মামুনুলের সাত দিনের রিমান্ড চাইবে পুলিশ
jugantor
মামুনুলের সাত দিনের রিমান্ড চাইবে পুলিশ

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

১৮ এপ্রিল ২০২১, ২১:৩১:১২  |  অনলাইন সংস্করণ

মামুনুল হক

কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার বেলা ১টার দিকে তাকে মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০২০ সালে মোহাম্মদপুর থানার একটি নাশকতা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের মোহাম্মদপুর জোনের এডিসি মৃত্যুঞ্জয় দে সজল যুগান্তরকে জানিয়েছেন, মামুনুল হককে বর্তমানে তেজগাঁও মডেল থানায় রাখা হয়েছে। সোমবার তাকে আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড চাওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ৩ এপ্রিল সোনারগাঁয়ের রয়েল রিসোর্টকাণ্ডের পর থেকেই মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসায় অবস্থান করছিলেন মামুনুল হক। ঘটনার পর থেকেই পুলিশ তাকে নজরদারির মধ্যে রেখেছিল।

পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তেজগাঁও বিভাগের ডিসি হারুন অর রশীদের নেতৃত্বে অন্য কর্মকর্তারা সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে প্রথমে ওই মাদ্রাসা ঘিরে ফেলে। এ সময় মাদ্রাসার ভেতরে দেড় শতাধিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী অবস্থান করছিলেন। পুলিশের অভিযানে প্রথমে তারা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও অতিরিক্ত পুলিশ দেখে হাল ছেড়ে দেন। পরে মামুনুল হককে দোতলার একটি কক্ষ থেকে নামিয়ে নিয়ে মাইক্রোবাসে তোলা হয়। প্রথমে তাকে পুলিশের তেজগাঁও ডিভিশনের ডিসি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে তেজগাঁও মডেল থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। রাতে তেজগাঁও থানায়ই রাখা হবে মামুনুল হককে।

রোববার মামুনুল হককে গ্রেফতারের পর নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের ডিসি হারুন অর রশিদ। তিনি বলেন, সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে মামুনুল হককে গ্রেফতার করা হয়েছে। বেশ কিছুদিন ধরে সারা দেশে হেফাজতের তাণ্ডব দেখেছেন। সরকারি স্থাপনাসহ থানায় হামলা ও ভাংচুর করা হয়। এছাড়া আমাদের মোহাম্মদপুর থানায়ও একটি ভাংচুরের মামলা ছিল। আমরা মোহাম্মদপুর থানায় করা মামলাটির তদন্ত করছিলাম। আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে, এ মামলার সঙ্গে তিনি জড়িত। ওই ঘটনা মামুনুল হক জানেন এবং তিনি স্বীকারও করেছেন।

ডিসি আরও বলেন, পল্টন থানাসহ সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে নাশকতা ও ভাংচুরের ঘটনায় মামুনুল হকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অধিকাংশ মামলায় মামুনুল হককে আসামি করা হয়েছে। তিনি উস্কানিমূলক বক্তব্যও দিয়েছেন। তার বক্তব্যে অনুপ্রাণিত হয়ে অনেকে হামলা করেছে। এসব ঘটনার পরে আমরা তাকে নজরদারিতে রেখেছিলাম। এখন সব ঘটনার অভিযোগের ব্যাপারে ও আমাদের মোহাম্মদপুর থানায় মামলার ব্যাপারে সুস্পষ্টভাবে তার বিরুদ্ধে প্রমাণ পেয়েছি। তার বিরুদ্ধে যেসব মামলা হয়েছে, সেসব মামলায়ও তাকে গ্রেফতার দেখানো হবে।

হারুন অর রশীদ আরও বলেন, মোহাম্মদপুরের মামলাটি হয়েছিল ২০২০ সালে। সেই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মামুনুল। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে সারা দেশে হেফাজতের তাণ্ডবের ঘটনায় তার জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে। সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে মামুনুল হককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সম্প্রতি ঘটা কয়েকটি নাশকতার মামলা এবং রিসোর্টকাণ্ডে দায়ের করা মামলায়ও তাকে গ্রেফতার দেখানো হবে।

পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, মামুনুল হকের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতের তাণ্ডবের ঘটনায় দায়ের হওয়া একাধিক মামলা রয়েছে। এছাড়া সাম্প্রতিক মোদিবিরোধী আন্দোলনের সময়ও সহিংসতা করায় একাধিক মামলায় মামুনুল হকের নাম রয়েছে। প্রথমে তাকে পুরনো মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হবে। পরে একে একে সব মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তার রিমান্ড চাওয়া হবে।

