রামেকে পৌঁছার আগেই মারা গেলেন ভাষাসৈনিক আবুল হোসেন
jugantor
রামেকে পৌঁছার আগেই মারা গেলেন ভাষাসৈনিক আবুল হোসেন

  রাজশাহী ব্যুরো  

৩১ মার্চ ২০২১, ২১:২৪:১০  |  অনলাইন সংস্করণ

রাজশাহীর ভাষাসৈনিক আবুল হোসেন আর নেই। বুধবার বিকাল ৪টার দিকে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি...রাজিউন)। একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে রামেক হাসপাতালে নেয়ার সময় তিনি মারা যান।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। রাজশাহী নগরীর মঠপুকুর শান্তিবাগ এলাকার বাসিন্দা ছিলেন তিনি।

পরিবারের সদস্যরা বুধবার বিকাল ৪টার দিকে আবুল হোসেনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। এ সময় জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক বিল্লাল উদ্দিন তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী বলেন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র-১ সরিফুল ইসলাম বাবু তাকে ফোন করেন যে, বেসরকারি বারিন্দ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ভাষাসৈনিক আবুল হোসেনকে রামেক হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। খবর পাওয়ার পর চিকিৎসক প্রস্তুত থাকেন। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছার আগেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

ডা. বিল্লাল উদ্দিন জানান, পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন- ভাষাসৈনিক আবুল হোসেন শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। তার বুকেও ব্যথা ছিল। এছাড়া বার্ধক্যজনিত অন্যান্য সমস্যাও ছিল। গত ৯ ফেব্রুয়ারি তাকে করোনাভাইরাসের টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছিল। অসুস্থ হওয়ার পর তার করোনা পরীক্ষা করা হয়নি।

ভাষাসৈনিক আবুল হোসেন বায়ান্নর মহান ভাষা আন্দোলনে রাজশাহীতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। বায়ান্ন পরবর্তী প্রগতিশীল সব আন্দোলন-সংগ্রামের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা ছিল তার। শারীরিক অসুস্থতা নিয়েও কিছুদিন আগে তিনি রাজশাহীতে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার নির্মাণের দাবিতে রাস্তায় নেমেছিলেন।

গত ১৬ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানেও আবুল হোসেন উপস্থিত হয়েছিলেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের রাজশাহীর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। গত ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে রাজশাহীর জেলা প্রশাসক আবদুল জলিল ভাষাসৈনিক আবুল হোসেনের বাসায় গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে উপহার দিয়ে আসেন।

ভাষাসৈনিক আবুল হোসেন মৃত্যুকালে দুই ছেলে, এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার স্ত্রী আগেই মারা গেছেন।

আবুল হোসেনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। তিনি আবুল হোসেনের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেছেন।

পাশাপাশি শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে লিটন বলেন, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে ভাষাসৈনিক আবুল হোসেনের যে অবদান তা জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

এছাড়া আবুল হোসেনের মৃত্যুতে রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের (আরইউজে) সভাপতি রফিকুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক তানজিমুল হক গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন।

রামেকে পৌঁছার আগেই মারা গেলেন ভাষাসৈনিক আবুল হোসেন

 রাজশাহী ব্যুরো 
৩১ মার্চ ২০২১, ০৯:২৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

রাজশাহীর ভাষাসৈনিক আবুল হোসেন আর নেই। বুধবার বিকাল ৪টার দিকে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি...রাজিউন)। একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে রামেক হাসপাতালে নেয়ার সময় তিনি মারা যান।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। রাজশাহী নগরীর মঠপুকুর শান্তিবাগ এলাকার বাসিন্দা ছিলেন তিনি।

পরিবারের সদস্যরা বুধবার বিকাল ৪টার দিকে আবুল হোসেনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। এ সময় জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক বিল্লাল উদ্দিন তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী বলেন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র-১ সরিফুল ইসলাম বাবু তাকে ফোন করেন যে, বেসরকারি বারিন্দ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ভাষাসৈনিক আবুল হোসেনকে রামেক হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। খবর পাওয়ার পর চিকিৎসক প্রস্তুত থাকেন। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছার আগেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

ডা. বিল্লাল উদ্দিন জানান, পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন- ভাষাসৈনিক আবুল হোসেন শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। তার বুকেও ব্যথা ছিল। এছাড়া বার্ধক্যজনিত অন্যান্য সমস্যাও ছিল। গত ৯ ফেব্রুয়ারি তাকে করোনাভাইরাসের টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছিল। অসুস্থ হওয়ার পর তার করোনা পরীক্ষা করা হয়নি।

ভাষাসৈনিক আবুল হোসেন বায়ান্নর মহান ভাষা আন্দোলনে রাজশাহীতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। বায়ান্ন পরবর্তী প্রগতিশীল সব আন্দোলন-সংগ্রামের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা ছিল তার। শারীরিক অসুস্থতা নিয়েও কিছুদিন আগে তিনি রাজশাহীতে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার নির্মাণের দাবিতে রাস্তায় নেমেছিলেন।

গত ১৬ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানেও আবুল হোসেন উপস্থিত হয়েছিলেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের রাজশাহীর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। গত ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে রাজশাহীর জেলা প্রশাসক আবদুল জলিল ভাষাসৈনিক আবুল হোসেনের বাসায় গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে উপহার দিয়ে আসেন।

ভাষাসৈনিক আবুল হোসেন মৃত্যুকালে দুই ছেলে, এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার স্ত্রী আগেই মারা গেছেন।

আবুল হোসেনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। তিনি আবুল হোসেনের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেছেন।

পাশাপাশি শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে লিটন বলেন, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে ভাষাসৈনিক আবুল হোসেনের যে অবদান তা জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

এছাড়া আবুল হোসেনের মৃত্যুতে রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের (আরইউজে) সভাপতি রফিকুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক তানজিমুল হক গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন