খালেদা জিয়াকে আদালতের মাধ্যমেই মুক্ত করতে হবে

প্রকাশ : ১২ এপ্রিল ২০১৮, ১৯:২৩ | অনলাইন সংস্করণ

  সুনামগঞ্জ ও তাহিরপুর প্রতিনিধি

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জেল এই সরকার দেয়নি, মামলাও সরকার দেয়নি। ১৫ বছর ধরে এই মামলা চলছে। মামলা নিয়ে হাইকোর্টে গেছেন। এখন খালেদা জিয়াকে আদালতের মাধ্যমেই মুক্ত করতে হবে।

বৃহস্পতিবার বিকালে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার জাদুকাটা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তুর স্থাপনের আগে এক মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন। 

খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, যত ধরনের পদ্ধতি আছে সব ব্যবহার করার পর ওপেন কোর্টে বিচার হয়েছে। আদালতের রায় মোতাবেক খালেদা জিয়ার সাজা হয়েছে। পৃথিবীর সব দেশে সাজাপ্রাপ্ত আসামি যেভাবে থাকে উনি তো তার ব্যতিক্রম হতে পারেন না।

তিনি বলেন, বিএনপির মহাসচিব যদি তার নেত্রীকে মুক্ত করতে চান তবে আদালত তাকে মুক্ত করবে। সরকারের কোনো ক্ষমতা নেই তাকে মুক্ত করে দেয়ার।

এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, একমাত্র মহামান্য রাষ্ট্রপতির অধিকার আছে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে ক্ষমা করে দেয়ার, উনি যদি দোষ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। রাষ্ট্রপতি হয় তো তার সাজা মওকুফ করতে পারেন, কিন্তু অপরাধ মাফ করতে পারবেন না।

তিনি বলেন, বিএনপিও জানে যে আদালত ছাড়া কারো সাধ্য নেই খালেদা জিয়াকে জেল থেকে বের করে আনার। আদালত যদি তাকে মুক্ত করে দেন, তবে একসঙ্গে নির্বাচন করব, তাতে অসুবিধার কী।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাগারে প্রদত্ত সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, এটা ভুললে চলবে না উনি অন্যতম একটি বৃহত্তম দলের প্রধান। তিন তিন বারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী। জেল কোড অনুযায়ী তার যত ধরনের সুযোগ-সুবিধা আছে একজন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার দাবিদার উনি। সরকারও সেই বিবেচনা করে তার সঙ্গে আচরণ করছে।

মন্ত্রী বলেন, বিএনপি বলছে খালেদা জিয়াকে নির্জন কারাগারে রাখা হয়েছে। আমরা বলছি, উনার জন্য একটি ভবন আলাদা করে দেয়া হয়েছে। যাতে বিভিন্ন অপরাধীদের সঙ্গে উনার মতো লোকের থাকতে না হয়। সবকিছুই খারাপ এটা তো বিরোধী দলে যারা থাকেন তারা বলবেনই।

জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক, জয়া সেনগুপ্তা, পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ, ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, শামসুন্নাহার বেগম শাহান, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব জাফর আহমদ খান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ মতিউর রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

পরে বিকাল ৩টায় মন্ত্রী জাদুকাটা নদীর ওপর ৭৫০ মিটার দৈর্ঘ্য ‘শাহ আরেফিন-অদ্বৈত মৈত্রী সেতুসহ স্থানীয় সরকার বিভাগের কয়েকটি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তুর স্থাপন করেন।