গণমাধ্যম দেশের উন্নতির ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারে: তথ্যমন্ত্রী
jugantor
গণমাধ্যম দেশের উন্নতির ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারে: তথ্যমন্ত্রী

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

০১ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২০:২২:১১  |  অনলাইন সংস্করণ

ড. হাছান মাহমুদ

গণমাধ্যম দেশের উন্নতির ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

তিনি বলেন, একটি গণমাধ্যম বা একজন সাংবাদিকের কলম অব্যক্তদের পক্ষে কথা বলেন। সমাজে অনেক মানুষ আছে যাদের ভাষা হারিয়ে গেছে। যারা স্বপ্ন দেখতে ভুলে গেছে; স্বপ্ন দেখার সাহসটুকু নাই। গণমাধ্যম তাদের অব্যক্ত কথা তুলে আনতে পারে, সেদিকে সামজের দৃষ্টি নিবদ্ধ করতে পারে। তাই গণমাধ্যম দেশের উন্নতির ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। একটি উজ্জীবিত সমাজ ছাড়া রাষ্ট্র এগিয়ে যেতে পারে না। তাই সমাজের অসঙ্গতির পাশাপাশি সমাজ যাতে আশান্বিত হয়, নতুন প্রজন্ম যেন ভবিষ্যতে আশা দেখে- সেই খবরগুলোও তুলে আনতে হবে।

সোমবার যুগান্তরের ২২ বছরে পদার্পন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন যমুনা গ্রুপের পরিচালক-সারীয়াত তাসরীন সোনিয়া, মনিকা নাজনীন ইসলাম, যমুনা গ্রুপের পরিচালক (অর্থ) এসএম আবদুল ওয়াদুদ এবং যুগান্তর সম্পাদক সাইফুল আলম। করোনার কারণে আয়োজন ছিল একেবারেই সীমিত। কিন্তু অনুসন্ধানী ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা এগিয়ে নিতে যুগান্তর পরিবারের সদস্যদের প্রত্যয়ে একটুও ঘাটতি ছিল না।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, যুগান্তর দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি পত্রিকা। যুগান্তর তার পথচলার শুরু থেকেই এই শীর্ষস্থান দখল করে আছে। শুধু তাই নয়, সেই ধারা অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়েছে। অনেক পত্রিকা ভালোভাবে শুরু হয় কিন্তু পরে অবস্থান ধরে রাখতে পারে না। দুই দশকের বেশি সময় ধরে যুগান্তর তার অবস্থান ধরে রাখাটি চাট্টিখানি কথা নয়। এ সাফল্যের পেছনে যুগান্তর প্রকাশক ও সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানাই।

তিনি বলেন, গণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। গণমাধ্যমের বিকাশের সঙ্গে বহুমাত্রিক সমাজের বিকাশের সম্পর্ক রয়েছে। গণমাধ্যমের সুষ্ঠু-স্বাভাবিক অবাধ বিকাশ ব্যতিরেকে একটি বহুমাত্রিক সমাজ ব্যবস্থা গড়ে ওঠে না। সেজন্য সরকার গণমাধ্যমের বিকাশের স্বার্থে কাজ করে যাচ্ছে।

তথ্যমন্ত্রী আরওবলেন, আমাদের জীবনে গত ১ বছরে আশান্বিত হওয়ার মতো অনেক ঘটনা ঘটেছে। আমরা এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ, স্বল্প আয়ের দেশ থেকে এখন মধ্যম আয়ের দেশ, দারিদ্র্য ছিল ৪১ শতাংশ- এখন সেটা ২০ শতাংশ। হিউম্যান ইনডেক্স, সোশ্যাল ইনডেক্স, ইকোনমিক ইনডেক্সে পাকিস্তানকে অনেক আগেই পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে গেছি আমরা। পাকিস্তান আমাদের দেখে আক্ষেপ করে। এমনকি ভারতকেও ছাড়িয়ে গেছি অনেক ক্ষেত্রে। যেগুলো নিয়ে কথা হয়, সমালোচনাও হয়। তাই এ অর্জনগুলো যদি জাতি না জানে তাহলে আশান্বিত হবে না।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আমি নিজে যুগান্তর পড়ি। কারণ যুগান্তর পড়লে বিএনপির খবরও পাওয়া যায়, আবার জাতীয় পার্টির খবরও পাওয়া যায়। বিএনপি কী বলল, জাতীয় পার্টি কী বলল- তথ্যমন্ত্রী হিসেবে সেটা জানা আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

