‘তালিকা থেকে বাদ যেতে পারে ৫-৭ ভাগ মুক্তিযোদ্ধা’
jugantor
‘তালিকা থেকে বাদ যেতে পারে ৫-৭ ভাগ মুক্তিযোদ্ধা’

  মেহেরপুর প্রতিনিধি  

২০ অক্টোবর ২০২০, ১৬:৫৮:০২  |  অনলাইন সংস্করণ

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, আগামী ১৬ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধার তালিকা প্রকাশ করা হবে। করোনার কারণে আমরা তালিকা প্রকাশ করতে পারিনি। নভেম্বরে ভোটার তালিকা প্রকাশ আর জানুয়ারিতে মুক্তিযুদ্ধ সংসদ নির্বাচন হবে।

তিনি আরও বলেন, যাচায় বাছাই শেষে ৫ থেকে ৭ ভাগ মুক্তিযোদ্ধা বাদ যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। নতুন করে আরও কিছু মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। যারা তালিকা থেকে বাদ পড়বে, তাদের আপিল করার সুযোগ থাকবে। সে মতো কমিশন গঠন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার মেহেরপুরের মুজিবনগরে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কমপ্লেক্সে ‘মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কেন্দ্র প্রকল্পের কার্যক্রম ও ব্যয় পর্যালোচনা সভা’র আগে মন্ত্রী সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, মুজিবনগর আমাদের তীর্থভূমি। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধু মুজিবনগরকে মূল্যায়নের লিখিত নির্দেশ দেন। সেই লক্ষেই আমরা কাজ করছি। খালেদা জিয়ার সরকারের সময় মুজিবনগরে মুক্তিযুদ্ধে সেক্টর ভিত্তিক বাংলাদেশ মানচিত্র সহ মুজিবনগর প্রকল্পর স্থাপনা নিম্নমানের করেছে। সেখানে বঙ্গবন্ধু ও চার নেতাসহ অধিকাংশ ভাস্কর্য বিকৃত করেছে।

মেহেরপুর জেলা প্রশাসক মুহম্মদ মুনসুর আলম খানের সভাপতিত্বে মন্ত্রী আরও বলেছেন, ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল এই মুজিবনগর আম্রকাননে বাংলাদেশের প্রথম সরকার শপথ গ্রহণ করেছিলেন। এজন্য সেদিন থেকেই এই আম্রকানন ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছে। তাছাড়া বাগানটির বয়স ১২৫ বছর। দুটি কারণেই এই বাগানটিকে সংরক্ষণ করতেই হবে।

বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে এই মুজিবনগরে শপথ নেয়া সরকারের প্রতি সম্মান রেখে তিনি আরও বলেছেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রীর ঐকান্তিক ইচ্ছা মুজিবনগরকে ঢেলে সাজানোর। প্রধানমন্ত্রী মুজিবনগরে যে এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। সেই অনুযায়ী নকশার কাজ চলছে। নতুন করে আন্তর্জাতিক মানের যেসব ভাস্কর্য ও স্থাপনা কোথায় হবে তার নকশা করা হয়েছে। ১০ দিনের মধ্যে প্লানিং কমিশনে পাঠানো হবে।

মন্ত্রী সভার আগে মুজিবনগর স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

জন প্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এমপি ভার্চুয়াল জুমে এই সভায় যোগ দিয়ে বলেছেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। মুজিবনগর প্রকল্পে নভোথিয়েটার যোগ করা যায় কী না সেটা ভেবে দেখা হচ্ছে। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল বাংলাদেশের প্রথম সরকারের অপথ অনুষ্ঠানে যেসব গণমানুষ জয়বাংলা শ্লোগান দিয়েছিলেন। সেই দৃশটিও ফুটিয়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, মুজিবনগর স্মৃতি প্রকল্প বঙ্গবন্ধুসহ স্বাধিকার আন্দোলনের নেতাদের ভাস্কর্যের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলতে হবে আন্তর্জাতিক মানে। যাতে পর্যটকরা প্রকল্প ঘুরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ত্যাগের ইতিহাস জানতে পারে।

অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ বলেন, বর্তমান সরকার সাংস্কৃতিক বান্ধব সরকার। ইতোমধ্যে সরকার ১২ হাজার সাংস্কৃতিক কর্মীকে আর্থিক অনুদান দিয়েছেন।

সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের সচিব তপন কান্তি ঘোষ, স্থাপনা অধিদফতরের তত্ত্বাবধায়ক আসিফুর রহমান ভুঁইয়া, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার ড. মু আনোয়ার হোসেন হাওলাদার, মেহেরপুরের পুলিশ সুপার এসএম মুরাদ আলী, মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ।

‘তালিকা থেকে বাদ যেতে পারে ৫-৭ ভাগ মুক্তিযোদ্ধা’

 মেহেরপুর প্রতিনিধি 
২০ অক্টোবর ২০২০, ০৪:৫৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, আগামী ১৬ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধার তালিকা প্রকাশ করা হবে। করোনার কারণে আমরা তালিকা প্রকাশ করতে পারিনি। নভেম্বরে ভোটার তালিকা প্রকাশ আর জানুয়ারিতে মুক্তিযুদ্ধ সংসদ নির্বাচন হবে।

তিনি আরও বলেন, যাচায় বাছাই শেষে ৫ থেকে ৭ ভাগ মুক্তিযোদ্ধা বাদ যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। নতুন করে আরও কিছু মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। যারা তালিকা থেকে বাদ পড়বে, তাদের আপিল করার সুযোগ থাকবে। সে মতো কমিশন গঠন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার মেহেরপুরের মুজিবনগরে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কমপ্লেক্সে  ‘মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কেন্দ্র প্রকল্পের কার্যক্রম ও ব্যয় পর্যালোচনা সভা’র আগে মন্ত্রী সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, মুজিবনগর আমাদের তীর্থভূমি। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধু মুজিবনগরকে মূল্যায়নের লিখিত নির্দেশ দেন। সেই লক্ষেই আমরা কাজ করছি। খালেদা জিয়ার সরকারের সময় মুজিবনগরে মুক্তিযুদ্ধে সেক্টর ভিত্তিক বাংলাদেশ মানচিত্র সহ মুজিবনগর প্রকল্পর স্থাপনা নিম্নমানের করেছে। সেখানে বঙ্গবন্ধু ও চার নেতাসহ অধিকাংশ ভাস্কর্য বিকৃত করেছে।

মেহেরপুর জেলা প্রশাসক মুহম্মদ মুনসুর আলম খানের সভাপতিত্বে মন্ত্রী আরও বলেছেন, ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল এই মুজিবনগর আম্রকাননে বাংলাদেশের প্রথম সরকার শপথ গ্রহণ করেছিলেন। এজন্য সেদিন থেকেই এই আম্রকানন ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছে। তাছাড়া বাগানটির বয়স ১২৫ বছর। দুটি কারণেই এই বাগানটিকে সংরক্ষণ করতেই হবে।

বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে এই মুজিবনগরে শপথ নেয়া সরকারের প্রতি সম্মান রেখে তিনি আরও বলেছেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রীর ঐকান্তিক ইচ্ছা মুজিবনগরকে ঢেলে সাজানোর। প্রধানমন্ত্রী মুজিবনগরে যে এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। সেই অনুযায়ী নকশার কাজ চলছে। নতুন করে আন্তর্জাতিক মানের যেসব ভাস্কর্য ও স্থাপনা কোথায় হবে তার নকশা করা হয়েছে। ১০ দিনের মধ্যে প্লানিং কমিশনে পাঠানো হবে।

মন্ত্রী সভার আগে মুজিবনগর স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

জন প্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এমপি ভার্চুয়াল জুমে এই সভায় যোগ দিয়ে বলেছেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। মুজিবনগর প্রকল্পে নভোথিয়েটার যোগ করা যায় কী না সেটা ভেবে দেখা হচ্ছে। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল বাংলাদেশের প্রথম সরকারের অপথ অনুষ্ঠানে যেসব গণমানুষ জয়বাংলা শ্লোগান দিয়েছিলেন। সেই দৃশটিও ফুটিয়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, মুজিবনগর স্মৃতি প্রকল্প বঙ্গবন্ধুসহ স্বাধিকার আন্দোলনের নেতাদের ভাস্কর্যের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলতে হবে আন্তর্জাতিক মানে। যাতে পর্যটকরা প্রকল্প ঘুরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ত্যাগের ইতিহাস জানতে পারে।

অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ বলেন, বর্তমান সরকার সাংস্কৃতিক বান্ধব সরকার। ইতোমধ্যে সরকার ১২ হাজার সাংস্কৃতিক কর্মীকে আর্থিক অনুদান দিয়েছেন।

সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের সচিব তপন কান্তি ঘোষ, স্থাপনা অধিদফতরের তত্ত্বাবধায়ক আসিফুর রহমান ভুঁইয়া,  খুলনা বিভাগীয় কমিশনার ড. মু আনোয়ার হোসেন হাওলাদার, মেহেরপুরের পুলিশ সুপার এসএম মুরাদ আলী,  মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ।