ঢাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

এশার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের নিন্দা ও প্রতিবাদ

প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল ২০১৮, ২২:০৪ | অনলাইন সংস্করণ

  ঢাবি প্রতিনিধি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছাত্রী নিপীড়নের ঘটনায় অভিযুক্ত কবি সুফিয়া কামাল হল শাখার ছাত্রলীগ সভাপতি ইফফাত জাহান এশার বহিষ্কারাদেশ তুলে নেয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) সংলগ্ন সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ‘নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থীবৃন্দ’র ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
 
মানববন্ধন থেকে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। ‘ক্যাম্পাস নাকি কনসেনট্রেশন ক্যাম্প’, ‘এহসান রফিকদের অন্ধত্ব আর কত’, ‘গেস্ট রুম ভেঙে ফেল, আর কত চুপ থাকবেন’, ‘সবার ওপর ম্যানার সত্য’, ‘আমরা সবাই কানা, এই কানার রাজত্বে’, ‘অন্ধ হলে কি প্রলয় বন্ধ থাকে’, ‘নিপীড়কমুক্ত ক্যাম্পাস চাই’, ‘আপনার নীরবতায় আমরা লজ্জিত’- এ ধরনের লেখাসংবলিত ব্যানার নিয়ে শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেয়।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী ছাত্র আবু রায়হান বলেন, ‘এশাকে শুধু রগ কাটার অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়নি। তাকে হলের ছাত্রীদের শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করার অপরাধেও বহিষ্কার করা হয়েছিল। এসব কথা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও প্রক্টর বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমকে সে সময় সাক্ষাৎকারে বলেছেন। কিন্তু এখন আমরা কি দেখতে পেলাম। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার ছাত্রত্ব ফিরিয়ে দিয়েছেন। আমরা প্রশাসনের একপক্ষীয় এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাই।’

আরেক শিক্ষার্থী হাসিব মোহাম্মদ বলেন, ‘এশার অত্যাচার এক দিনের নয়। সে নানা সময় ছাত্রীদের গেস্ট রুমে অত্যাচার করে আসছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত ছিল নিপীড়িত সাধারণ ছাত্রীদের পক্ষে দাঁড়ানো। কিন্তু আমরা দেখলাম, প্রশাসন নিপীড়নকারীর পক্ষে অবস্থান নিল। সুফিয়া কামাল হলে শিক্ষার্থীদের নির্যাতনের পরও তাকে ফুলের মালা পরিয়ে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। এর প্রতিবাদে আমরা এখানে দাঁড়িয়েছি।’

উম্মে হাবিবা বেনজির নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘ক্যাম্পাসে পুলিশ ঢুকে ছাত্রদের ওপর হামলা করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় এ হামলার বিরুদ্ধে কোনো কথা বলেননি। সুফিয়া কামাল হলের নেত্রী শিক্ষার্থীদের ওপর নানাভাবে অত্যাচার চালায়। সুফিয়া কামাল হলের ত্রাস এশা। ছাত্রী নির্যাতনের অভিযোগে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। কিন্তু প্রশাসন প্রহসনের মাধ্যমে আবার তার ছাত্রত্ব ফিরিয়ে দিয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।’