যুগান্তরের ২২ বছরে পদার্পণ ও যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলামকে স্মরণ করে তথ্যমন্ত্রীবলেন, গত বছর যুগান্তরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠান হয়েছিল। সেই অনুষ্ঠানে আমিও ছিলাম। তখনও আমরা কেউ ভাবিনি, নুরুল ইসলাম আমাদের ছেড়ে চলে যাবেন। তিনি অত্যন্ত কর্মঠ মানুষ ছিলেন। এতগুলো প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, এত মানুষের কর্মসংস্থান করা- তিনি যদি কর্মঠ মানুষ না হতেন, দূরদৃষ্টিসম্পন্ন মানুষ না হতেন তবে কখনো সম্ভব হতো না। তিনি সেই কাজটি করেছেন। একইসঙ্গে গণমাধ্যমকে বিকাশের জন্য তিনি অবদান রেখেছেন। তার স্বপ্ন পূরণে প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান সাবেক মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও যুগান্তর প্রকাশক অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি বলেন, নুরুল ইসলাম আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু তার আদর্শ বেঁচে আছে। তার দেখানো পথে মানুষের কল্যাণে কাজ করব আমরা।

যুগান্তর প্রকাশক সালমা ইসলাম এমপি বলেন, হাঁটি হাঁটি পা পা করে যুগান্তর ২২তম বছরে পদার্পণ করেছে। আজ আমাদের অনেক আনন্দের দিন, গৌরবের দিন। পাশাপাশি বেদনারও দিন। কারণ, যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা যমুনা গ্রুপ ও যুগান্তরের স্বপ্নদ্রষ্টা নুরুল ইসলাম আমাদের থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেছেন। কিন্তু রেখে গেছেন তার অনেক স্মৃতি, অনেক আদর্শ। আজ ভারাক্রান্ত মনে তাকে ছাড়া জন্মদিনের কেক কাটছি আমরা। এটাই হয়তো নিয়তি যে, তিনি আজ আমাদের মাঝে থাকবেন না। আমরা তাকে স্মরণ করেই কেকটি কাটব। তিনি বলেন, তিনি যে আদর্শ ও বাণী রেখে গেছেন, যুগান্তরের সাংবাদিকদের কাছে তা অনন্য। যুগান্তর সৃষ্টি করেছিলেন তিনি। বলেছিলেন সত্যকে সত্য, কালোকে কালো বলতে হবে। নিগৃহীত, নির্যাতিত, অবহেলিত মানুষের কথা যুগান্তরকে বলতে হবে। তাদের কাছে যেতে হবে, সত্য তুলে আনতে হবে। কারণ, তাদের কথা বলার লোকের খুব অভাব। যুগান্তরকে তিনি (নুরুল ইসলাম) কতটা সার্থক করেছেন সেটা সবাই জানেন। তিনি আরও বলেন, জীবনের শেষ মুহূর্তটি পর্যন্ত তিনি (নুরুল ইসলাম) বলেন গেছেন, আমরা খালি হাতে এসেছি, খালি হাতেই যাব। তিনি অনেক প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি করেছেন কিন্তু যাওয়ার সময় কিছুই নিয়ে যেতে পারেননি। তার কথাটি আমাদের মনে রাখতে হবে। তার আদর্শকে বুকে ধারণ করে এগিয়ে যেতে হবে। এই সময় তিনি যুগান্তরের পাঠক, শুভানুধ্যায়ী, হকার্স, বিজ্ঞাপনদাতা, সাংবাদিক সমাজ সবাইকে শুভেচ্ছা জানান।

যুগান্তর সম্পাদক সাইফুল আলম বলেন, প্রতিবছর অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করে দৈনিক যুগান্তর। কিন্তু এ বছর দুটি কারণে আয়োজন একেবারে সংক্ষিপ্ত। প্রথমত, মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে সরকারের স্বাস্থ্যবিধি মেনে আয়োজন সীমিত করা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, যমুনা গ্র“পের স্বপ্নদ্রষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলামের মৃত্যুর পর প্রথমবার আমরা যুগান্তরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছি। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনার। তিনি থাকলে আমরা আরও শক্তি ও সাহস পেতাম। আজ তিনি নেই, তবুও পথ চলতে হবে, বাস্তবতাকে আমাদের মেনে নিতে হবে।

