন্নিসহ সব আসামির প্রাণদণ্ড চায় রিফাতের পরিবার
ফাইল ছবি

বরগুনার চাঞ্চল্যকর রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় তার স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিসহ প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির সবার মৃত্যুদণ্ড চান রিফাতের বাবা-মা। অন্যদিকে মিন্নি বেকসুর খালাস পাবেন বলে আশা তার পরিবার ও আইনজীবীর।

কিছুক্ষণ পরই রিফাত হত্যা মামলায় প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির রায়। বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ মো. আছাদুজ্জামান এ মামলার রায় ঘোষণা করবেন।

১৫ মাস আগের নৃশংসভাবে রিফাতকে কুপিয়ে হত্যার বহুল আলোচিত এ মামলায় পুলিশ যে ২৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছিল, তাদের মধ্যে ১০ জনের বিচার চলে জজ আদালতে। বাকি ১৪ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাদের বিচার চলছে বরগুনার শিশু আদালতে আলাদাভাবে।

এ মামলার ১ নম্বর আসামি রাকিবুল হাসান ওরফে রিফাত ফরাজী (২৩) বরগুনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেনের ভায়রার ছেলে। আর নিহত রিফাতের স্ত্রী মিন্নি (১৯) অভিযোগপত্রের ৭ নম্বর আসামি, যার নাম এ মামলার এজাহারে ছিল এক নম্বর সাক্ষী হিসেবে।

প্রাপ্তবয়স্ক বাকি আট আসামি হলেন- আল কাইয়ুম ওরফে রাব্বি আকন (২১), মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত (১৯), রেজোয়ান আলী খান হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয় (২২), হাসান (১৯), মুসা (২২), রাফিউল ইসলাম রাব্বি (২০), সাগর (১৯) ও কামরুল হাসান সায়মুন (২১)।

এদের মধ্যে মুসা পলাতক, মিন্নি আছেন জামিনে। বাকিরা গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন।

মিন্নি আইনজীবীর জিম্মায় ইতিমধ্যে আদালতে পৌঁছেছেন। অন্য আসামিদেরও কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়েছে।

মামলার বাদী রিফাতের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ বলেন, মিন্নিসহ সব আসামির শাস্তি চাই আমরা। আদালত রিফাতের খুনের সঙ্গে জড়িতদের এমন শাস্তি দিক যাতে আমরা স্বস্তি পাই।

সব আসামির ফাঁসি চেয়েছেন রিফাতের মা ডেইজি আক্তার।

তিনি বলেন, আমি সব আসামির ফাঁসি চাই। এমন জঘন্য হত্যাকাণ্ড যেন দেশ আর না হয়। আমার মত আর কোনো মায়ের বুক যেন খালি না হয়।

ভাইকে হারিয়ে শোকাহত রিফাতের একমাত্র বোন ইসরাত জাহান মৌ বলেন, ভাই ছিল কলিজার টুকরা। ভাই ছিল আমার সাহস ও ভরসা। ভাইকে হারিয়ে আজ আমরা নিঃস্ব। ভাইকে তো আর ফিরে পাব না।

মিন্নিসহ সব খুনির দৃষ্টান্তমূলক সাজা হলে কিছুটা শান্তি পাব। ভাইয়ার আত্মাও শান্তি পাবে।  ভাইয়ের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।

অন্যদিকে নিহত রিফাতের স্ত্রী মিন্নিকে নির্দোষ দাবি করছে তার বাবা-মা। মিন্নি অভিযোগপত্রের ৭ নম্বর আসামি, যার নাম এ মামলার এজাহারে ছিল এক নম্বর সাক্ষী হিসেবে। পরে পুলিশের তদন্তের পর তাকে আসামি করা হয়।

মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর বলেন, আমরা হয়রানির শিকার। জীবন বাজি রেখে মিন্নি তার স্বামীকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। অথচ মিন্নি প্রধান সাক্ষী থেকে এখন আসামির কাঠগড়ায়। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।

মিন্নি বেকসুর খালাস পাবে বলে আমরা আশা করি।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৬ জুন রিফাত হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়। হত্যাকাণ্ডের একদিন পর ১২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৫-৬ জনকে আসামি করে বরগুনা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহত রিফাতের বাবা। এ মামলায় মিন্নিকে প্রধান সাক্ষী করেন নিহত রিফাতর বাবা দুলাল শরীফ।

হত্যাকাণ্ডের ২০ দিন পর গত বছরের ১৬ জুলাই মিন্নিকে তার বাবার বাসা থেকে বরগুনা পুলিশ লাইন্সে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ওইদিন রাতেই মিন্নিকে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ।
 

 

ঘটনাপ্রবাহ : রিফাতকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০