মামুনুলের সাত দিনের রিমান্ড চাইবে পুলিশ

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
১৮ এপ্রিল ২০২১, ০৯:৩১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
মামুনুল হক
মামুনুল হক। ছবি: স্টার মেইল

কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার বেলা ১টার দিকে তাকে মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০২০ সালে মোহাম্মদপুর থানার একটি নাশকতা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের মোহাম্মদপুর জোনের এডিসি মৃত্যুঞ্জয় দে সজল যুগান্তরকে জানিয়েছেন, মামুনুল হককে বর্তমানে তেজগাঁও মডেল থানায় রাখা হয়েছে। সোমবার তাকে আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড চাওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ৩ এপ্রিল সোনারগাঁয়ের রয়েল রিসোর্টকাণ্ডের পর থেকেই মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসায় অবস্থান করছিলেন মামুনুল হক। ঘটনার পর থেকেই পুলিশ তাকে নজরদারির মধ্যে রেখেছিল।

পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তেজগাঁও বিভাগের ডিসি হারুন অর রশীদের নেতৃত্বে অন্য কর্মকর্তারা সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে প্রথমে ওই মাদ্রাসা ঘিরে ফেলে। এ সময় মাদ্রাসার ভেতরে দেড় শতাধিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী অবস্থান করছিলেন। পুলিশের অভিযানে প্রথমে তারা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও অতিরিক্ত পুলিশ দেখে হাল ছেড়ে দেন। পরে মামুনুল হককে দোতলার একটি কক্ষ থেকে নামিয়ে নিয়ে মাইক্রোবাসে তোলা হয়। প্রথমে তাকে পুলিশের তেজগাঁও ডিভিশনের ডিসি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে তেজগাঁও মডেল থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। রাতে তেজগাঁও থানায়ই রাখা হবে মামুনুল হককে।

রোববার মামুনুল হককে গ্রেফতারের পর নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের ডিসি হারুন অর রশিদ। তিনি বলেন, সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে মামুনুল হককে গ্রেফতার করা হয়েছে। বেশ কিছুদিন ধরে সারা দেশে হেফাজতের তাণ্ডব দেখেছেন। সরকারি স্থাপনাসহ থানায় হামলা ও ভাংচুর করা হয়। এছাড়া আমাদের মোহাম্মদপুর থানায়ও একটি ভাংচুরের মামলা ছিল। আমরা মোহাম্মদপুর থানায় করা মামলাটির তদন্ত করছিলাম। আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে, এ মামলার সঙ্গে তিনি জড়িত। ওই ঘটনা মামুনুল হক জানেন এবং তিনি স্বীকারও করেছেন।

ডিসি আরও বলেন, পল্টন থানাসহ সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে নাশকতা ও ভাংচুরের ঘটনায় মামুনুল হকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অধিকাংশ মামলায় মামুনুল হককে আসামি করা হয়েছে। তিনি উস্কানিমূলক বক্তব্যও দিয়েছেন। তার বক্তব্যে অনুপ্রাণিত হয়ে অনেকে হামলা করেছে। এসব ঘটনার পরে আমরা তাকে নজরদারিতে রেখেছিলাম। এখন সব ঘটনার অভিযোগের ব্যাপারে ও আমাদের মোহাম্মদপুর থানায় মামলার ব্যাপারে সুস্পষ্টভাবে তার বিরুদ্ধে প্রমাণ পেয়েছি। তার বিরুদ্ধে যেসব মামলা হয়েছে, সেসব মামলায়ও তাকে গ্রেফতার দেখানো হবে।

হারুন অর রশীদ আরও বলেন, মোহাম্মদপুরের মামলাটি হয়েছিল ২০২০ সালে। সেই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মামুনুল। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে সারা দেশে হেফাজতের তাণ্ডবের ঘটনায় তার জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে। সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে মামুনুল হককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সম্প্রতি ঘটা কয়েকটি নাশকতার মামলা এবং রিসোর্টকাণ্ডে দায়ের করা মামলায়ও তাকে গ্রেফতার দেখানো হবে।

পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, মামুনুল হকের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতের তাণ্ডবের ঘটনায় দায়ের হওয়া একাধিক মামলা রয়েছে। এছাড়া সাম্প্রতিক মোদিবিরোধী আন্দোলনের সময়ও সহিংসতা করায় একাধিক মামলায় মামুনুল হকের নাম রয়েছে। প্রথমে তাকে পুরনো মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হবে। পরে একে একে সব মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তার রিমান্ড চাওয়া হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন