ফোনে কাকে মুখ খুলতে বাধ্য হব বলে হুমকি দিয়েছিলেন মুছা?
jugantor
ফোনে কাকে মুখ খুলতে বাধ্য হব বলে হুমকি দিয়েছিলেন মুছা?

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

১৪ মে ২০২১, ০০:৩৮:০৫  |  অনলাইন সংস্করণ

২০১৬ সালের ৫ জুন চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড়ে ছেলেকে স্কুল বাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় খুন হন সাবেক এসপি বাবুল আকতার স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু।

সিসিটিভি ভিডিওফুটেজ সংগ্রহ করে বাবুল আকাতারের ঘনিষ্ঠ ‘সোর্স’ কামরুল ইসলাম শিকদার মুছাকে (৪০) চিহ্নিত করে পুলিশ।

মিতু হত্যার ১৭ দিন পর ‘পলাতক’ হয়ে যান মুছা। এই পাঁচ বছরেও পরিবারের কাছে ফেরেননি তিনি।

সম্প্রতি চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের রহস্যের জট খুলেছে। প্রধান আসামি হয়েছেন এই হত্যাকাণ্ডের প্রথম মামলার বাদী বাবুল আকতারই। দ্বিতীয় আসামি হচ্ছেন মো. কামরুল ইসলাম সিকদার ওরফে মুছা।

প্রশ্ন উঠেছে, মুছা এখন কোথায়? পুলিশের খাতায় মুছা ৫ বছর ধরে ‘পলাতক’। আর মুছার স্ত্রীর পান্নার অভিযোগ, ৫ বছর আগে তার স্বামীকে ‘তুলে নিয়ে যায়’ পুলিশ। এরপর আর ফিরে আসেননি তিনি।

পান্নার দাবি, মিতু হত্যাকাণ্ডের তিন দিন পর আদালতে আত্মসমর্পন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল মুসা। ২২ জুন আদালতে যাবেন বলেও জানান। কিন্তু ওইদিন সকাল সাড়ে ৬টায় পুলিশ এসে মুছাকে তুলে নিয়ে যায়।

পান্না বলেন, পুলিশ তুলে নিয়ে যাবার আগে মুছা ফোনে কাকে যেন বলছিলেন, ‘আমি সমস্যায় পড়ে গেছি। আপনার কথায় বিশ্বাস করে কাজ করেছি। আমার পরিবারের কিছু হলে মুখ খুলতে বাধ্য হব স্যার’।

পান্নার এই বক্তব্যে মিতু হত্যাকাণ্ডে আরো এক রহস্য ঘনীভূত হয়েছে। মুছাকে সেদিন পুলিশের পোশাকে কারা তুলে নিয়ে গিয়েছিল? ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় কাকে ফোনে স্যার সম্বোধন করে মুখ খুলতে বাধ্য হবেন বলে হুমকি দিয়েছিলেন তিনি?

মূলত তৎকালীন পুলিশের উপ পরিদর্শকের দায়িত্বে ছিলেন বাবুল আকতার। মুছা ছিলেন বাবুলের সোর্স। তিনি বাবুলকে স্যার বলেই সম্বোধন করতেন।

এদিকে পুলিশের দাবি, ঘটনার পর মুছাকে আর পাওয়া যায়নি। তাকে ধরা যায়নি। বরং তার দেশত্যাগ ঠেকাতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে বিমান ও স্থলবন্দরে বার্তা দেওয়া হয়েছে। যে নির্দেশ এখনও অপরিবর্তনীয়।

এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন এখন, মুছা কোথায়? তিনি পলাতক নাকি গুম হয়েছেন?

এর জবাব মামলার তদন্তকারী সংস্থা পিবিআইয়ের কাছেও নেই আপাতত।

এ বিষয় তদন্ত কর্মকর্তা সন্তোষ কুমার চাকমা বলেছেন, ‘মুছার সন্ধান পাওয়ার বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি আমরা। তাকে পাওয়া গেলে অনেক কিছু খোলাসা হয়ে যাবে। যত দ্রুত সম্ভব তাকে গ্রেফতার করা হবে।’

যদিও মুছাকে পুলিশই ধরে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ তার স্ত্রী পান্নার।

বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমকে পান্না বলেন, মিতু হত্যাকাণ্ডের পর আমার স্বামীকে পুলিশ তুলে নিয়ে গিয়েছিল। এটাই সত্য কথা। আমার সামনেই নিয়ে গেছে। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ নেই, অথচ পুলিশের হিসাবে সে এখনো ‘পলাতক’। আমার স্বামী যদি অপরাধ করে থাকে তাহলে তাকে ধরা হোক, বিচার করা হোক। কিন্তু তার কোনো খোঁজ নেই। বাবুল আক্তারকে যদি এতদিন পরে এ ঘটনায় গ্রেপ্তার করা যায়, তাহলে আমার স্বামীর কেন খোঁজ পাব না?

এতোদিন ধরে স্বামীর খোঁজে পুলিশের কাছে কেন যাননি পান্না?

জবাবে তিনি বলেন, এতদিন পরিবার, সন্তান এবং প্রশাসনের চাপে হয়রানির ভয়ে কিছু বলিনি। কিন্তু সম্প্রতি বাবুল আকতার গ্রেফতার হওয়ায় বিষয়টি সামনে আনলাম। তিনি গ্রেফতার হলে, মামলার দ্বিতীয় আসামি মুছা কোথায়? তার সন্ধান চাই।

পান্না বলেন, মিতু হত্যাকাণ্ডের দিন সকালে মুছা আমাদের সঙ্গে বাকলিয়া এলাকার কালামিয়া বাজারের বাসাতেই ছিলেন। তিন দিন পর রাঙ্গুনিয়ার বাড়িতে চলে যাই আমরা। সেখান থেকে জানতে পারি, কালামিয়া বাজারের বাসায় মুছার খোঁজে পুলিশ অভিযান চালিয়েছে। সে কারণে আমরা নগরীর কাঠগড় এলাকায় আত্মীয়ের বাসায় উঠি। ২২ জুন আদালতে যাবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মুছা। কিন্তু ওইদিনই ওই বাসা থেকে তাকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ।

পান্না দাবি করেন, তার স্বামী মুছা, বাবুল আকতারের বড় সোর্স। ২০০৩ সালে পুলিশ কর্মকর্তা বাবুলের সাথে পরিচয় হয় মুছার। এরপর থেকে দুজনের মধ্যে সখ্য গড়ে ওঠে। বাবুলের ‘সোর্স’ হিসেবে কাজ শুরু করে মুছা।

ফোনে কাকে মুখ খুলতে বাধ্য হব বলে হুমকি দিয়েছিলেন মুছা?

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
১৪ মে ২০২১, ১২:৩৮ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

২০১৬ সালের ৫ জুন চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড়ে ছেলেকে স্কুল বাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় খুন হন সাবেক এসপি বাবুল আকতার স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু।

সিসিটিভি ভিডিওফুটেজ সংগ্রহ করে বাবুল আকাতারের ঘনিষ্ঠ ‘সোর্স’ কামরুল ইসলাম শিকদার মুছাকে (৪০) চিহ্নিত করে পুলিশ। 

মিতু হত্যার ১৭ দিন পর ‘পলাতক’ হয়ে যান মুছা। এই পাঁচ বছরেও পরিবারের কাছে ফেরেননি তিনি।

সম্প্রতি চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের রহস্যের জট খুলেছে। প্রধান আসামি হয়েছেন এই হত্যাকাণ্ডের প্রথম মামলার বাদী বাবুল আকতারই। দ্বিতীয় আসামি হচ্ছেন মো. কামরুল ইসলাম সিকদার ওরফে মুছা।

প্রশ্ন উঠেছে, মুছা এখন কোথায়? পুলিশের খাতায় মুছা ৫ বছর ধরে ‘পলাতক’। আর মুছার স্ত্রীর পান্নার অভিযোগ, ৫ বছর আগে তার স্বামীকে ‘তুলে নিয়ে যায়’ পুলিশ। এরপর আর ফিরে আসেননি তিনি।

পান্নার দাবি, মিতু হত্যাকাণ্ডের তিন দিন পর আদালতে আত্মসমর্পন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল মুসা। ২২ জুন আদালতে যাবেন বলেও জানান। কিন্তু ওইদিন সকাল সাড়ে ৬টায় পুলিশ এসে মুছাকে তুলে নিয়ে যায়। 

পান্না বলেন, পুলিশ তুলে নিয়ে যাবার আগে মুছা ফোনে কাকে যেন বলছিলেন, ‘আমি সমস্যায় পড়ে গেছি। আপনার কথায় বিশ্বাস করে কাজ করেছি। আমার পরিবারের কিছু হলে মুখ খুলতে বাধ্য হব স্যার’।

পান্নার এই বক্তব্যে  মিতু হত্যাকাণ্ডে আরো এক রহস্য ঘনীভূত হয়েছে। মুছাকে সেদিন পুলিশের পোশাকে কারা তুলে নিয়ে গিয়েছিল? ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় কাকে ফোনে স্যার সম্বোধন করে মুখ খুলতে বাধ্য হবেন বলে হুমকি দিয়েছিলেন তিনি?