সাইফুল আলম আরও বলেন, সত্যের সন্ধানে নির্ভীক দৈনিক যুগান্তর, অগ্রযাত্রার রোডম্যাপে আছি।

তিনি বলেন, করোনার কারণে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানও সীমিত করা হয়েছে। এ সময়ে যুগান্তরের সাংবাদিক, লেখক, পাঠক, বিজ্ঞাপনদাতা এবং হকারসহ যুগান্তরকে ধন্যবাদ জানান তিনি। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন যমুনা টেলিভিশনের প্রধান বার্তা সম্পাদক ফাহিম আহমেদ, যুগান্তরের উপ-সম্পাদক- এহসানুল হক ও আহমেদ দীপু, নগর সম্পাদক বিএম জাহাঙ্গীর, ফিচার সম্পাদক রফিকুল হক দাদুভাই, বার্তা সম্পাদক হোসেন শহীদ মজনু, প্রধান প্রতিবেদক মাসুদ করিম, ক্রীড়া সম্পাদক পারভেজ আলম চৌধুরী এবং সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার (মার্কেটিং) আবুল খায়ের চৌধুরীসহ সাংবাদিক ও কর্মকর্তারা।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে করোনার মধ্যেও যুগান্তরের কার্যালয়ে এসে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন যমুনা টেলিভিশনের প্রধান বার্তা সম্পাদক ফাহিম আহমেদ, ন্যাশনাল হাউজিং ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. খলিলুর রহমান, বাংলাদেশ জনসংযোগ সমিতির সভাপতি রবিউল আলম টিপু, প্রিমিয়ার ব্যাংকের মার্কেটিং অ্যান্ড জনসংযোগ বিভাগের প্রধান মো. তারেক উদ্দিন, সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. কামরুল হুদা চৌধুরী (জামান), হেড অব মিডিয়া কমিউনিকেশনস মো. জাকারিয়া রহমান, প্রবাসী পল­ী গ্র“পের পরিচালক নাসিম রহমান, এজিএম সিকদার এম আরিফুল আলম, প্রচিত আইএমসির ডেপুটি ডিরেক্টর রওশন আরা মিলি, ডিজিটাল মার্কেটিং বিভাগের ব্র্যান্ড নির্বাহী মিস শামসুন্নাহার বর্ণা, এনেক্স কমিউনিকেশনের ম্যানেজার নাজনীন সুলতানা, মো. মাজহারুল ইসলাম, ঢাকা সংবাদপত্র হকার্স বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সম্পাদক মো. আব্দুল মান্নান, সার্কুলেশন ম্যানেজার আবুল কালামসহ অন্য নেতারা। সংবাদপত্র হকার্স কল্যাণ বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের উপদেষ্টা মো. আলাউদ্দিন, সম্পাদক সাহাব উদ্দিন, সার্কুলেশন ম্যানেজার সালাউদ্দিন নোমান, বাংলাদেশ সংবাদপত্র এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. আবুবক্কর, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আলী ও পত্রিকা পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালামসহ অন্য সদস্যরা।

এছাড়া গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম, বাংলাদেশের আলো পত্রিকার সম্পাদক মফিজুর রহমান খান বাবু, ঢাকা সাব-এডিটর কাউন্সিলের সভাপতি মামুন ফরাজী, সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসান হৃদয় ও প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আলমগীর কবির, সাপ্তাহিক শীর্ষ খবরের সম্পাদক শাশ্বত মনির, পুষ্পধারা প্রপার্টিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ আলী নূর ইসলাম। ইম্প্যাক্ট পিআরের মোহাম্মদ শাখাওয়াত উল­াহ, প্রাইম ব্যাংকের সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আব্দুর রহিম, ইনফো পাওয়ারের তৌফিকুর রহমান, সাবরিনা মেহেরীন রাহা, ঢাকা পোস্টের সম্পাদক মহিউদ্দিন সরকার, বিকাশের সামসুদ্দীন হায়দার ডালিম, সিম্ফনি এবং যমুনা ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড অটো মোবাইলসের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের হেড অব মার্কেটিং অ্যান্ড ব্র্যান্ড কমিউনিকেশন মনিরুজ্জামান টিপু এবং জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম।

