সেই নোটিশ প্রত্যাহার করে জনস্বাস্থ্য পরিচালকের দুঃখ প্রকাশ 
jugantor
হিজাব ও টাকনুর উপর কাপড় পরার নির্দেশনা
সেই নোটিশ প্রত্যাহার করে জনস্বাস্থ্য পরিচালকের দুঃখ প্রকাশ 

  যুগান্তর রিপোর্ট  

২৯ অক্টোবর ২০২০, ১৯:৫৭:৪৫  |  অনলাইন সংস্করণ

পরিচালক ডা. মুহাম্মদ আবদুর রহিম।

জনস্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটে কর্মরত মুসলমান নারীদের পর্দা ও পুরুষদের টাকনুর ওপর কাপড় পরিধানের নিদের্শনা প্রত্যাহার করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালকডা. মুহাম্মদ আবদুর রহিম।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় যমুনা টিভিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, আমি এ নির্দেশনাটি সবার জন্য দিইনি। শুধু মুসলিম নারী-পুরুষের জন্য দিয়েছিলাম।

তিনি বলেন, গত কয়েকদিন ধরে ধর্ষণের ঘটনা বিভিন্ন প্রচারমাধ্যমে দেখে আমি খুবই বিস্মিত।ধর্ষণে কবীরা গুনাহ হয়। আমি চিন্তা করলাম, আমাদের জন্য কত সহজ যে আমরা কবীরা গুনাহ এভয়েড করতে পারি। টাকনুর নিচে পুরুষ কাপড় পড়বে, আর মহিলারা টাকনুর নিচে কাপড় পড়বে।

তিনি বলেন, ধর্ম একটা ব্যক্তিগত বিষয়, এটা চাপিয়ে দেয়া নয়। এটা তার জ্ঞানগর্ভে একটু নাড়া দেয়া। মুসলমানরা জানেন, টাকনুর নিচে কাপড় পড়লে কী হয়।

তিনি বলেন, এটা তো আমি ফেসবুকে দেই নাই, এটা আমি দিয়েছি, আমার ইন্সটিটিউটে আমার স্টাফরা যাতে কবীরা গুনাহ থেকে বাঁচে।

শোকজের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,‘আমি মন্ত্রণালয়কে ভেবেচিন্তে জবাব দেব। মন্ত্রণালয়ের চিঠিটা তো আমাকে ভেবেচিন্তে লিখতে হবে।’

ডা. আবদুর রহীম বলেন, ‘আমাকে ডিজি স্যার বলেছেন, তুমি এরকম চিঠি দিয়েছো তা বাতিল করো তখনই আমি তাৎক্ষণিক বাতিল করে দিয়েছি। আমি এজন্য গোটা জাতির কাছে দুঃখিত ও আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি,ভবিষ্যতে এরকম ভুল আর হবে না-এই প্রতিজ্ঞাও করেছি।’

এর আগে বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপ-সচিব শারমিন আক্তার জাহান স্বাক্ষরিত এক অফিস নোটিশে জনস্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের পরিচালককে এই বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়, আপনি জনস্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের পরিচালক একটি পত্রে অফিস চলাকালীন সময়ে মোবাইল সাইলেন্ট/বন্ধ রাখা এবং মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের জন্য পুরুষ টাকনুর উপরে এবং মহিলা হিজাবসহ টাকনুর নিচে কাপড় পরিধান করা আবশ্যক এবং পর্দা মানিয়া চলার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হল- মর্মে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন। বিজ্ঞপ্তিটি আপনি কোন বিধিবলে এবং কোন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে জারি করা হয়েছে তার স্পষ্টকরণ ও ব্যাখ্যা আগামী ৩ কর্মদিবসের মধ্যে পাঠানোর জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হল।

এর আগে গত বুধবার (২৮ অক্টোবার) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন জনস্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটে কর্মরত মুসলিম ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষকে পর্দা মেনে চলার নির্দেশনা দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মুহাম্মদ আবদুর রহিম একটি বিজ্ঞপ্তি দেন। পরিচালক বিজ্ঞপ্তিতে বলেছেন, জনস্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, অফিস চলাকালীন সময়ে মোবাইল সাইলেন্ট/বন্ধ রাখা এবং মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের জন্য পুরুষ টাকনুর উপরে এবং মহিলা হিজাবসহ টাকনুর নিচে কাপড় পরিধান করা আবশ্যক এবং পর্দা মানিয়া চলার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হল। এরই প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই বিজ্ঞপ্তিটির বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে তাকে শোকজ করা হয়।

হিজাব ও টাকনুর উপর কাপড় পরার নির্দেশনা

সেই নোটিশ প্রত্যাহার করে জনস্বাস্থ্য পরিচালকের দুঃখ প্রকাশ 

 যুগান্তর রিপোর্ট 
২৯ অক্টোবর ২০২০, ০৭:৫৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
পরিচালক ডা. মুহাম্মদ আবদুর রহিম।
পরিচালক ডা. মুহাম্মদ আবদুর রহিম। ফাইল ছবি

জনস্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটে কর্মরত মুসলমান নারীদের পর্দা ও পুরুষদের টাকনুর ওপর কাপড় পরিধানের নিদের্শনা প্রত্যাহার করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ডা. মুহাম্মদ আবদুর রহিম।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় যমুনা টিভিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, আমি এ নির্দেশনাটি সবার জন্য দিইনি। শুধু মুসলিম নারী-পুরুষের জন্য দিয়েছিলাম।

তিনি বলেন, গত কয়েকদিন ধরে ধর্ষণের ঘটনা বিভিন্ন প্রচারমাধ্যমে দেখে আমি খুবই বিস্মিত। ধর্ষণে কবীরা গুনাহ হয়। আমি চিন্তা করলাম, আমাদের জন্য কত সহজ যে আমরা কবীরা গুনাহ এভয়েড করতে পারি। টাকনুর নিচে পুরুষ কাপড় পড়বে, আর মহিলারা টাকনুর নিচে কাপড় পড়বে। 

তিনি বলেন, ধর্ম একটা ব্যক্তিগত বিষয়, এটা চাপিয়ে দেয়া নয়। এটা তার জ্ঞানগর্ভে একটু নাড়া দেয়া। মুসলমানরা জানেন, টাকনুর নিচে কাপড় পড়লে কী হয়। 

তিনি বলেন, এটা তো আমি ফেসবুকে দেই নাই, এটা আমি দিয়েছি, আমার ইন্সটিটিউটে আমার স্টাফরা যাতে কবীরা গুনাহ থেকে বাঁচে। 

শোকজের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি মন্ত্রণালয়কে ভেবেচিন্তে জবাব দেব। মন্ত্রণালয়ের চিঠিটা তো আমাকে ভেবেচিন্তে লিখতে হবে।’

ডা. আবদুর রহীম বলেন, ‘আমাকে ডিজি স্যার বলেছেন, তুমি এরকম চিঠি দিয়েছো তা বাতিল করো তখনই আমি তাৎক্ষণিক বাতিল করে দিয়েছি। আমি এজন্য গোটা জাতির কাছে দুঃখিত ও আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি, ভবিষ্যতে এরকম ভুল আর হবে না-এই প্রতিজ্ঞাও করেছি।’

এর আগে বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপ-সচিব শারমিন আক্তার জাহান স্বাক্ষরিত এক অফিস নোটিশে জনস্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের পরিচালককে এই বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। 

নোটিশে বলা হয়, আপনি জনস্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের পরিচালক একটি পত্রে অফিস চলাকালীন সময়ে মোবাইল সাইলেন্ট/বন্ধ রাখা এবং মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের জন্য পুরুষ টাকনুর উপরে এবং মহিলা হিজাবসহ টাকনুর নিচে কাপড় পরিধান করা আবশ্যক এবং পর্দা মানিয়া চলার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হল- মর্মে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন।  বিজ্ঞপ্তিটি আপনি কোন বিধিবলে এবং কোন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে জারি করা হয়েছে তার স্পষ্টকরণ ও ব্যাখ্যা আগামী ৩ কর্মদিবসের মধ্যে পাঠানোর জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হল।

এর আগে গত বুধবার (২৮ অক্টোবার) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন জনস্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটে কর্মরত মুসলিম ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষকে পর্দা মেনে চলার নির্দেশনা দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মুহাম্মদ আবদুর রহিম একটি বিজ্ঞপ্তি দেন।  পরিচালক বিজ্ঞপ্তিতে বলেছেন, জনস্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, অফিস চলাকালীন সময়ে মোবাইল সাইলেন্ট/বন্ধ রাখা এবং মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের জন্য পুরুষ টাকনুর উপরে এবং মহিলা হিজাবসহ টাকনুর নিচে কাপড় পরিধান করা আবশ্যক এবং পর্দা মানিয়া চলার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হল।  এরই প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই বিজ্ঞপ্তিটির বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে তাকে শোকজ করা হয়।