মূলত তৎকালীন পুলিশের উপ পরিদর্শকের দায়িত্বে ছিলেন বাবুল আকতার। মুছা ছিলেন বাবুলের সোর্স। তিনি বাবুলকে স্যার বলেই সম্বোধন করতেন।

এদিকে পুলিশের দাবি, ঘটনার পর মুছাকে আর পাওয়া যায়নি। তাকে ধরা যায়নি। বরং তার দেশত্যাগ ঠেকাতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে বিমান ও স্থলবন্দরে বার্তা দেওয়া হয়েছে। যে নির্দেশ এখনও অপরিবর্তনীয়।

এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন এখন, মুছা কোথায়? তিনি  পলাতক নাকি গুম হয়েছেন?

এর জবাব মামলার তদন্তকারী সংস্থা পিবিআইয়ের কাছেও নেই আপাতত।

এ বিষয় তদন্ত কর্মকর্তা সন্তোষ কুমার চাকমা বলেছেন,  ‘মুছার সন্ধান পাওয়ার বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি আমরা। তাকে পাওয়া গেলে অনেক কিছু খোলাসা হয়ে যাবে। যত দ্রুত সম্ভব তাকে গ্রেফতার করা হবে।’

যদিও মুছাকে পুলিশই ধরে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ তার স্ত্রী পান্নার।

বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমকে পান্না বলেন, মিতু হত্যাকাণ্ডের পর আমার স্বামীকে পুলিশ তুলে নিয়ে গিয়েছিল। এটাই সত্য কথা। আমার সামনেই নিয়ে গেছে। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ নেই, অথচ পুলিশের হিসাবে সে এখনো ‘পলাতক’। আমার স্বামী যদি অপরাধ করে থাকে তাহলে তাকে ধরা হোক, বিচার করা হোক। কিন্তু তার কোনো খোঁজ নেই। বাবুল আক্তারকে যদি এতদিন পরে এ ঘটনায় গ্রেপ্তার করা যায়, তাহলে আমার স্বামীর কেন খোঁজ পাব না? 

এতোদিন ধরে স্বামীর খোঁজে পুলিশের কাছে কেন যাননি পান্না?

জবাবে তিনি বলেন,  এতদিন পরিবার, সন্তান এবং প্রশাসনের চাপে হয়রানির ভয়ে কিছু বলিনি। কিন্তু সম্প্রতি বাবুল আকতার গ্রেফতার হওয়ায় বিষয়টি সামনে আনলাম। তিনি গ্রেফতার হলে, মামলার দ্বিতীয় আসামি মুছা কোথায়? তার সন্ধান চাই।

পান্না বলেন, মিতু হত্যাকাণ্ডের দিন সকালে মুছা আমাদের সঙ্গে বাকলিয়া এলাকার কালামিয়া বাজারের বাসাতেই ছিলেন। তিন দিন পর রাঙ্গুনিয়ার বাড়িতে চলে যাই আমরা। সেখান থেকে জানতে পারি, কালামিয়া বাজারের বাসায় মুছার খোঁজে পুলিশ অভিযান চালিয়েছে। সে কারণে আমরা নগরীর কাঠগড় এলাকায় আত্মীয়ের বাসায় উঠি।  ২২ জুন আদালতে যাবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মুছা। কিন্তু ওইদিনই ওই বাসা থেকে তাকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ।

পান্না দাবি করেন, তার স্বামী মুছা, বাবুল আকতারের বড় সোর্স। ২০০৩ সালে পুলিশ কর্মকর্তা বাবুলের সাথে পরিচয় হয় মুছার। এরপর থেকে দুজনের মধ্যে সখ্য গড়ে ওঠে। বাবুলের ‘সোর্স’ হিসেবে কাজ শুরু করে মুছা। 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : মিতু হত্যার নতুন মোড়