কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে বিভক্তি

  যুগান্তর ডেস্ক ১০ এপ্রিল ২০১৮, ২২:২১ | অনলাইন সংস্করণ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

সরকারি চাকরিতে কোটা প্রথা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যে তিনটি গ্রুপকে আন্দোলনের মাঠে দেখা দেছে। এর মধ্যে মঙ্গলবার দুটি গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে।

মূল গ্রুপ ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার পর আন্দোলন ৭ মে পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত করার ঘোষণা দেয়। তাদের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে একটি পক্ষ। তারা সরকারের সঙ্গে আলোচনাকারীদের দালাল বলে অভিহিত করে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে আন্দোলন করে আসছেন ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’-এর ব্যানারে কোটাবিরোধী চাকরিপ্রার্থীরা। এরপর বিভিন্ন সময়ে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি করলেও রোববার থেকে তাদের আন্দোলন জোরদার করা হয়। এর মধ্যে সড়ক অবরোধ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়।

এমনকি রোববার গভীর রাতে কোটা সংস্কারের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বাসভবনে ব্যাপক ভাঙচুর চালান আন্দোলনকারীরা। পরে বাসভবনের সামনে রাখা গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেন বিক্ষুব্ধরা।

এসব ঘটনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সোমবার বিকালে সচিবালয়ে বৈঠকে আন্দোলন ৭ মে পর্যন্ত স্থগিত করার সিদ্ধান্ত হয়।

বৈঠকের এ সিদ্ধান্তের পর বিভক্ত হয়ে পড়ে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীরা। একটি পক্ষ বৈঠকের সিদ্ধান্ত মেনে নেয়ার কথা বলে। অপর পক্ষ দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়।

এ দুটি গ্রুপের পাশাপাশি আরও একটি গ্রুপকে আন্দোলনের মাঠে দেখা গেছে। যারা সরকারের প্রতিনিধির সঙ্গে আলোচনাকারীদের দালাল আখ্যা দিয়েছে। যদিও মঙ্গলবার এই গ্রুপকে মাঠে দেখা যায়নি।

মঙ্গলবার সকাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফের উত্তেজনা শুরু হয়। ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’ক্যাম্পাসে সংবাদ সম্মেলন করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীদের ‘অনুপ্রবেশকারী আখ্যা দিয়েছে। অপর অংশটি ক্যাম্পাসে ‘বহিরাগত সন্ত্রাসীদের দিয়ে’ ছাত্রদের ওপর হামলা এবং কোটা সংস্কার নিয়ে সংসদে কৃষিমন্ত্রীর বক্তব্যেরও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে সংবাদ সম্মেলনে ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নূর সেখানে বলেন, আমরা আগামী ৭ মে পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত করেছি। সরকার আমাদের বলছে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে কোটা নিয়ে কী করা যায় জানাবেন। এ সময়ের মধ্যে সব ধরনের আন্দোলন বন্ধ থাকবে এবং ক্লাস-পরীক্ষা চলবে।

মূল কমিটিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করার বিষয়ে রাশেদ খান বলেন, আমাদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা খুবই দুঃখজনক। আমাদের হাত দিয়েই এই আন্দোলন শুরু হয়েছে। যারা আমাদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে, তারাই ভিসির বাসায় হামলা চালিয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

এদিকে বিপাশা চৌধুরী নামে এক শিক্ষার্থীকে আন্দোলনরতদের  ‘নতুন মুখপাত্র’ ঘোষণা দেয়া হয়েছে। তিনি ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ডাক দেন।

এর ধারাবাহিকতায় আন্দোলনরতদের ওই অংশটির শিক্ষার্থীরা মঙ্গলবার ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে বেলা ১১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে জড়ো হয়। পরে সেখান থেকে তারা মিছিল নিয়ে রাজু ভাস্কর্যের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে।

এছাড়া অপর একটি বিদ্রোহী গ্রুপের এক আন্দোলনকারী জানান, তারা কোটা সংস্কার আন্দোলনের মূল কমিটির সঙ্গে একমত। তবে সরকারের মুখের কথা বিশ্বাস করি না। তিন দিনের মধ্যে সংস্কারের বিষয়ে লিখিত দেয়ার আহ্বান জানান।

বিদ্যমান কোটার সংস্কার চেয়ে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে আন্দোলন করে আসছে। রোববার তাদের পদযাত্রা ও অবস্থা কর্মসূচি চলাকালে ঢাকায় পুলিশ বাধা দিলে সহিংস পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ লাঠিপেটা ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। পরে আন্দোলনকারীরাও পুলিশের ওপর সহিংস হয়ে ওঠে এবং ভিসির বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।

ঘটনাপ্রবাহ : কোটাবিরোধী আন্দোলন ২০১৮

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter