কোটা সংস্কার আন্দোলন

ঢাবিতে সংঘর্ষ ও বাড়ি ভাঙচুরের ৪ মামলার প্রতিবেদন ১৭ মে

প্রকাশ : ১২ এপ্রিল ২০১৮, ২২:০৮ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবন ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের করা চার মামলার প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৭ মে দিন ধার্য করেছেন আদালত। 

বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর হাকিম মো. গোলাম নবী এ আদেশ দেন। এদিন মামলার এজাহারগুলো আদালতে আসলে আদালত তা দেখে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের ওই দিন ধার্য করেন।

এর আগে চালতি মাসের ১০ এপ্রিল উপাচার্যের বাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র সিকিউরিটি অফিসার এসএম কামরুল আহসান বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। এছাড়া একই সময় অপর তিনটি মামলা দায়ের করে পুলিশ। তবে কোনো মামলার এজাহারেই আসামির নাম উল্লেখ নেই। অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে প্রতিটি মামলাই রাজধানীর শাহবাগ থানায় দায়ের করা হয়েছে।

আদালত সূত্র জানায়, চলতি মাসের ৯ এপ্রিল রাত সাড়ে ১২টা থেকে ২টার মধ্যে শতাধিক মুখোশধারীরা উপাচার্যের বাড়িতে হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্র লোহার রড, পাইপ, হেমার, লাঠি ইত্যাদি নিয়ে উপাচার্যের বাড়ির ওয়াল টপকে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে। দুষ্কৃতকারীরা ঐতিহ্যবাহী ভবনে সংরক্ষিত মূল্যবান জিনিসপত্র, আসবাবপত্র, টিভি, ফ্রিজ, ফ্যানসহ সকল মালামাল ভাঙচুর করে। ভবনে রক্ষিত দুটি গাড়ি পুড়িয়ে দেয়। ভবনে রক্ষিত সিটি ক্যামেরা ভাঙচুর করে ও আলামত নষ্টের জন্য কম্পিউটারে রক্ষিত ডিভিআর পুড়িয়ে দেয়। এতে কমপক্ষে দেড় কোটি টাকার ক্ষতি হয়। এ ঘটনায় পরদিন মামলাটি দায়ের করা হয়। ৯ এপ্রিল ভোর ৪টার দিকে দোয়েল চত্বর এলাকায় অন্দোলনকারীরা রাস্তা বন্ধ করে টায়ার ও আসবাবপত্র জ্বালিয়ে রাস্তা বন্ধ করে রাখে। এ সময় পুলিশ এগিয়ে গেলে আন্দোলনকারীরা পুলিশের ওপর হামলা করে। এ সময় পুলিশ তা প্রতিহত করার চেষ্টা করে। ওই ঘটনায় শাহবাগ থানার এসআই রবিউল ইসলাম বাদী হয়ে পরদিন মামলাটি দায়ের করেন। 

এদিকে ওই দিন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন নাশকতামূলক কাজের অপরাধে শাহবাগ থানার এসআই ভজন বিশ্বাস বাদী হয়ে আরেকটি মামলা দায়ের করেন। এ ছাড়া ওই একই সময় সিটিএসবির পুলিশ পরিদর্শক মো. হুমায়ূন কবির ও কনস্টেবল মো. আবু হেনা মোস্তফাকে ৩০ থেকে ৪০ জন ছাত্র লাঠি ও লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। গুরুতর জখমপ্রাপ্ত হন ওই দুজন। এ ঘটনায় আহত পুলিশ পরিদর্শক মো. হুমায়ূন কবির বাদী হয়ে পরদিন অপর আরেকটি মামলাটি দায়ের করেন।