গণমাধ্যম দেশের উন্নতির ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারে: তথ্যমন্ত্রী

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
০১ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০৮:২২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
ড. হাছান মাহমুদ
যুগান্তরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। ছবি: যুগান্তর

গণমাধ্যম দেশের উন্নতির ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। 

তিনি বলেন, একটি গণমাধ্যম বা একজন সাংবাদিকের কলম অব্যক্তদের পক্ষে কথা বলেন। সমাজে অনেক মানুষ আছে যাদের ভাষা হারিয়ে গেছে। যারা স্বপ্ন দেখতে ভুলে গেছে; স্বপ্ন দেখার সাহসটুকু নাই। গণমাধ্যম তাদের অব্যক্ত কথা তুলে আনতে পারে, সেদিকে সামজের দৃষ্টি নিবদ্ধ করতে পারে। তাই গণমাধ্যম দেশের উন্নতির ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। একটি উজ্জীবিত সমাজ ছাড়া রাষ্ট্র এগিয়ে যেতে পারে না। তাই সমাজের অসঙ্গতির পাশাপাশি সমাজ যাতে আশান্বিত হয়, নতুন প্রজন্ম যেন ভবিষ্যতে আশা দেখে- সেই খবরগুলোও তুলে আনতে হবে।

সোমবার যুগান্তরের ২২ বছরে পদার্পন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। 

এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন যমুনা গ্রুপের পরিচালক-সারীয়াত তাসরীন সোনিয়া, মনিকা নাজনীন ইসলাম, যমুনা গ্রুপের পরিচালক (অর্থ) এসএম আবদুল ওয়াদুদ এবং যুগান্তর সম্পাদক সাইফুল আলম। করোনার কারণে আয়োজন ছিল একেবারেই সীমিত। কিন্তু অনুসন্ধানী ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা এগিয়ে নিতে যুগান্তর পরিবারের সদস্যদের প্রত্যয়ে একটুও ঘাটতি ছিল না।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, যুগান্তর দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি পত্রিকা। যুগান্তর তার পথচলার শুরু থেকেই এই শীর্ষস্থান দখল করে আছে। শুধু তাই নয়, সেই ধারা অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়েছে। অনেক পত্রিকা ভালোভাবে শুরু হয় কিন্তু পরে অবস্থান ধরে রাখতে পারে না। দুই দশকের বেশি সময় ধরে যুগান্তর তার অবস্থান ধরে রাখাটি চাট্টিখানি কথা নয়।  এ সাফল্যের পেছনে যুগান্তর প্রকাশক ও সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানাই।

তিনি বলেন, গণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। গণমাধ্যমের বিকাশের সঙ্গে বহুমাত্রিক সমাজের বিকাশের সম্পর্ক রয়েছে। গণমাধ্যমের সুষ্ঠু-স্বাভাবিক অবাধ বিকাশ ব্যতিরেকে একটি বহুমাত্রিক সমাজ ব্যবস্থা গড়ে ওঠে না। সেজন্য সরকার গণমাধ্যমের বিকাশের স্বার্থে কাজ করে যাচ্ছে। 

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের জীবনে গত ১ বছরে আশান্বিত হওয়ার মতো অনেক ঘটনা ঘটেছে। আমরা এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ, স্বল্প আয়ের দেশ থেকে এখন মধ্যম আয়ের দেশ, দারিদ্র্য ছিল ৪১ শতাংশ- এখন সেটা ২০ শতাংশ। হিউম্যান ইনডেক্স, সোশ্যাল ইনডেক্স, ইকোনমিক ইনডেক্সে পাকিস্তানকে অনেক আগেই পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে গেছি আমরা। পাকিস্তান আমাদের দেখে আক্ষেপ করে। এমনকি ভারতকেও ছাড়িয়ে গেছি অনেক ক্ষেত্রে। যেগুলো নিয়ে কথা হয়, সমালোচনাও হয়। তাই এ অর্জনগুলো যদি জাতি না জানে তাহলে আশান্বিত হবে না।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আমি নিজে যুগান্তর পড়ি। কারণ যুগান্তর পড়লে বিএনপির খবরও পাওয়া যায়, আবার জাতীয় পার্টির খবরও পাওয়া যায়। বিএনপি কী বলল, জাতীয় পার্টি কী বলল- তথ্যমন্ত্রী হিসেবে সেটা জানা আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। 

যুগান্তরের ২২ বছরে পদার্পণ ও যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলামকে স্মরণ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, গত বছর যুগান্তরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠান হয়েছিল। সেই অনুষ্ঠানে আমিও ছিলাম। তখনও আমরা কেউ ভাবিনি, নুরুল ইসলাম আমাদের ছেড়ে চলে যাবেন। তিনি অত্যন্ত কর্মঠ মানুষ ছিলেন। এতগুলো প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, এত মানুষের কর্মসংস্থান করা- তিনি যদি কর্মঠ মানুষ না হতেন, দূরদৃষ্টিসম্পন্ন মানুষ না হতেন তবে কখনো সম্ভব হতো না। তিনি সেই কাজটি করেছেন। একইসঙ্গে গণমাধ্যমকে বিকাশের জন্য তিনি অবদান রেখেছেন। তার স্বপ্ন পূরণে প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। 

অনুষ্ঠানে যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান সাবেক মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও যুগান্তর প্রকাশক অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি বলেন, নুরুল ইসলাম আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু তার আদর্শ বেঁচে আছে। তার দেখানো পথে মানুষের কল্যাণে কাজ করব আমরা।

যুগান্তর প্রকাশক সালমা ইসলাম এমপি বলেন, হাঁটি হাঁটি পা পা করে যুগান্তর ২২তম বছরে পদার্পণ করেছে। আজ আমাদের অনেক আনন্দের দিন, গৌরবের দিন। পাশাপাশি বেদনারও দিন। কারণ, যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা যমুনা গ্রুপ ও যুগান্তরের স্বপ্নদ্রষ্টা নুরুল ইসলাম আমাদের থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেছেন। কিন্তু রেখে গেছেন তার অনেক স্মৃতি, অনেক আদর্শ। আজ ভারাক্রান্ত মনে তাকে ছাড়া জন্মদিনের কেক কাটছি আমরা। এটাই হয়তো নিয়তি যে, তিনি আজ আমাদের মাঝে থাকবেন না। আমরা তাকে স্মরণ করেই কেকটি কাটব। তিনি বলেন, তিনি যে আদর্শ ও বাণী রেখে গেছেন, যুগান্তরের সাংবাদিকদের কাছে তা অনন্য। যুগান্তর সৃষ্টি করেছিলেন তিনি। বলেছিলেন সত্যকে সত্য, কালোকে কালো বলতে হবে। নিগৃহীত, নির্যাতিত, অবহেলিত মানুষের কথা যুগান্তরকে বলতে হবে। তাদের কাছে যেতে হবে, সত্য তুলে আনতে হবে। কারণ, তাদের কথা বলার লোকের খুব অভাব। যুগান্তরকে তিনি (নুরুল ইসলাম) কতটা সার্থক করেছেন সেটা সবাই জানেন। তিনি আরও বলেন, জীবনের শেষ মুহূর্তটি পর্যন্ত তিনি (নুরুল ইসলাম) বলেন গেছেন, আমরা খালি হাতে এসেছি, খালি হাতেই যাব। তিনি অনেক প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি করেছেন কিন্তু যাওয়ার সময় কিছুই নিয়ে যেতে পারেননি। তার কথাটি আমাদের মনে রাখতে হবে। তার আদর্শকে বুকে ধারণ করে এগিয়ে যেতে হবে। এই সময় তিনি যুগান্তরের পাঠক, শুভানুধ্যায়ী, হকার্স, বিজ্ঞাপনদাতা, সাংবাদিক সমাজ সবাইকে শুভেচ্ছা জানান। 

যুগান্তর সম্পাদক সাইফুল আলম বলেন, প্রতিবছর অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করে দৈনিক যুগান্তর। কিন্তু এ বছর দুটি কারণে আয়োজন একেবারে সংক্ষিপ্ত। প্রথমত, মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে সরকারের স্বাস্থ্যবিধি মেনে আয়োজন সীমিত করা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, যমুনা গ্র“পের স্বপ্নদ্রষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলামের মৃত্যুর পর প্রথমবার আমরা যুগান্তরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছি। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনার। তিনি থাকলে আমরা আরও শক্তি ও সাহস পেতাম। আজ তিনি নেই, তবুও পথ চলতে হবে, বাস্তবতাকে আমাদের মেনে নিতে হবে।

সাইফুল আলম আরও বলেন, সত্যের সন্ধানে নির্ভীক দৈনিক যুগান্তর, অগ্রযাত্রার রোডম্যাপে আছি।

তিনি বলেন, করোনার কারণে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানও সীমিত করা হয়েছে। এ সময়ে যুগান্তরের সাংবাদিক, লেখক, পাঠক, বিজ্ঞাপনদাতা এবং হকারসহ যুগান্তরকে ধন্যবাদ জানান তিনি। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন যমুনা টেলিভিশনের প্রধান বার্তা সম্পাদক ফাহিম আহমেদ, যুগান্তরের উপ-সম্পাদক- এহসানুল হক ও আহমেদ দীপু, নগর সম্পাদক বিএম জাহাঙ্গীর, ফিচার সম্পাদক রফিকুল হক দাদুভাই, বার্তা সম্পাদক হোসেন শহীদ মজনু, প্রধান প্রতিবেদক মাসুদ করিম, ক্রীড়া সম্পাদক পারভেজ আলম চৌধুরী এবং সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার (মার্কেটিং) আবুল খায়ের চৌধুরীসহ সাংবাদিক ও কর্মকর্তারা। 

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে করোনার মধ্যেও যুগান্তরের কার্যালয়ে এসে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন যমুনা টেলিভিশনের প্রধান বার্তা সম্পাদক ফাহিম আহমেদ, ন্যাশনাল হাউজিং ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. খলিলুর রহমান, বাংলাদেশ জনসংযোগ সমিতির সভাপতি রবিউল আলম টিপু, প্রিমিয়ার ব্যাংকের মার্কেটিং অ্যান্ড জনসংযোগ বিভাগের প্রধান মো. তারেক উদ্দিন, সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. কামরুল হুদা চৌধুরী (জামান), হেড অব মিডিয়া কমিউনিকেশনস মো. জাকারিয়া রহমান, প্রবাসী পল­ী গ্র“পের পরিচালক নাসিম রহমান, এজিএম সিকদার এম আরিফুল আলম,  প্রচিত আইএমসির ডেপুটি ডিরেক্টর রওশন আরা মিলি, ডিজিটাল মার্কেটিং বিভাগের ব্র্যান্ড নির্বাহী মিস শামসুন্নাহার বর্ণা, এনেক্স কমিউনিকেশনের ম্যানেজার নাজনীন সুলতানা, মো. মাজহারুল ইসলাম, ঢাকা সংবাদপত্র হকার্স বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সম্পাদক মো. আব্দুল মান্নান, সার্কুলেশন ম্যানেজার আবুল কালামসহ অন্য নেতারা। সংবাদপত্র হকার্স কল্যাণ বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের উপদেষ্টা মো. আলাউদ্দিন, সম্পাদক সাহাব উদ্দিন, সার্কুলেশন ম্যানেজার সালাউদ্দিন নোমান, বাংলাদেশ সংবাদপত্র এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. আবুবক্কর, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আলী ও পত্রিকা পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালামসহ অন্য সদস্যরা। 

এছাড়া গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম, বাংলাদেশের আলো পত্রিকার সম্পাদক মফিজুর রহমান খান বাবু, ঢাকা সাব-এডিটর কাউন্সিলের সভাপতি মামুন ফরাজী, সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসান হৃদয় ও প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আলমগীর কবির, সাপ্তাহিক শীর্ষ খবরের সম্পাদক শাশ্বত মনির, পুষ্পধারা প্রপার্টিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ আলী নূর ইসলাম। ইম্প্যাক্ট পিআরের মোহাম্মদ শাখাওয়াত উল­াহ, প্রাইম ব্যাংকের সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আব্দুর রহিম, ইনফো পাওয়ারের তৌফিকুর রহমান, সাবরিনা মেহেরীন রাহা, ঢাকা পোস্টের সম্পাদক মহিউদ্দিন সরকার, বিকাশের সামসুদ্দীন হায়দার ডালিম, সিম্ফনি এবং যমুনা ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড অটো মোবাইলসের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের হেড অব মার্কেটিং অ্যান্ড ব্র্যান্ড কমিউনিকেশন মনিরুজ্জামান টিপু এবং জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন